নয়াদিল্লি: পিরিয়ড বা ঋতুচক্র মহিলাদের কোনও রোগ বা সমস্যা নয়, তাই তা নিয়ে লজ্জা থাকার কথাও নয়। অথচ প্রকৃতির এই নিয়মকে নিয়েও ভারতীয়দের মধ্যে রয়েছে ‘ট্যাবু’ বা স্টিগমা। এই বিষয়টাকে ‘লজ্জার’ বলেই বারবার চিহ্নিত করা হয়েছে পুরুষতান্ত্রিক সমাজে। এবার সেই ধারণা ভাঙতেই বিশেষ উদ্যোগ নিল ভারতের জনপ্রিয় ফুড ডেলিভারি সংস্থা ‘জোমাটো।’

আগেও একাধিক ভারতীয় সংস্থা পিরিয়ড লিভ বা ঋতুচক্রের সময় ছুটি দেওয়ার রীতি চালু করে। কারণ এই সময় মহিলারা শারীরিকভাবে দুর্বল থাকেন। যদিও েই ছুটি নিয়েও প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন অনেকে। প্রশ্ন উঠেছিল, মহিলাদের সমান অধিকার নিয়ে যখন কথা হচ্ছে, তখন এই ধরনের ছুটি মহিলাদের দুর্বলতাকে ইঙ্গিত করছে।

বিতর্ক থাকবেই। তবে ‘জোমাটো’ এবার চালু করল মহিলাদের জন্য পিরিয়ডস লিভ। ১০ দিন পর্যন্ত সেই ছুটি নেওয়া যেতে পারে। এই বিষয়টা নিয়ে যে কোনও লুকোছাপা থাকা উচিৎ নয়, তা প্রমাণ করতেই নাকি এমন সিদ্ধান্ত এই সংস্থার।

জোমাটো-র চিফ এক্সিকিউটিভ দীপেন্দর গোয়েল শনিবার কর্মীদের একটি ইমেল করেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘পিরিয়ড লিভের জন্য আবেদন জানাতে কোনও লজ্জা থাকা উচিৎ নয়। মহিলারা যেন সহকর্মীদের সহজেই বলতে পারেন যে তাঁরা পিরিয়ড লিভে আছে। ইমেলেও স্পষ্ট জানাতে পারেন যে সেদিন তিনি পিরিয়ড লিভ চাইছেন।

২০০৮-এ তৈরি হওয়া গুরুগ্রামের এই সংস্থা ইতিমধ্যেই যথেষ্ট জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ৫০০০ কর্মী কাজ করেন এই সংস্থায়।

উল্লেখ্য, ভারতে আজও ঋতুচক্র নিয়ে লজ্জা রয়েছে মহিলাদের। যার জন্য তাঁদের শারীরিক সমস্যা হলেও তাঁরা চিকিৎসকের কাছে যেতে লজ্জা পান। প্রত্যন্ত অঞ্চলে এরকম সমস্যার জন্যই অনেক মহিলার মৃত্যু পর্যন্ত হয়, অথচ আত্মীয়দের বা ডাক্তারদের সমস্যার কথা বলতে পারেন না তাঁরা।

বছর খানেক আগে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ দেয় সবরীমালা মন্দিরের বিশেষ রীতি নিয়ে। এই মন্দিরে ঋতুমতী মহিলাদের প্রবেশ করার অধিকার ছিল না। যা নিয়ে বিপ্লব হয়েছে অনেক। মনে করা হত, ঋুতুমতী মহিলারা প্রবেশ করতে নাকি অশুচূী হবেন দেবতা।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে মহিলাদের সবরীমালায় প্রবেশের অধিকার দেওয়া হলেও, তারপরেও হয়েছে অনেক সমস্যা। বারবার আটকে দেওয়া হয়েছে মহিলাদের।

পপ্রশ্ন অনেক: নবম পর্ব

Tree-bute: আমফানের তাণ্ডবের পর কলকাতা শহরে শতাধিক গাছ বাঁচাল যারা