কলকাতা: মাঝে মধ্যেই শোনা যায়, সুইপার কিংবা গ্রুপ ডি-র চাকরির জন্য আবেদন জানান লক্ষ লক্ষ ছেলেমেয়ে, যাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা অনেকটাই বেশি। যে চাকরিতে অষ্টম শ্রেণি পাশ হলেই চলে যায়, সেখানে আবেদন করেন স্নাতক কিংবা স্নাতকোত্তর করা ছাত্রছাত্রীরা। যেখান থেকে দেশের বেকারত্বের ছবিটা খুব স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

এবার খাস কলকাতায় চোখে পড়ল সেরকমই এক ঘটনা। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেক স্নাতকোত্তর পাশ করে ‘ডেলিভারি বয়ে’র কাজ করছেন মীরজ। কোনও কাজই হয়ত ছোট নয়। তবে নামজাদা ইউনিভার্সিটি থেকে এম কমের তকমা নিয়েও একজনকে দরজায় দরজায় খাবারের প্যাকেট পৌঁছে দিতে হবে, সেটা খুব একটা কাম্য নয়।

ঘটনাটি চোখে পড়েছে কলকাতার শৌভিক দত্তের। তিনিই মীরজের যোগ্যতা স্ক্রিনশট দিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন। এরপরই ছবিটা ছড়িয়ে পড়ে ইন্টারনেটে। অনেকেই একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথাও শেয়ার করে নেন।

অনলাইনে ‘জোমাটো’ থেকে খাবার অর্ডার করেছিলেন শৌভিক। তিনি দেখেন, যে ব্যক্তি তাঁকে খাবার পৌঁছে দিতে আসবেন সেই ‘ডেলিভারি বয়’ বাণিজ্য বিভাগের স্নাতকোত্তর। স্বাভাবিকভাবেই চমকে যান তিনি। কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর দরজায় পৌঁছে যান মীরজ। খাবারটা এগিয়ে দিয়ে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে বলেন, ‘রেটিংটা একটু দিয়ে দেবেন স্যার’। শুনে লজ্জায় মাথা হেঁট হয়ে আসে শৌভিকের।

এরপর মীরজের সঙ্গে কথাও বলেন শৌভিক। জানতে পারেন, শুধু স্নাতকোত্তর নয়। তিনি ফাইন্যান্স বা ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিং বিষয়ে পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ডিপ্লোমাও করেছেন।

তিনি তাঁর পোস্টে লিখেছেন, “এই দেশের এখন পরিবর্তন প্রয়োজন, এই রাজ্যের এখন পরিবর্তন প্রয়োজন। চাকরির সংস্থান তৈরি করা প্রয়োজন, আমরা কঠিন সময়ের মধ্যে বাস করছি, দেশকে বদলাতে হবেই।”

শুধু শৌভিক নয়, দেশের বিভিন্ন জায়গায় এই ধরনের অভিজ্ঞতা হয়েছে অনেকেরই। ওড়িশা থেকে আরও একজন স্ক্রিনশট দিয়ে দেখান, তাঁর ডেলিভারি বয় ছিলেন একজন ইঞ্জিনিয়ার। চাকরি না পেয়ে এই কাজ করতে হচ্ছে তাঁকে। এমনকি বেঙ্গালুরুর মত শহরেও একই ছবি। সায়ন চক্রবর্তী নামে এক ব্যক্তি ফেসবুকে পোস্ট করে দেখিয়েছেন, বেঙ্গালুরুতে সতীশ কুমার নামে এক ডেলিভারি বয়ের যোগ্যতা পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন।