মাদ্রিদ: তিনটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, একটি লা-লিগা সহ কোচিং জমানার প্রথম অধ্যায়ে রিয়াল মাদ্রিদকে ৭টি ট্রফি দিয়েছিলেন তিনি। ২০১৯ খারাপ সময়ে মরশুমের মাঝপথে ম্যানেজার হিসেবে দ্বিতীয়বার লস-ব্ল্যাঙ্কোসদের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন জিনেদিন জিদান। গত বছরের হতাশা ভুলে চলতি মরশুমে জিদানের প্রশিক্ষণে ফের চ্যাম্পিয়নশিপের দৌড়ে বেঞ্জেমারা। রবিবারও অ্যাওয়ে ম্যাচে ওসাসুনাকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিল রিয়াল মাদ্রিদ। আর এই জয়ের সঙ্গে সঙ্গে রিয়ালের ম্যানেজার হিসেবে প্রাক্তন ম্যানেজার জোস মোরিনহোকে টপকে গেলেন জিজু।

লা-লিগায় জয়ের নিরিখে রিয়ালের সফলতম কোচের তালিকায় নিজেকে তৃতীয়স্থানে নিয়ে এলেন ফরাসি কিংবদন্তি। রিয়ালের ম্যানেজার হিসেবে এদিন লা-লিগায় ৮৮তম জয় পেলেন জিদান। টপকে গেলেন পূর্বসূরী জোস মোরিনহোকে। জিদানের সামনে এখন শুধুই মিগুয়েল মুনোজ ও ভিসেন্তে দেল বস্ক।

তবে অ্যাওয়ে ম্যাচে এদিন শুরুতে পরিকল্পনায় হোঁচট খায় লস-ব্ল্যাঙ্কোসরা। ১৪ মিনিটে গোল করে ওসাসুনাকে ঘরের মাঠে এগিয়ে দেন উনাই গার্সিয়া। ৩৩ মিনিটে লিগে মরশুমের প্রথম গোল করে দলকে সমতায় ফেরান ইস্কো। বিরতির আগেই লুকা মদ্রিচের কর্নারে মাথা ছুঁইয়ে দলকে এগিয়ে দেন অধিনায়ক সার্জিও রামোস। এদিন রিয়াল মাদ্রিদের জার্সি গায়ে ৪৪০তম ম্যাচ খেললেন রামোস। টপকে গেলেন ফার্নান্দো হিয়েরোকে। মাদ্রিদের ক্লাবের হয়ে সর্বাধিক ম্যাচ খেলার নিরিখে স্প্যানিশ ডিফেন্ডার এখন পঞ্চমস্থানে।

দ্বিতীয়ার্ধের শেষদিকে জোড়া গোলে রিয়ালের হয়ে ব্যবধান বাড়ান পরিবর্ত লুকাস ভ্যাসকুয়েজ ও লুকা জোভিচ। ৮৪ মিনিটে গোলটা চাইলে নিজের নামে করতেই পারতেন বেঞ্জেমা। কিন্তু নিঃস্বার্থ পাসে ভ্যাসকুয়েজকে দিয়ে গোল করান ফরাসি স্ট্রাইকার। অতিরিক্ত সময়ে বক্সের মধ্যে দর্শনীয় হাফভলিতে ব্যবধান ৪-১ করেন জোভিচ। চলতি লা-লিগায় এটি তার দ্বিতীয় গোল। এই জয়ের ফলে ২৩ ম্যাচে ৫২ পয়েন্ট সংগ্রহ করে লিগ শীর্ষে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখল জিদানের ছেলেরা।

লিগের অন্য ম্যাচে রিয়াল বেটিসের বিরুদ্ধে উত্তেজক জয় পেল বার্সেলোনা। কোপা দেল রে কোয়ার্টারে অ্যাথলেটিকো বিলবাও’য়ের কাছে হারের পর বেটিসের বিরুদ্ধেও এদিন শুরুতে পিছিয়ে পড়ে কাতালান ক্লাবটি। পুরনো ক্লাবের বিরুদ্ধে বার্সেলোনা ম্যানেজার হিসেবে প্রথমবার ডাগ-আউটে বসেছিলেন কিকে সেতিয়েন। ৬ মিনিটে স্পটকিক থেকে বেটিসকে এগিয়ে দেন ক্যানালেস। সেই গোল স্থায়ী হয় মাত্র তিন মিনিট।

৯ মিনিটে সমতাসূচক গোলের ক্ষেত্রে দুরন্ত প্রত্যুৎপন্নমতিত্বের পরিচয় দেন ডি জং। ফিনিশিংয়ের ক্ষেত্রেও নিখুঁত ছিলেন ডাচ মিডফিল্ডার। তবে জং’য়ের উদ্দেশ্যে চোখজুড়ানো লং থ্রু টা এসেছিল লিও’র বাঁ-পা থেকেই। যদিও ২৬ মিনিটে বেটিসকে ফের এগিয়ে দেন নাবিল ফাকির। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময় বার্সার হয়ে ত্রাতার ভূমিকায় সেই লিও। তাঁর ফ্রি-কিক বেটিস রক্ষণ প্রথম সুযোগে ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে গোল করে যান সার্জিও বুসকেটস।

৭২ মিনিটে বার্সার জয়সূচক গোলের কারিগরও আর্জেন্তাইন সুপারস্টার। ফের একবার তাঁর ফ্রি-কিক থেকে অনবদ্য হেডে দলকে জয় এনে দেন চার্লস লেংলেট। ২৩ ম্যাচে ৪৯ পয়েন্ট নিয়ে রিয়ালের ঠিক পিছনে বার্সা।