নয়াদিল্লি: তানিষ্কের বিজ্ঞাপন নিয়ে তোলপাড়। কেন হিন্দু ঘরে মুসলিম মেয়ের বিয়ে, তা নিয়ে চোখ রাঙিয়েছেন অনেকেই। বিজ্ঞাপনই সরিয়ে দিতে হয়েছে। এমনকি তানিস্কের শোরুমে হামলা চালানো হয়েছে। এই আবহেই ভিনধর্মে বিয়ের সুখী সুখী ছবি পোস্ট করে বিতর্কে এক মুসলিম মহিলা।

জারা ফারুকি থেকে তিনি এখনও জারা পারওয়াল। সব রীতি মেনেই হিন্দু পরিবারে বিয়ে হয়েছে তাঁর। তিনি জানিয়েছেন, তিনি চার বছর ধরে ভালোই আছেন তিনি। আর তাঁর বিয়েও হয়েছিল বেশ ধুমধাম করে।

আসলে গয়না প্রস্তুতকারক সংস্থার বিজ্ঞাপন নিয়ে শুরু হওয়া হিংসার আবহে শান্তির বার্তা দিতে চেয়েছিলেন তিনি। নিজে মুসলিম হলেও হিন্দু পুরুষের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন তিনি স্বেচ্ছায়। সে কথাই সোশ্যাল মিডিয়ায় জানান দেন পুনের বাসিন্দা জারা। ট্যুইটারে তিনি শেয়ার করেছেন বর নিখিল পারওয়াল ও তাঁর বিয়ের একটি ছবি। আর সেখান থেকেই বিপত্তি। সোশ্যাল মিডিয়ায় হিংসার কবলে জারা।

জারা সেদিন ছবিটি শেয়ার করে লিখেছিলেন, “এটা সেই সব তনিষ্ক বয়কটকারীদের জন্য। আমি জারা ফারুকি এবং আমার বর নিখিল পারওয়াল। আমরা ২০১৬ সাল থেকে আনন্দেই রয়েছি। আর এটা আমাদের বিয়ের ছবি।”

এরপর থেকেই শুরু হয়েছে হুমকি। তিনি চল্লিশ হাজার হিংসাত্মক মেসেজ পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন, যেখানে তাঁকে নানা ধরনের হুমকি দেওয়া হয়েছে। ব্যঙ্গ, টিপ্পনী থেকে খুন-ধর্ষণ সবই অস্ত্র হয়েছে ওই হিংসাকারীদের।

কিছুতেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায়য় পুণে পুলিশের দ্বারস্থ হন জারা। উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করে এফআইআর করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, দিন কয়েগ আগে উত্‍সবের বিজ্ঞাপনে হিন্দু মুসলিম ঐক্যের ছবিটাই তুলে ধরতে চেয়েছিল গয়নাপ্রস্তুতকারী ওই সংস্থা। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে লাভ জিহাদ তত্ত্ব ছড়ানোর। ফুঁসে ওঠে একদল নেটাগরিক। বলা হয় ,মুসলিম বাড়িতে হিন্দু পুত্রবধূকে দেখানো নাকি বিশেষ ধর্মের প্রতি পক্ষপাতিত্ব। ভাঙচুরও চালানো হয় সংস্থার একটি কাউন্টারে। বাধ্য হয়ে বিজ্ঞাপনটি তুলে নেন ওই সংস্থা।

পচামড়াজাত পণ্যের ফ্যাশনের দুনিয়ায় উজ্জ্বল তাঁর নাম, মুখোমুখি দশভূজা তাসলিমা মিজি।