কুয়ালালামপুর: বিতর্কিত ধর্ম প্রচারক তথা পিস টিভি মালিক ড. জাকির নায়েক-কে নিয়ে ক্রমেই জটিল পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে মালয়েশিয়ায়। খোদ সরকারের অভ্যন্তরেই বাড়ছে ক্ষোভ। রবিবার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী তথা বিশ্বের প্রবীণতম দেশ শাসক ড. মাহাথির মহম্মদ জানিয়েছেন, ক্রমাগত রাজনৈতিক উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে সীমা অতিক্রম করেছেন জাকির নায়েক। প্রধানমন্ত্রী মাহাথির এর আগেও জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেন।

সম্প্রতি জাকির নায়েক মন্তব্য করেন, ভারতে সংখ্যালঘু মুসলমানদের চেয়ে মালয়েশিয়ায় থাকা সংখ্যালঘু হিন্দুরা শতগুণ বেশি অধিকার পায়। মালয়েশিয়ায় বসবাসকারী হিন্দুরা ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে সমর্থন করে বেশি।

জাকির নায়েকের এই মন্তব্যের পরেই মালয়েশিয়া সরকারের মন্ত্রীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। এবার প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির মহম্মদ জানালেন, সব সীমা লঙ্ঘন করেছেন জাকির। যদিও মালয়েশিয়ায় আশ্রয় নেওয়ার পর জাকির নায়েকের সঙ্গে মাহাথির মহম্মদের একাধিক ছবি প্রকাশিত হয়। জাকিরের দাবি, তার বক্তব্য সংবাদমাধ্যমে ভুলভাবে তুলে ধরা হয়েছে। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় নাজিব রাজ্জাক জাকির নায়েককে আশ্রয় দিয়েছিল। গত তিন বছর ধরে রয়েছেন তিনি। ইসলাম ধর্মীয় প্রবক্তা জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে উগ্র চিন্তাকে প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে ভারতে জারি আছে গ্রেফতারি পরোয়ানা। ভারত থেকে পালিয়ে প্রথমে সৌদি আরব পরে মালয়েশিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় নেন জাকির।

গোয়েন্দা রিপোর্টে বলা হয়েছে, ড. জাকির নায়েকের বক্তৃতায় উগ্র ইসলামি সংগঠন ও আইএস আল কায়েদা জঙ্গিরা অনুপ্রাণিত হয়। পরিস্থিতি যে দিকে যাচ্ছে, তাতে জাকির নায়েককে দ্রুত মালয়েশিয়া ছাড়তে হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে এই বিতর্কিত ব্যক্তি কোথায় যাবেন তা নিয়ে চলছে চর্চা। মুম্বইয়ের বাসিন্দা জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁর বক্তৃতা থেকে অনুপ্রাণিত হয় কাশ্মীরের জঙ্গিরা। উগ্র ইসলামি চিন্তা ছড়িয়ে দেন জাকির। একই অভিযোগ রয়েছে বাংলাদেশ সরকারেরও।

২০১৬ সালে ঢাকায় ভয়াবহ গুলশন হোলি আর্টিজান ক্যাফেতে জঙ্গি হামলার পর তদন্তে উঠে আসে আইএস জঙ্গিরা কীভাবে জাকির নায়েকের ভাষণে অনুপ্রাণিত হয়েছিল। তারপরেই ভারত ও বাংলাদেশে সম্প্রচার বন্ধ করা হয় পিস টিভির। জাকির নায়েক গ্রেফতারি এড়াতে প্রথমে সৌদি আরব পরে আমিরশাহী হয়ে মালয়েশিয়া চলে যান।