সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় , হাওড়া : এবার আরও জোরে দেওয়া হবে ‘জয়শ্রী রাম ধ্বনি’। তবে তার সঙ্গে আল্লাহু আকবর ধবনিও। এমনটাই জানাচ্ছে হাওড়ার বিজেপি যুব মোর্চা। গত কয়েক সপ্তাহে ‘জয় শ্রী রাম ধ্বনি’ নিয়ে একের পর এক ঘটনা ঘটে গিয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষুব্ধ হয়ে বিজেপি সমর্থকের দিকে তেড়ে গিয়েছেন। মদন মিত্রের নির্বাচনী প্রচারেও উঠেছে ‘জয় শ্রী রাম ধ্বনি’। তা নিয়েই মন্তব্য প্রকাশ করলেন ওম প্রকাশ সিংহ।

বিজেপির রাজ্যে ভালো ফল নিয়ে ওমপ্রকাশ বলেন, “আমরা খুব খুশি। বাংলার মানুষকে অনেক ধন্যবাদ।” তার সঙ্গেই আমি বলব , ” কোনও একটি জাতি নয়, সবাই নিজ নিজ ধর্মের কথা নিজের মতো জোর গলায় বলবেন , কোনও বাধা থাকবে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আল্লাহ হু আকবর বলতে পারেন। আর অন্য কেউ জয় শ্রী রাম বললেই কেন দোষ হবে? সবাই সব কতান সমান ভাবে বলবে। কারও কণ্ঠ রোধ করা যাবে না। আমি বলব এবারত থেকে রাজ্যের প্রতিটি কোনে কোনে এবার আরও জোরে জয় শ্রী রাম ধ্বনি উঠবে। উনি বুঝতে পারছেন উনি কি ভুল করেছেন।”

গত কয়েকদিনে জয় শ্রী রাম ধ্বনি নিয়ে কি পরিমানে রাজনৈতিক তরজা হয়েছে তা স্পষ্ট। ২১ মে, কলকাতা পুরসভায় ভিতরেই ওঠে জয় শ্রীরাম স্লোগান। স্ট্র্যান্ড রোডে ড্রেনেজের সমস্যা নিয়ে বলার পর ‘বন্দেমাতরম’, ‘ভারত মাতা কি জয়’ এবং ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দেন বিজেপি কাউন্সিলর মীনা দেবী পুরোহিত। শাসক তৃণমূলের তরফে এর বিরোধিতা করা হয়। স্লোগানকারী প্রশ্ন করেন ‘ভগবানের নাম নেওয়া কি অপরাধ?’

১০ মে , জয় শ্রী রাম স্লোগান দেওয়ার অপরাধে এক নাবালক সহ তিনজনকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠল দুই তৃণমূল কর্মীর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছিল মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুর থানার অন্তর্গত গোয়ালজাল ফেরিঘাট এলাকায়। খুব স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনার জেরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সমগ্র এলাকায়।

৮ মে ,তৃণমূলের রোড শো–তে উচ্চারিত হয়েছিল জয় শ্রী রাম ধ্বনি। ভাটপাড়া বিধানসভার উপনির্বাচনে কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী মদন মিত্র। তাঁর সমর্থনে রোড শো হচ্ছিল ভাটপাড়ায়। সে সময় তাঁর পাশে ছিলেন বলিউডের প্রবীণ অভিনেতা শক্তি কাপুর। তবে জয় শ্রী রাম ধ্বনি শুনে মদনকে তেমন একটা প্রতিক্রিয়া দিতে দেখা যায়নি।

৪মে খড়গপুর চন্দ্রকোনার দিকে যাচ্ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে ছিলেন তাঁর দেহরক্ষীরা। তাঁর কনভয় দেখে স্থানীয় কিছু যুবক ‘জয় শ্রী রাম” ধবনি দেয় বলে অভিযোগ ওঠে। রাম ধ্বনি কানে যাওয়ার পরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গাড়ি থামিয়ে করে নেমে পড়েন তেড়ে গিয়েছিলেন ওই যুবকদের দিকে।