স্টাফ রিপোর্টার, মালদহ: আত্মহননের পথ বেছে নিল হতাশ প্রেমিক। মিথ্যে মামলায় ফাঁসাচ্ছে প্রেমিকার বাড়ির লোকজন। শুধু তাকে নয়,ফাঁসানো হচ্ছে তার নিরপরাধ পরিবারকেও৷ এই অভিযোগ এনে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করল প্রেমিক অলক রজক। শনিবার রাতে রতুয়া থানার মহানন্দ টোলায় মাসির বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে অলক। ঘটনাটি মালদার মানিকচকের এনায়েতপুর নওয়াদা গ্রামের।

দীর্ঘ তিন বছর ধরে অলকের সঙ্গে গ্রামেরই মেয়ে মামনি বসাকের প্রেমের সম্পর্ক৷ অলক মানিকচক কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র। মামনি এনায়েতপুর হাই স্কুলের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রী৷ জানা গিয়েছে, গত 8 তারিখ অলক ও মামনি স্থানীয় একটি দুর্গা মন্দিরে বিয়ে করে৷ মামনির পরিবারের লোক মেনে নেবে না, এই ভয়ে তারা আত্মগোপন করে থাকে৷

মামনি নাবালিকা হওয়ায় মেয়ের বাড়ির লোকজন অলক ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগ দায়ের করে মানিকচক থানায়৷ পুলিশের চাপে ও মামনির বাড়ির লোকজনের হুমকিতে শেষমেষ নতি স্বীকার করতে হয় অলককে৷ মামনিকে তার বাপের বাড়িতে ফিরে আসতে হয়৷ কিন্তু তারপরেও কমেনি মামুনের বাড়ির লোকজনের চাপ ও হুমকি।

মানিকচক পুলিশের কাছে মামণির বাড়ির লোকজন অলক ও তার পরিবারের লোকজনদের গ্রেফতার করতে আবেদন জানায়৷ অভিযোগের ভিত্তিতে অলকের মাকে গ্রেফতার করে মানিকচক থানার পুলিশ। অলকের খোঁজে জোর তল্লাশি চালায় পুলিশ৷ পুলিশ ও মামনির বাড়ির লোকজনের ভয়ে রতুয়া মহানন্দ টোলা গ্রাম পঞ্চায়েতে মাসির বাড়িতে গা ঢাকা দেয় অলক৷ কিন্তু তাতেও রক্ষা হয়নি৷ অভিযোগ তার প্রেমিকার বাড়ির লোকজনের প্রাণে মেরে ফেলার হুমকির চাপে পড়ে শেষমেষ শনিবার রাতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে সে ।

আত্মহত্যার ঠিক আগে তাদের বন্ধুদের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে তার সুইসাইড নোট সে শেয়ার করে৷ সুইসাইড নোটে অলক তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে তার প্রেমিকা মামনি বসাক, প্রেমিকার বাবা অরূপ বসাক ও প্রেমিকার মা কাকলি বসাককে সরাসরি দায়ি করেছে।

সুইসাইড নোটে অলকের অভিযোগ তাকে ও তার পরিবারকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসাচ্ছে পুলিশ। তাকে বার বার মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে মামনির বাড়ির লোকজন৷ তার জন্য তার মাকে জেল পর্যন্ত খাটতে হয়েছে বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেছে অলক। তাই শেষমেষ নিরুপায় হয়ে সে বেছে নিয়েছে আত্মহননের পথ । সে তার সুইসাইড নোটে তার এই সিদ্ধান্তের জন্য যেমন বারবার দায়ী করেছে তার প্রেমিকা ও প্রেমিকার পরিবারকে ঠিক তেমনি বারবার তার মা-বাবার কাছে ক্ষমাও চেয়েছে।

হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের বন্ধুরা এই সিদ্ধান্ত জেনে তড়িঘড়ি তার খোঁজ নিতে শুরু করে। কিন্তু ইতিমধ্যেই আত্মহত্যা করেছে অলক৷ ভোর বেলা তার মাসির বাড়ি থেকে অলকের গলায় ফাঁস দেওয়া নিথর দেহ উদ্ধার করে রতুয়া থানার পুলিশ। জানা গিয়েছে, ময়না তদন্তের জন্য অলকের মৃতদেহ মালদহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পচামড়াজাত পণ্যের ফ্যাশনের দুনিয়ায় উজ্জ্বল তাঁর নাম, মুখোমুখি দশভূজা তাসলিমা মিজি।