কৌশিক চট্টোপাধ্যায়, রায়গঞ্জ: ব্যবস্থা নিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর৷ চাকুলিয়া ও গোয়ালপোখরে গজিয়ে ওঠা বেআইনি নার্সিংহোমগুলি বন্ধ করেও দিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর৷ কিন্তু তা সত্ত্বেও তৈরি হয়েছে নতুন সমস্যা। অভিযোগ উঠেছে, এলাকার বিভিন্ন ক্লিনিকগুলির সামনের দরজা বন্ধ থাকলেও পেছনের দরজা দিয়ে আবার শুরু হয়েছে অবৈধ চিকিৎসা। একান্ত গোপনে সম্পূর্ণ হাতুড়ে চিকিৎসকদের দিয়ে গর্ভপাত ও ভ্রূণহত্যার মতো অবৈধ কাজ চলছে৷ দিনের পর দিন লোক চক্ষুর আড়ালে এই রমরমা কারবার চললেও প্রশাসন সম্পূর্ণ নিশ্চুপ হয়ে বসে রয়েছে।

গত ডিসেম্বর মাসে বিজেপির পক্ষ থেকে জেলার সমস্ত বেআইনি নার্সিংহোম ও ক্লিনিকগুলি বন্ধের দাবি জানিয়ে জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে ডেপুটেশন দেওয়া হয়। বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, তারপরেও অবস্থার কোনও পরিবর্তন হয়নি। উলটে এই দুই ব্লকের আনছে কানাচে গড়ে উঠেছে একাধিক ক্লিনিক। রোগীদের চাকুলিয়ার বিশিষ্ট সমাজসেবী তথা শিক্ষক বিশ্বনাথ মৃধা বলেন, ‘‘জেলা স্বাস্থ্য দফতর চাকুলিয়া ও গোয়ালপোখরে গজিয়ে ওঠা কয়েকটি বেআইনি নার্সিংহোম বন্ধ করে দিলেও আদপে অবস্থার কোনও পরিবর্তন হয়নি। অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করেই গর্ভপাত ও শিশুদের চিকিৎসা চলছে ক্লিনিকগুলিতে।’’ চাকুলিয়া থানার ওসি পিনাকি সরকার জানান, জেলা স্বাস্থ্য দফতর অবৈধ ক্লিনিক বন্ধে ক্ষেত্রে উদ্যোগ নিলে পুলিশ অবশ্যই সহযোগিতা করবে।

গোয়ালপোখর থানার ওসি অভিজিত দত্ত জানান, এখানে একটি বড় নার্সিংহোম ছিল। গত ডিসেম্বর মাসে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এরপর প্রকাশ্যে কোথাও অবৈধভাবে নার্সিং হোম বা ক্লিনিক চলছে এমন কোনও অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
উত্তর দিনাজপুর গ্রামীণ চিকিৎসক সংগঠনের জেলা সম্পাদক সলেমান আলি বলেন, ‘‘গ্রামীণ চিকিৎসকেরা প্রসবকালীন চিকিৎসা ও শিশুদের চিকিৎসা করতে পারে না। তবে এদের মধ্যে যারা স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞর অধীনে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেছে তাদের মধ্যে কেউ কেউ কোথাও গর্ভপাতের মতো চিকিৎসা করছেন বলে শুনেছি। আমরা সংগঠনগতভাবে এধরনের চিকিৎসা করতে নিষেধ করেছি।’’ জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ প্রকাশ কুমার মৃধা বলেন, ‘‘জেলার প্রতিটি অবৈধ নার্সিংহোম ও ক্লিনিক দ্রুত বন্ধ করে দেওয়া হবে। শীঘ্রই জেলা স্বাস্থ্য দফতরের টিম চাকুলিয়া ও গোয়ালপোখরের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনে যাবে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’