নয়াদিল্লি: নিজের গাড়ি কেনার বদলে অ্যাপ-ক্যাবের দিকে বেশি করছে ঝুঁকছে নতুন প্রজন্মের ছেলে মেয়েরা যা গাড়ি শিল্পে মন্দার কারণ হয়ে উঠেছে ৷ কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর এহেন মন্তব্য ঘিরে গোটা দেশজুড়ে তোলপাড় হয়৷ দেখা গেল বৃহস্পতিবার সীতারামনের সুরে মারুতি সুজুকির চেয়ারম্যান আর সি ভার্গবকে কথা বলতে ৷ যদিও আগে ইনিই অর্থমন্ত্রীর মন্তব্য ঠিক নয় বলেই দাবি করেছিলেন।

কিন্ত সেই ভার্গবকেই একেবারে নিজের আগের অবস্থান থেকে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে যেতে দেখা গেল৷ তিনি নির্মলা সীতারামনের বক্তব্যকে সমর্থন করে জানান, যুবক-যুবতীদের নিজের গাড়ি কেনায় অনীহাই এই শিল্পে মন্দার অন্যতম কারণ৷ তাঁর এই বক্তব্য এখনও পর্যন্ত নির্মলার পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে সব চেয়ে বড় স্বীকৃতি বলে মনে করা হচ্ছে।

একটি সর্ব ভারতীয় সংবাদপত্রকে দেওয়া সাক্ষাতকারে ভার্গব জানান, বর্তমান যুব প্রজন্ম এবং চাকুরিজীবীরা এখন গাড়ি কেনার টাকা বাঁচিয়ে অন্য গ্যাজেট কিনতে চায় আর তাই ওলা বা উবর বুক করে যাতায়াত করা পছন্দ করছেন৷ তাঁর অভিমত, বর্তমান যুবপ্রজন্ম একে বারে নতুন প্রযুক্তির স্মার্টফোন কেনা, বন্ধুদের সঙ্গে রেস্তোরাঁয় খাওয়া দাওয়াতে খরচ করতে পছন্দ করে। আর তাই গাড়ি কেনার টাকা বাঁচিয়ে সেই অর্থ এই সমস্ত খাতে খরচ করছে।

পাশাপাশি তাঁরও পর্যবেক্ষণে মনে হয়েছে, ভারতের যুবপ্রজন্মের অধিকাংশের বেতনই তেমন বেশি নয়। ফলে যখন গাড়ি কেনা এবং ভালো করে সময় কাটানোর মধ্যে একটাকে বেছে নিতে হচ্ছে তখন তাঁরা দ্বিতীয়টিকেই বেছে নিচ্ছেন। যেহেতু গাড়ি চড়ার বিকল্প ব্যবস্থা সাধ্যের মধ্যে অ্যাপ ক্যাব হাতের নাগালেই রয়েছে৷
তবে তিনি মনে করেন, গাড়িতে জিএসটি কমানো হলে তা সাময়িক স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতি একই রকম হবে ৷ ফলে তিনি গাড়ি শিল্পে কাঠামোগত সংস্কারের কথা বলেছেন যাতে গাড়ির দামটা সাধারণ ক্রেতাদের সাধ্যের থাকে৷

ভারতে মাথাপিছু আয় যেখানে ২,২০০ ডলার বা আনুমানিক ১,৭১,৬০০ টাকা সেখানে ইউরোপে মাথাপিছু আয় প্রায় ৪০ হাজার ডলার বা আনুমানিক ৩১,২০,০০০ টাকার মতো। অথচ, দু’জায়গাতেই গাড়ির সুরক্ষা বৈশিষ্ট্য এক করা হচ্ছে। আর গাড়ির এই গুণমান এবং সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে গিয়ে মূল্য বৃদ্ধি হয়ে যাচ্ছে ৷ অথচ এখানে আয় বাড়ছে না ফলে ভারতীয়রা কী করে গাড়ি কেনার কথা ভাববে সেই প্রশ্নও তুলেছেন ভার্গব।