বারাকপুর: প্রকাশ্যে তারস্বরে মাইক বাজানোর প্রতিবাদ করে তৃণমূল কাউন্সিলরের হাতে শারীরিক ভাবে নিগৃহীত হতে হল এক যুবতীকে । ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচরাপাড়া পুরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ডে। আক্রান্ত ওই যুবতির নাম সুরশ্রী শীল। অভিযুক্ত তৃণমূল কাউন্সিলরের নাম উৎপল দাশগুপ্ত । থানায় হেনস্থার অভিযোগ করেছে ওই যুবতি। গোটা ঘটনা খতিয়ে দেখছে বীজপুর থানার পুলিশ।

তৃণমূল কংগ্রেসের রক্তদান কর্মসূচি পালিত হবে নতুন বছরের জানুয়ারি মাসে। সেই সঙ্গে দুঃস্থ ছাত্রছাত্রীদের বই দেওয়া হবে । সেই কর্মসূচীর প্রচার চলছিল কাঁচরাপাড়ার শহীদ নগর এলাকায় । অভিযোগ সকাল থেকে রাত মাইক বাজিয়ে সেই প্রচার করছেন তৃণমূল কর্মীরা । কাঁচরাপাড়া পুরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর উৎপল দাশগুপ্তের নির্দেশে ওই প্রচার করছিলেন দলীয় কর্মীরা, দাবি এমনটাই।

মাইকিংয়ের মাধ্যমে ওই প্রচারে নিজের সমস্যার কথা জানাতে গিয়েছিলেন ওই ওয়ার্ডের বাসিন্দা স্থানীয় যুবতি সুরশ্রী শীল । ওই যুবতির অভিযোগ, তিনি বলেছিলেন বাচ্চাদের স্কুলে এই সময় পরীক্ষা চলছে, তাই সাউন্ডটা একটি আস্তে করতে। যুবতির দাবি, তাঁর এই কথায় তৃণমূল কর্মীরা রেগে যান এবং তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি দেওয়া দেন । এরপর ওই যুবতি তৃণমূল কাউন্সিলরকে ঘটনার কথা জানালে তিনিও ওই যুবতিকে কটুক্তি করেন বলে অভিযোগ। পাশাপাশি পারায় থাকতে দেবেন না বলেও হুমকি দেন বলে অভিযোগ।

আরও পড়ুন – কলকাতায় রমরমিয়ে চলছে মধুচক্র, পুলিশি অভিযানে গ্রেফতার ৬৫

যুবতি জানান, “এই সময় আমি আমার মোবাইলের ভিডিও ক্যামেরা রেকর্ডিং শুরু করি । উনি বলেন, থাবরে আমার গাল লাল করে দেবেন । আমি ওই কাউন্সিলরের কাছাকাছি যেতেই উনি আমার গালে চড় মেরে মোবাইল ফোনটি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন । এরপর আমার বাড়িতে গিয়ে আমার মাকে অপমান করেন । গোটা ঘটনা আমার মোবাইলে যেমন তুলে রেখেছি আমি, তেমনি পাড়ার অনেকেই দেখেছেন কিভাবে আমাকে শারীরিক ভাবে হেনস্থা করেছেন ওই তৃণমূল কাউন্সিলর । আমি বীজপুর থানার পুলিশকে এই ঘটনার অভিযোগ করেছি । পুলিশ বিষয়টা দেখছে ।”

এদিকে শহীদ কলোনী এলাকার তৃণমূল কর্মীদের বক্তব্য, কাউন্সিলর উৎপল দাশগুপ্ত ওই যুবতীকে মেয়ের মতন মনে করে শাসন করেছিল । শারীরিক নিগ্রহ করেনি । এই ঘটনা সম্পর্কে কোন প্রতিক্রিয়া দেননি কাঁচরাপাড়া পুরসভার অভিযুক্ত তৃণমূল কাউন্সিলর । গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বীজপুর থানার পুলিশ।