সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়: অনলাইনে কি না পাওয়া যায়। গুগলে লিখে সার্চ করলেই হাতের পাওয়া যেতে পারে সবকিছু। এমনটাই ধারণা নেটিজেনের। কিন্তু যদি বেখেয়ালে ‘অ্যাটম বোমা’ কেনার ইচ্ছা হয়! তাও পাবেন। এক ক্লিকেই পাবেন সেই বোম। আনলাইন ‘অ্যাটম বোমা’ বিক্রয়কারী সংস্থা ‘কক ব্র্যান্ড’।

অ্যাটম বোমা, বাংলায় যার অর্থ পরমাণু বোমা। এই পরমাণু বোমা নিয়েই কত কাণ্ড ঘটে গিয়েছে। এখনও সামরিক শক্তি প্রদর্শনের জন্য উত্তর কোরিয়া পরমাণু বোমা পরীক্ষা চালিয়ে যায় গোপনে। বিভিন্ন সূত্রে সেই খবর সংবাদমাধ্যমের কাছে এসেছে। কুখ্যাত বোমার আঘাতে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখা হয়ে গিয়েছিল জাপানের হিরোশিমা এবং নাগাসাকির মতো শহর। লক্ষ লক্ষ মানুষের মৃত্যু, হাহাকার। এখনও সেই দুই শহরের পরিবারগুলিতে আক্রান্ত পরিবারের খোঁজ মেলে। বোমার জেরে বেশ কয়েকটি প্রজন্মের জন্ম হচ্ছিল বিকল অঙ্গ নিয়ে। এমন মারণ বোমা নাকি মিলছে অনালাইনে! ঘটনা একদম সত্যি হলেও গল্প।

‘অ্যাটম বোমা’ কেনার জন্য প্রথমে https://cockbrand.in/ এ। এরপরে ‘shop now’ অপশনে ক্লিক করলেই চলে আসবে আতসবাজি কেনার বিভিন্ন তালিকা। পাঁচ নম্বরে রয়েছে ‘অ্যাটম বোমা’ অপশনটি। ‘কক ব্র্যান্ড’ নামে অনালাইনে অ্যাটম বোমা বিক্রিকারী সংস্থা আসলে বিক্রি করছে চকোলেট বোমা। ছোট থেকে বড় মাঝারি সবরকমের চকলেট বোমা সংস্থা বাড়ি বয়ে দিয়ে যাবে। এক প্যাকেটে ১০টি করে বোমা মিলছে। কোনটির নাম স্কোয়ার গ্রিন, কোনটির নাম হাইড্রো ফয়েলড। রয়েছে বুলেট এবং মিনি বুলেট চকলেট বোমাও। স্কোয়ার গ্রিনের এক প্যাকেটের দাম মাত্র ৪৬ টাকা। হাইড্রো ফয়েলডের দাম ৬২ টাকা। বুলেটের দাম ৩৮ টাকা এবং মিনি বুলেট ২৮ টাকা।

সংস্থার কর্তা শ্রীনিবাস বলেন, “আমাদের বহুদিনের আতসবাজির ব্যবসা। বিভিন্ন উৎসব অনুস্থানে আমরা আতসবাজি সরবরাহ করি। অ্যাটম বোমা বিষয়টি আসলে লেখা হয়েছে জোড়াল শব্দকে বোঝাতে। পুরো বিষয়টিই প্রতীকী। গত বছর পাঁচেক অনলাইনে এই নামেই চকোলেট বোমা বিক্রি হয়। কোনও সমস্যার সৃষ্টি হয়নি।”

একইসঙ্গে তিনি বলেন, “তবে শব্দবাজি এখন খুব কম বিক্রি করি। আজ আবার অনলাইনে আতসবাজি বিক্রি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এই মুহূর্তে কোনও উপায় খুঁজে পাচ্ছি না।”

পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষার প্রথম ঘটনাটি ঘটে ১৬ জুলাই, ১৯৪৫ সালে। ওইদিন ম্যানহাটন প্রকল্পের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের অ্যামোগোর্দো’র কাছে পরীক্ষা চালানো হয়েছিল। প্রকল্পের কোড নেম ছিল ট্রিনিটি। এই পরীক্ষার ফলে পরমাণু অস্ত্র বিস্ফোরণের অনেক প্রতিক্রিয়ার প্রায় সঠিক ফলাফল সম্পর্কে অবগত হন সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীরা। কিন্তু পরমাণু বোমা বিস্ফোরণের ফলে বায়ুবাহিত তেজস্ক্রিয় কণাসমূহের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে সঠিক ধারণা পাননি। হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণের পরই প্রকল্পের বিজ্ঞানীরা এর বিরূপ প্রভাব সম্পর্কে অবগত হন।

পচামড়াজাত পণ্যের ফ্যাশনের দুনিয়ায় উজ্জ্বল তাঁর নাম, মুখোমুখি দশভূজা তাসলিমা মিজি।