স্টাফ রিপোর্টার, সিউড়ি: বীরভূমের রাজনৈতিক নেতারাই সবথেকে বেশি পাপী৷ পাপ ধুতে তাই জয়দেব কেন্দুলিতে স্নান করা উচিত৷ তাতে যদি পূণ্য হয়৷ মকর সংক্রান্তিতে বীরভূমের জয়দেবে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ পূণ্য স্নান করতে গিয়ে এমনটাই মন্তব্য করলেন৷ এছাড়াও তিনি মেলার দুরবস্থা নিয়ে একগুচ্ছ অভিযোগ করলেন রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার ভোররাতে জয়দেব কেন্দুলিতে লক্ষাধিক মানুষ পুণ্যস্নানের জন্য উপস্থিত হন। শুধু সাধারণ মানুষ নয়, উপস্থিত হয়েছেন রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে বহু সন্ত সাধু। এদিন বীরভূমের জয়দেব কেন্দুলিতে পুণ্য স্নান করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। পুণ্যস্নানের পর তিনি সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মেলার বর্তমান অবস্থা নিয়ে একগুচ্ছ অভিযোগ করেন। মেলার যাওয়ার রাস্তা, পার্কিংয়ের ব্যবস্থা, এছাড়াও মেলার পরিষ্কার পরিছন্নতা নিয়েও একগুচ্ছ প্রশ্ন তোলেন তিনি৷

মেলার নিরাপত্তা নিয়ে তিনি বলেন, এই জায়গাটা বাংলার মানুষের ইতি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র৷ তাই মেলার পিছনে রাজ্য সরকারের সব থেকে বেশি নজর দেওয়া উচিত। কিন্তু মেলার প্রস্তুতিতে সরকার কিছুই করে নি। মেলার রাস্তার যা বেহাল অবস্থা সেখানে হাঁটাই যাচ্ছে না৷ হাঁটতে গেলে মানুষ পড়ে যাবে। এছাড়াও প্রতিটি গাড়িতে ১০০টাকা করে পার্কিংয়ের জন্য নেওয়া হচ্ছে৷ যতবার আসবে ১০০ টাকা করে দিতে হবে।

এরপরেই তিনি জানান, বীরভূম জেলাতে পাপের রেকর্ড সব থেকে বেশি৷ খুন খারাপি তো এখানে লেগেই রয়েছে৷ এটা বাংলার সংস্কৃতি নয়। তাই মানুষের মন যদি একটু শুদ্ধ হয় তাহলে আমরা একটু শান্তিতে থাকতে পারবো। এছাড়াও তিনি বীরভূমের রাজনৈতিক নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, যারা ক্ষমতায় আছেন তাদের স্নান করা সব থেকে জরুরি৷ কারণ তাদের পাপের পরিমাণ সব থেকে বেশি।

প্রতিবছরই মকর সংক্রান্তিতে বীরভূমের জয়দেব কেন্দুলিতে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটে। সেই চিত্র এই বছরে কিছু নতুন নয়৷ রাত থেকেই লক্ষ্য লক্ষ্য পুণ্যার্থী পুণ্য লাভের আশায় শুরু করেছেন পুণ্যস্নান। মেলাতে যাতে কোন রকম অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে৷ তার জন্য মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ বাহিনী।

এদিন মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মৎস্য মন্ত্রী চন্দ্র নাথ সিংহ৷ এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা সভাধিপতি বিকাশ রায় চৌধুরী, জেলা শাসক মৌমিতা গোদারা বসু, জেলা পুলিশ সুপার শ্যাম সিং৷ এই মেলাকে নির্মল মেলা হিসাবে গড়ে তুলতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে৷ মঙ্গলবার মেলা থেকে ‘জয়দেব কেন্দুলি মেলা’ নামে একটি পত্রিকার উদ্বোধন করা হয়৷