তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: ৩১ তম আন্তর্জাতিক বিষ্ণুপুর মেলায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে শিল্পী নির্বাচনে অভিনব উদ্যোগ নিল মহকুমা প্রশাসন। গত ৩০ বছরে এই প্রথম শিল্পী নির্বাচনের ক্ষেত্রে ‘অডিশন’ ব্যবস্থার আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।

আগাম বিজ্ঞপ্তি দিয়ে পূর্ব নির্ধারিত সূচি মেনে মেলায় অনুষ্ঠান করার জন্য রবিবার থেকে শিল্পী নির্বাচনের কাজ শুরু হল। পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এড়াতে বিচারকমণ্ডলীতে রয়েছেন বাইরে থেকে আসা বিচারকরা।

বিষ্ণুপুর মহকুমা প্রশাসন সূত্রে খবর, শিল্পী বাছাইয়ের জন্য অভিশন এদিন শুরু হল। শেষ হবে আগামী ১৫ ডিসেম্বর। শহরের জোড় মন্দির সংলগ্ন পোড়া মাটির হাট, বিষ্ণুপুর মহকুমা গ্রন্থাগার ও বিষ্ণুপুর রামশরণ সঙ্গীত মহাবিদ্যালয়ে এই ‘অডিশন’ প্রক্রিয়া চলবে। প্রথম দিন পোড়ামাটির হাট প্রাঙ্গনে খোলা আকাশের নিচে সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশে ভাদু’ টুসু, মনসা মঙ্গল গান ও নৃত্যের ‘অডিশন’ পর্ব শুরু হল।

অন্যান্য দিনগুলিতে আদিবাসী নৃত্য, রণপা, আধুনিক গান সহযোগে একক ও সমবেত নৃত্য, রবীন্দ্র সঙ্গীত, নজরুল গীতি, ধ্রুপদ, গৌড়িয় ও শাস্ত্রীয় নৃত্য, আঞ্চলিক নৃত্য, দলগত একাঙ্ক ও নৃত্যনাট্য, বিষ্ণুপুর ঘরাণার সঙ্গীত, ঝুমুর, বাউল, পুতুল নাচ, যোগ ব্যায়াম, ম্যাজিক শো ইত্যাদির বিভিন্ন বিভাগে অডিশন নেওয়া। এখানে নির্বাচিত সফল শিল্পীরাই কেবল মাত্র বিষ্ণুপুর মেলা মঞ্চে অনুষ্ঠান করার সুযোগ পাবেন।

এবছর আগামী ২৩ডিসেম্বর নন্দলাল মন্দির সংলগ্ন মাঠ, পোড়া মাটির হাট ও হাই স্কুল মাঠে ৩১ তম বিষ্ণুপুর মেলা শুরু হবে। চলবে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত। অন্যান্য বারের মতো এবারও প্রতিদিন মেলার সাংস্কৃতিক মঞ্চে অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকছে।

অন্যান্য বছর মেলার মঞ্চে অনুষ্ঠানে শিল্পী নির্বাচনের ক্ষেত্রে ‘পক্ষপাতিত্বে’র অভিযোগ ওঠে। মহকুমা শাসক হিসেবে মানস মণ্ডল তাঁর প্রথম মেলা পরিচালনায় সেই অভিযোগ দূর করতে উঠে পড়ে লেগেছেন। মূলত তাঁর উদ্যোগেই এবার ‘শিল্পী নির্বাচনে অডিশন’ প্রথা চালু হয়েছে বলে ওয়াকিবহাল মহল সূত্রে খবর।

খাতড়া মহকুমা এলাকা থেকে বিচারকের দায়িত্ব নিয়ে আসা সুনীল সরেন বলেন, আজ প্রথম দিন ভাদু, টুসু, মনসা মঙ্গল গান ও নাচের অডিশন হচ্ছে। খুব ভালো সাড়া পাওয়া গেছে। মেলা কমিটির এই উদ্যোগ তিনি স্বাগত জানিয়েছেন। এই উদ্যোগে খুশি ‘অডিশনে’ আসা শিল্পীরাও।

আরও পড়ুন :৩০০ টনের বিষ্ণমূর্তি তিনদিনে সরল মাত্র তিন’শ মিটার

তাঁদের মতে অন্যান্যবার এই সুযোগ ছিলনা। আমরা চাইলেও অনুষ্ঠান করার সুযোগ পেতামনা। এবার এই শিল্পী বাছাইয়ে ‘অডিশন’ প্রথা চালু হওয়ার ফলে যোগ্য শিল্পীরাই মেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠান করার সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে লোক সংস্কৃতির প্রচার ও প্রসারে এই উদ্যোগ যথেষ্ট প্রশংসনীয় বলে উপস্থিত শিল্পীরা মনে করছেন।

বিষ্ণুপুর ও খাতড়া মহকুমা তথ্য ও সংস্কৃতি আধিকারিক রামশঙ্কর মণ্ডল বলেন, “আজ পোড়া মাটির হাটে শিল্পী বাছাইয়ের ‘অডিশন’ শুরু হলো। আগামী ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত অডিশনে জেলার অন্যান্য অংশ বা জেলার বাইরে থেকে আসা বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিরাই বিচারকের দায়িত্ব সামলাবেন। বিচারকদের বিচারে প্রতিটি বিভাগে প্রথম, দ্বিতীয় স্থানাধিকারী এক বা দলগত শিল্পীরাই বিষ্ণুপুর মেলা মূল সাংস্কৃতিক মঞ্চে অনূষ্ঠান করার সুযোগ পাবেন” বলে তিনি জানান।