সুপর্ণা সিনহা রায়: পর্ণমালা আর শিমুলের অনেকদিনের বন্ধুত্ব৷ দুজনেই একই স্কুলে পড়েছে একই কলেজেও কাটিয়েছে তিন তিনটে বছর৷ পর্ণমালা খুব ভালো নাচে৷ শিমূলের অসাধারণ গানের গলা৷ একসময় দুজন কলেজের সিঁড়িতে বসে স্বপ্ন দেখত দুজনেরই আকাশজোড়া নাম হবে৷ খ্যাতির সমুদ্রে ভাসবে দুজনেই৷ একসঙ্গে হবে সংসার৷ লাইম লাইটের আলোয় ঝকমক করবে সেই ঘরের কোণ৷ পর্ণমালা নাচ শিখতে যেত বেহালায়৷

শিমূল কোথাও ট্রেনিং নেয়নি গানের৷ কিন্তু সুর খেলত তার গলায় অসাধারণ৷ ছোটবেলা থেকেই মায়ের কাছে গান শিখেছে শিমূল৷ এত স্বপ্নের পরেও সেই ছেলেবেলা থেকে দুজনের বড় শিল্পী হয়ে ওঠার শখ অধরাই রয়ে গিয়েছে৷ একসময় দুজনেই হতাশ গলায় বলেছিল গুনির কদর নেই বোধহয়৷

কথাটা কি ঠিক বলেছিল দুজনে? সত্যিই কি গুনির কদর হারিয়ে যেতে বসেছে? লাইম লাইটের পিছনে ইঁদুর দৌড়ে কি বাদ পড়ে যাচ্ছেন তাঁরা যাঁদের যোগ্যতার অভাব নেই? জীবনের অন্যান্য যুদ্ধের মাঝে নিজের ভালোবাসা শিল্প আর প্রতিভাকে হারিয়ে ফেলছেন? উপরের পর্ণমালা আর শিমূলের গল্পের সঙ্গে যদি আপনার গল্পের খানিকটা মিল পান তাহলে তার শেষটা জানবেন ভালই হবে৷ শেষ ভালো যার সব ভালো তার কথাতেই তো আছে৷ এই কথাটা বলার কারণ আপনাদের মত ট্যালেন্টকে এমনি এমনি হারতে দিতে চাইনা আমরা৷

কলকাতা24×7 পেজে কয়েকদিনের মধ্যেই আসতে চলেছে বেশকিছু নতুন নতুন অনুষ্ঠান৷ তারমধ্যে অন্যতম “সুরে ঘুঙুরে”৷ একদম নতুন একটা প্ল্যাটফর্ম যেখানে নিজের ভালবাসার শিল্পকে নিজের মধ্যে বাঁচিয়ে রাখতে চাওয়া প্রতিভাদের তুলে ধরব আমরা৷ যদি আপনি খুব ভালো নৃত্যশিল্পী হন কিমবা যদি আপনার অসাধারণ গানের গলা হয় বা আপনি যেকোনও রকম যন্ত্রসঙ্গীতে দক্ষ হন তাহলে আপনার জন্যই অপেক্ষায় রয়েছি আমরা৷

সিএফপি ফিল্মস প্রোডাকশন ও কলকাতা24×7 মিলিত উদ্যোগে পরিবেশিত হতে চলেছে “সুরে ঘুঙুরে”৷ আসছে আরও হরেক রকমের অনুষ্ঠান৷ তবে “সুরে ঘুঙুরে”-তে আমরা সরাসরি আপনাদের মধ্যে থেকে তুলে আনার চেষ্টা করছি সেই সব প্রতিভাকে যারা প্রায় দশ বারো বছর ধরে স্ট্রাগল করে চলেছেন কিন্তু সেইভাবে কোনও মঞ্চ পাননি নিজের প্রতিভাকে মেলে ধরার৷ তাদেরই মঞ্চ দিচ্ছে এই সংস্থা৷ এই মঞ্চে বাউল গান গেয়েছেন ফকিরি ব্যান্ডের প্রেমাংশু দাস৷ তাঁর কথায় “এটা খুব ভালো একটা উদ্যোগ৷ এমন একটা মঞ্চ পেয়ে বাংলার ছেলে মেয়েরা তাদের প্রতিভাকে সামনে নিয়ে আসতে পারবে৷ জেলায় এমন কত প্রতিভা আছে যাদের কথা আমরা জানিই না৷ আমি ছোটবেলা থেকে কোনও সঙ্গীতের আবহে বড় হইনি তবে মা বাবা ভীষণ সাপোর্ট করতেন৷ একটা সময় আমি বাউলের দিকে ঝুঁকি৷

এখন বাউল নিয়েই কাজ করছি৷ বাউল গান নিয়ে কাজ করতে গিয়ে দেখেছি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বাউল শিল্পীরা রয়েছেন যাঁরা ট্রেনেও গান করেন অসাধারণ তাঁদের সুর তাঁদের কত জনকে আমরা চিনি? এমন একটা প্ল্যাটফর্ম পেলে বাউল ঘরের ছেলেমেয়েদেরও লোকে চিনবে জানবে৷ “সুরে ঘুঙুরে” অনুষ্ঠানটি অবশ্যই সকলের ভালো লাগবে”৷

কর্পোরেট হাউজে চাকরি করেন নেহা দত্ত৷ চাকরির পাশাপাশি ওডিসি নৃত্য তাঁর কাছে প্যাশন৷ সংসার সামলে চাকরি সামলেও নিয়ম করে চলে প্রাক্টিস৷ কর্মস্থল থেকেও সহযোগিতা করা হয় যাতে নেহা তার প্রতিভাকে পাশাপাশি নিয়ে এগিয়ে যেতে পারেন৷ কর্মস্থলেও মাঝেমধ্যেই ফ্রাই ডে ফান ডে তে কোমর বেঁধে নেমে পড়েন তিনি৷ হাত তালিও পান সহকর্মীদের থেকে৷ এইভাবেই চলছিল৷ হঠাৎই তাঁর সামনে এসে যায় “সুরে ঘুঙুরে” প্ল্যাটফর্ম৷ এমন একটা মঞ্চ পেয়ে ভীষণই খুশি নেহা৷ তিনি জানিয়েছেন “পড়াশোনার পর চাকরি বিয়ে করে সংসার এসব সামলেও আমি নিজের ভালোবাসার জায়গাটা বাঁচিয়ে রাখতে চাই তাই নিয়ম করেই নাচের চর্চা করি৷ আমার শ্বশুড়বাড়িও আমাকে সাপোর্ট করে৷ অফিসও খুব হেল্পফুল৷ ছুটির দিনে এখনও আমি নিয়ম করে গুরুমায়ের কাছে শিখতে যাই৷

“সুরে ঘুঙুরে” প্ল্যাটফর্মটা আমার কাছে একটা আশীর্ব্বাদ৷ আমরা সবাই চাই নিজেদের প্রতিভার কদর হোক৷ আমি আশা করি মানুষ এই অনুষ্ঠানটিকে ভালবাসবেন৷ আমার মত অনেকেই আছেন যাঁরা জীবনের অন্যান্য স্ট্রাগলের মাঝেই নিজের প্রতিভাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য লড়াই করে চলেছেন তাদের কাছে এটা একটা খুব বড় প্ল্যাটফর্ম হবে৷”

সুরে ঘুঙুরে অনুষ্ঠানে অংশ নিতে হলে মেল করুন আমাদের মেল আইডিতে৷ আমাদের মেল আইডি shurayoghunguray@kolkata24x7.com তার সঙ্গে অবশ্যই পাঠাবেন আপনার পারফরমেন্সের একটা ছোট ভিডিও ক্লিপিং৷ আপনার নাম ঠিকানা৷ কতদিন ধরে আপনি গান, নাচ অথবা যন্ত্র সঙ্গীত নিয়ে চর্চা করছেন৷ সিলেক্ট হয়ে গেলেই “সুরে ঘুঙুরে”-র মঞ্চ আপনার৷ আপনিও হয়ে যাবেন সেলেব্রিটি৷