লখনউ: বাবরি মসজিদের বদলে অযোধ্যায় নতুন মসজিদের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকব না, সাফ জানিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।

এই প্রসঙ্গে যোগী আদিত্যনাথ জানিয়েছেন, “আমি বাদীও নয় বা প্রতিবাদীও নয়। সেই জন্য আমাকে নিমন্ত্রণ করা হবে না এবং আমি যাবও না। আমি জানি এরকম কোনও আমন্ত্রণ পাব না”।

১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ধ্বংস হওয়ার পরে ঐতিহাসিক এবং বহুবিতর্কিত এই ইস্যুতে রায়দান করেছে সুপ্রিম কোর্ট। ২০১৯ সালে বিতর্কিত জমিতে রাম মন্দির তৈরির রায় দেওয়া হলে অন্য অযোধ্যার একটি জায়গায় মসজিদ তৈরির জন্য পাঁচ একর জমি বরাদ্দ করা হয়। সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড একটি ট্রাস্ট গঠন করেছে যারা এই মসজিদ তৈরির দায়িত্বে রয়েছেন।

দু’দিন আগেই মুখ্যমন্ত্রী মসজিদে উপস্থিত থাকা নিয়ে মন্তব্য করে বিতর্কে জড়িয়েছেন। তিনি জানিয়েছিলেন, বাবরি মসজিদের জায়গায় তৈরি হওয়া নতুন মসজিদের উদ্বোধনে যাবেন না তিনি। আর মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য ঘিরেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক।

তবে আদিত্যনাথ বলেন তাঁর মনে হয় না এরকম কোনও আমন্ত্রণ তিনি পাবেন। ফলে তাঁর যাওয়ার কোনও প্রশ্নও উঠছে না। তবে যেদিন এরকম আমন্ত্রণ তিনি পাবেন, দেশের ধর্মনিরপেক্ষতা প্রশ্নের মুখে পড়বে। তাই প্রত্যেকের নিজের ধর্মাচারণকে সম্মান করে নিজেদের গণ্ডীর মধ্যেই থাকা উচিত। তবে সরকারি কাজে ও পরিষেবায় কখনও তিনি বৈষম্য করবেন না বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

তিনি বলেন নিজে হিন্দু হয়ে রোজা বা ইফতারে যোগ দেওয়া, মাথায় ফেজ টুপি পড়ে নমাজ পড়া ধর্ম নিরপেক্ষতার বার্তা দেয় না। মানুষ জানেন এটা নাটক। আর সেই নাটকের অংশ তিনি হতে চান না বলে জানান আদিত্যনাথ।

মসজিদ তৈরির জন্য ধান্নিপুর গ্রামে ওই জমি দিয়েছে উত্তরপ্রদেশ সরকার। তবে পাঁচ একর জমিতে শুধু মসজিদ নয়, থাকবে গবেষণা কেন্দ্র, হাসপাতাল, পাঠাগার, ও কমিউনিটি কিচেন।

ইন্দো-ইসলামিক কালচারাল ফাউন্ডেশনের সম্পাদক তথা মুখপাত্র আতহার হুসেন বলেছেন, “জনসাধারণের জন্য এই কাজে, মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের দিন আমন্ত্রণ জানানো হবে। মুখ্যমন্ত্রী শুধু অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন তা নয়, এর নির্মাণ কাজেও সহায়তা করবেন বলে জানিয়েছেন আতহার। তবে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন হিন্দু হয়ে এমন কোনও অনুষ্ঠানে তিনি যাবেন না।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও