অযোধ্যা: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে তৎপরতা শুরু যোগী সরকারের। অযোধ্যায় মসজিদ তৈরির জন্য জায়গা খোঁজা শুরু করেছে যোগী আদিত্যনাথের সরকার। ইতিমধ্য়েই মসজিদ তৈরির জন্য অযোধ্যায় ৫টি জমি চিহ্নিত করে ফেলেছে উত্তরপ্রদেশ সরকার।

অযোধ্যা মামলার রায়দানের সময় উত্তর প্রদেশ সরকারকে মসজিদ তৈরির জন্য আলাদা করে ৫ একর জমি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল দেশের শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের সেই নির্দেশ মেনে অবশেষে মসজিদ তৈরির জন্য ৫টি জায়গায় জমি চিহ্নিত করেছে উত্তর প্রদেশ সরকার। মির্জাপুর, শামসুদ্দিনপুর, চাঁদপুরে এই পাঁচটি জায়গা চিহ্নিত করা হয়েছে।

তবে যোগী সরকারের চিহ্নিত করা ৫টি জমিই পঞ্চকোশি পরিক্রমার বাইরে। এবার সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডকে এই জমি দেখার জন্য অনুরোধ জানাবে যোগী আদিত্যনাথের সরকার। যদিও তারও আগে ট্রাস্টি তৈরি করতে হবে। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মেনে সেই ট্রাস্টের অনুমোদন মিললেই শুরু হবে মন্দির এবং মসজিদ তৈরির কাজ।

চলতি বছরের ৯ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্ট অযোধ্যার বিতর্কিত জমিতে মন্দির তৈরির নির্দেশ দিয়ে মসজিদ তৈরির জন্য পৃথক জমি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। একইসঙ্গে তিন মাসের মধ্যে এই জমি দেওয়ার প্রক্রিয়াটি শেষ করতে বলা হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টের সেই নির্দেশ মেনেই এবার মসজিদের জন্য জমি চিহ্নিত করেছে উত্তরপ্রদেশ সরকার।
এদিকে, অযোধ্যা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ফের আদালতে আবেদন জানিয়েছিল মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড। একইসঙ্গে হিন্দু মহাসভাও পাল্টা পুনর্বিবেচনার আর্জি জানায় আদালতে। শীর্ষ আদালতে করা দুটি আবেদনই ১২ ডিসেম্বর খারিজ হয়ে যায়।

বছরের পর বছর ধরে চলছিল অযোধ্যা মামলা। বছরের পর বছর ধরে চলা সওয়াল-জাবাবেও অযোধ্যা নিয়ে স্পষ্ট কোনও সিদ্ধান্তে আসতে পারছিল না শীর্ষ আদালত। এমনকী মামলার নিষ্পত্তিতে শেষমেশ মধ্যস্থতাকারীও নিয়োগ করে সুপ্রিম কোর্ট। মধ্যস্থতাকারীরা এরপর জট কাটাতে আসরে নামেন। সব পক্ষের সঙ্গে আলাদা আলাদা করে কথা বলেন মধ্যস্থতাকারীরা। কিন্তু তারপরেও কোনও সিদ্ধান্তে আসা সম্ভব হয়নি। শেষমেশ গত ৯ নভেম্বর অযোধ্যা মামলার চূড়ান্ত রায় দেয় সুপ্রিম কোর্ট। বিতর্কিত জমিতে মন্দির তৈরির নির্দেশ দেয় আদালত। একইসঙ্গে মসজিদ তৈরির জন্য় অন্যত্র জমি দেখতেও নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট।