আগ্রা: তাজমহলকে কেন্দ্র করে বিতর্কের জবাব দিতে মাঠে নামলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। বৃহস্পতিবার তাজমহল পরিদর্শনে গিয়ে ঝাঁটা হাতে রীতিমতো সাফাই অভিযানে দেখা গেল তাঁকে৷

মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন বিজেপির কয়েকজন শীর্ষ নেতা ও সরকারি আধিকারিকরা৷ গোটা তাজমহল ঘুরে দেখেন আদিত্যনাথ৷ প্রায় আধঘণ্টা থিলেন তিনি তাজমহলে। এরপর, পশ্চিম দিকের ফটকে স্বচ্ছতা অভিযানে সামিল হন যোগী। ঝাঁটা হাতে তাজমহল চত্বর পরিস্কারে নামেন তিনি। সেই সাফাই অভিযানে সামিল হন বিজেপির প্রায় কয়েক শতাধিক কর্মী, চিকিৎসক, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবীসহ সমাজের বিশিষ্টরা।

কিন্তু কেন এই সাফাই অভিযান? সাম্প্রতিককালে তাজমহলকে নিয়ে যে বিতর্ক দলের মধ্যেই ঝড় তুলেছিল, তা ধামাচাপা দিতেই কি এই প্রয়াস? প্রশ্ন তুলছে রাজনৈতিক মহল৷ কিন্তু চলতি বছরের জুন মাসেই ছবিটা অন্য ছিল৷ এই যোগী আদিত্যনাথেরই বক্তব্য ছিল তাজমহল ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতীক নয়৷ এছাড়াও বিতর্ক দানা বাঁধে রাজ্য সরকারের পর্যটন পুস্তিকায় তাজমহলের স্থান না পাওয়া নিয়ে৷ প্রবল সমালোচনার মুখে পড়তে হয় বিজেপিশাসিত রাজ্য সরকারকে।

ওই বিতর্ক উস্কে দিয়েই রাজ্যের বিজেপি বিধায়ক সঙ্গীত সোম বলেন, তাজমহল বিশ্বাসঘাতকরা তৈরি করেছে। শুরু হয় রাজনৈতিক তরজা৷ সমাজবাদী পার্টির নেতা আজম খানও পাল্টা মন্তব্য করে বলেন, শুধুমাত্র তাজমহল কেন, সংসদ ও রাষ্ট্রপতি ভবনও দাসত্বের নিদর্শন, তাই এগুলোকেও ভেঙে ফেলা উচিত।

এরকম পরিস্থিতির মধ্যেই গত সপ্তাহেই মুখ খোলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী। তিনি ঘোষণা করেন তাজমহল পরিদর্শনে যাবেন৷ সেই মতোই এদিন তাজ পরিদর্শনে আসেন যোগী। মুখ্যমন্ত্রীর তাজমহল সফরকে কেন্দ্র করে আঁটোসাঁটো করা হয়েছিল নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আগ্রা শহর জুড়ে প্রায় ১৪ হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। যান চলাচলেও নিয়ন্ত্রণ আনা হয়েছিল শহরে। উল্লেখ্য, যোগী আদিত্যনাথই উত্তরপ্রদেশের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী, যিনি তাজমহল পরিদর্শন করলেন৷