লখনউ:‌ দু’য়ের বেশি সন্তান হলেই এবার কোপ পড়তে পারে সরকারি সুযোগ-সুবিধায়। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে শীঘ্রই এমনই পদ্ধতি চালু হতে চলেছে যোগীরাজ্য উত্তরপ্রদেশে। সম্প্রতি এমনই ভাবনার কথা জানিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জয়প্রতাপ সিং। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ স্বয়ং দুই সন্তান নীতি চালু করতে চাইছেন বলে জানিয়েছেন সেরাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে এবার সরকারিস্তর থেকেই তৎপরতা নিতে চাইছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। শীঘ্রই তাঁর রাজ্যে দুই সন্তান নীতি চালু করার কথা ভাবছেন যোগী। সম্প্রতি একটি সংবাদমাধ্যমে উত্তরপ্রদেশ সরকারের এমনই ভাবনার কথা জানিয়েছেন যোগীরাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জয়প্রতাপ সিং।

তিনি বলেন, ‘হু-হু করে বাড়ছে উত্তপ্রদেশের জনসংখ্যা। এখনই উত্তরপ্রদেশের জনসংখ্যা ২০ কোটি ছাড়িয়ে গিয়েছে। যা রীতিমতো উদ্বেগজনক। শীঘ্রই দুই সন্তান নীতি চালুর কথা ভাবা হচ্ছে। এই নীতি চালু হলেই জনস্যাখ্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে।’

দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা নিয়ে উদ্বিগ্ন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। উত্তরপ্রদেশ বড় রাজ্য হলেও তার জনসংখ্যা দিনের পর দিন হু হু করে বেড়ে চলেছে। উত্তরপ্রদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বর্তমানে উত্তরপ্রদেশের জনসংখ্যা উদ্বেগজনক জায়গায় গিয়ে পৌঁছেছে। কিছুতেই জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। সেই কারণেই দুই সন্তান নীতি চালুর কথা ভাবছে রাজ্য সরকার। তবে বিষয়টি এখনও পর্যন্ত ভাবনার স্তরেই রয়েছে।

দুই সন্তান নীতি অনুযায়ী কোনও দম্পতির দুটির বেশি সন্তান হলে তাঁরা সরকারি কোনও সুযোগ-সুবিধা পাবেন না। কয়েক মাস ধরেই জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য এমন ভাবনা চলছিল যোগী প্রশাসনের অন্দরে। এবার সেই ভাবনা বাস্তবে রূপ পাওয়ার পথে।

উত্তরপ্রদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জয়প্রতাপ সিং আরও জানিয়েছেন, দুই সন্তান নীতি যদি কেউ অমান্য করেন সেক্ষেত্রে সমস্ত রকম সরকারি সুবিধা থেকে ওই পরিবারকে বঞ্চিত করার বিষয়ে ভাবনা চিন্তা শুরু হয়েছে।

যে পরিবারে দুইয়ের বেশি সন্তান রয়েছে সেই পরিবারের কাউকে পঞ্চায়েত নির্বাচনে লড়তে দেওয়া হবে না। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আশা, সরকার এই কড়া পদক্ষেপ করার পথে হাঁটলে রাজ্যের জনসংখ্যাও নিয়ন্ত্রণে আসবে। লাগাম টানা যাবে উত্তরপ্রদেশের জনবিস্ফোরণে।