লখনউ : বলেছিলেন মসজিদের উদ্বোধনে যাবেন না। কারণ তিনি হিন্দু যোগী। তাঁর বিশ্বাস ছিল তাঁকে অযোধ্যায় বাবরি মসজিদের জায়গায় তৈরি হওয়া মসজিদের উদ্বোধনে ডাকা হবে না। কিন্তু এবার বেশ বিপাকে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।

সূত্রের খবর মসজিদ তৈরির ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে ডাকা হতে পারে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীকে। অযোধ্যার ধান্নিপুর গ্রামে যে মসজিদ তৈরি হচ্ছে সেখানে উদ্বোধনের জন্য আমন্ত্রিত হতে পারেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের সুন্নি সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ডের তৈরি করা ট্রাস্টের এক সদস্য একথা জানান।

সংবাদসংস্থা পিটিআইকে দেওয়া সাক্ষাতকারে ইন্দো ইসলামিক কালচারাল ফাউন্ডেশনের সম্পাদক ও মুখপাত্র আথার হুসেন জানান, ট্রাস্টের আশা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করুন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করুন। তিনি আরও জানান, পাঁচ একর জমিতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মসজিদ তৈরি হবে। একটি হাসপাতাল গড়ে উঠবে, তৈরি হবে গ্রন্থাগার, কমিউনিটি কিচেন ও গবেষণাগার।

তবে এই মসজিদের নাম বাবরি মসজিদ হবে কীনা, তা এখনও ঠিক করা হয়নি বলে জানিয়েছেন আথার হুসেন। ১০-১২ দিনের মধ্যেই এই কাজ শুরু হতে চলেছে।

উল্লেখ্য, যোগী আদিত্যনাথ জানিয়ে ছিলেন, একজন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কোনও বিশেষ ধর্মের বা কোনও বিশেষ আদর্শে তিনি বিশ্বাসী নন। কিন্তু মানুষ হিসেবে তাঁর নিজের ধর্মাচারণের বাইরে অন্য কোনও ধর্মে বিশ্বাসী নন তিনি। একজন যোগী ও হিন্দু হিসেবে কোনও মসজিদের উদ্বোধনে যাওয়া তাঁকে মানায় না।

তবে আদিত্যনাথ বলেন তাঁর মনে হয় না এরকম কোনও আমন্ত্রণ তিনি পাবেন। ফলে তাঁর যাওয়ার কোনও প্রশ্নও উঠছে না। তবে যেদিন এরকম আমন্ত্রণ তিনি পাবেন, দেশের ধর্মনিরপেক্ষতা প্রশ্নের মুখে পড়বে। তাই প্রত্যেকের নিজের ধর্মাচারণকে সম্মান করে নিজেদের গণ্ডীর মধ্যেই থাকা উচিত। তবে সরকারি কাজে ও পরিষেবায় কখনও তিনি বৈষম্য করবেন না বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

তিনি বলেন নিজে হিন্দু হয়ে রোজা বা ইফতারে যোগ দেওয়া, মাথায় ফেজ টুপি পড়ে নমাজ পড়া ধর্ম নিরপেক্ষতার বার্তা দেয় না। মানুষ জানেন এটা নাটক। আর সেই নাটকের অংশ তিনি হতে চান না বলে জানান আদিত্যনাথ। তবে এবার মসজিদের উদ্বোধনে আমন্ত্রণ পেলে মুখ্যমন্ত্রী কী করেন, সেটাই দেখার।

পপ্রশ্ন অনেক: একাদশ পর্ব

লকডাউনে গৃহবন্দি শিশুরা। অভিভাবকদের জন্য টিপস দিচ্ছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ।