লখনউঃ বিতর্ক দূরে সরিয়ে রেখেই উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পদে আদিত্যনাথ! তাঁর নাম মুখ্যমন্ত্রী পদে ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই রাজধানী লখনউ থেকে ২৫০ কিলোমিটার দূরের শহর পুণ্যস্থান গোরক্ষপুর সেজে উঠেছে।  উত্তরপ্রদেশের এই শহরকে মন্দিরশহর বলেও ডাকা হয়। সেই মন্দিরশহরে এখন উৎসবের মেজাজ।  কারণ, এই গোরক্ষনাথ মন্দিরের প্রধান পুরোহিত হলেন যোগী আদিত্যনাথ।  ২৭ বছর ধরে প্রধান পুরোহিতের কাজ সামলে এসেছে যোগী।  ফলে মুখ্যমন্ত্রী এখন তাঁদের ঘরের ছেলে।  আর সেই কারণেই মন্দিরের নিরাপত্তা আরও একপ্রস্থ বাড়ানোর পরামর্শ দিয়ে গিয়েছেন পুলিশ-প্রশাসনের কর্তারা।  কিন্তু গোরখপুরের সাধারণ মানুষ মেতে রয়েছেন ‘মহন্ত’কে নিয়েই।  গোরক্ষনাথ মন্দিরে আসা পূণ্যার্থীদের কে কত বেশি লাড্ডু বিলোবেন, তা নিয়েই প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে আদিত্যনাথের সমর্থকদের মধ্যে।  আর মাঝে মধ্যেই মন্দির চত্বরে শোনা যাচ্ছে ‘যোগী’ ‘যোগী’ ধ্বনি।

হবে নাই বা কেন? মুখ্যমন্ত্রী পদে বসার আগে পর্যন্ত তাঁর দৈনন্দিন জীবন ছিল একেবারে ছকে বাঁধা।  প্রত্যেকদিক ভোর ৩টেয় ঘুম থেকে উঠে ৪ থেকে ৫টা পর্যন্ত যোগব্যায়াম।  এখানেই শেষ নয়, এরপর মন্দির লাগোয়া বাগানে চলত হাঁটা।   হাঁটতে হাঁটতেই মন্দিরের পরিষ্কার আছে কিনা দেখতেন যোগী।  যেখানে নোংরা দেখতেন সঙ্গে সঙ্গে পরিষ্কার করার নির্দেশ যেত।  এরপর সেখান থেকে চলে যেতেন গরু-বাছুরদের কাছে।  তাঁদের খাওয়ানো-পরিচর্চা করতেন একেবারে নিজে হাতে।  সেগুলি তাঁর কাছে খুব প্রিয়। গরু বাছুরদের নামকরন করা থেকে দেখভাল করা সবটাই নিজে হাতেই সামলাতেন।   এরপর নিজের কার্যালয়ে চলে যেতেন তিনি।  মন্দিরের প্রধান পুরোহিত এবং গোরক্ষপুরের সংসদ সদস্য হিসাবে সাধারণের থেকে অভাব-অভিযোগ শুনতে বসে যেতেন ঠিক সকাল ৯টায়।  বেলা ১১টা পর্যন্ত সেই কাজ।  যদি অভাব-অভিযোগের তালিকা দীর্ঘ হত, তবে তাঁর থাকার সময়টাও বেড়ে যেত।

মন্দিরের কর্মচারীরা জানিয়েছেন, ‘একদিনের জন্যও এমন হয়নি যে তিনি কার্যালয়ে আসেননি।’ সকালের জলখাবারে সাধারণত সেদ্ধ ছোলা, পেঁপে, আপেল, ডালিয়ায় থাকে তাঁর। আর মধ্যাহ্নভোজে সেদ্ধ সবজি, ডাল আর রুটি। কোনওদিন যদি মধ্যাহ্নভোজ করতে না পারেন, সেক্ষেত্রে শুকনো ফল।  রাতের রুটিনও এক।  নৈশভোজ করতে না পারলে আপেলসহ অন্যান্য ফল।  তারপর রাত ১১টায় শুতে যাওয়া। সংসদ সদস্য হওয়ার পরও এই রুটিনে ছেদ পড়েনি আদিত্যনাথের।  ঘনিষ্ঠমহল সূত্রে জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে মন্দিরে নিয়ম করে সাধারণের অভাব-অভিজগ শোনা না হলেও অন্যান্য রুটিনগুলি মেনে চলেন।