কলকাতা: বিদ্যাসাগর কলেজের যে ঘরে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ছিল সেই ঘরেই ছিল সিসিটিভি৷ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ওই সিসিটিভির ফুটেজ জনসমক্ষে আনার পরামর্শ দিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ৷ যোগীর মতে, পুলিশ সেই সিসিটিভির ফুটেজ প্রকাশ্যে আনলেই পরিষ্কার হয়ে যাবে কারা বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভেঙেছে৷ যোদী যা বলেছেল, বুধবার সকালে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহও সেই কথাই বলেছেন৷

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিদ্যাসাগর কলেজে যা ঘটেছে, সেই ঘটনার পর্দাফাঁস করতে চাইলেন বিজেপির সর্বভারতীয় অমিত শাহ৷ বুধবার সকালে দিল্লিতে কেন্দ্রীয় বিজেপির কার্যালয়ে বসে অমিত পরিষ্কার অভিযোগ করেছেন, বিদ্যাসাগর কলেজে লোহার মূল ফটক বন্ধ ছিল৷ কলেজের ভিতরে ছিল তৃণমূলের সমর্খকরা৷ বাইরে ছিল বিজেপি৷ মাঝে পুলিশ৷

বিজেপি সমর্থকরা কীভাবে কলেজের ভিতরে ঢুকে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তিতে ভাঙচূর চালালো? সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছিল৷ কলেজ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল৷ ওই ঘরের তালার চাবি কার কাছে ছিল? বাইরে থেকে বিজেপির লোক ভিতরে গিয়ে মূর্তি ভেঙেছে – এটা কতটা বিশ্বাসযোগ্য? কলেজ চালায় তৃণমূল৷ বিজেপির সফল মহামিছিল তাদের সহ্য হয়নি৷

বিজেপির বক্তব্য, পুর ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত৷ তৃণমূলের গুন্ডারা মূর্তি ভেঙে বিজেপির উপর দোষ চাপাচ্ছে৷ বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতির অমিত শাহ দাবি করেছেন, ‘‘নিউজ চ্যানেলের কাছে ঘটনার ফুটেজ রয়েছে৷ ওই ফুটেজ দেখা হোক৷ কে মূর্তি ভাঙলো সিসিটিভির ফুটেজ দেখা হোক৷’’

বিদ্যাসাগর কলেজের মূল ফটক পেরিয়ে বিধানসরণী ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে হয়৷ কাঠের দরজা পেরিয়ে একটি যে ঘরে প্রবেশ করতে হয়, সেই ঘরেই কাঁচের বাক্সে রাখা ছিল বিদ্যাসাগরের মেমেন্টো৷ কে বা কারা ওই কাঁচের বাক্স থেকে মূর্তি ভাঙল – প্রশ্ন উঠেছে৷ অমিত শাহ এদিন সাফ জানিয়েছে, এই ঘটনা ঘটিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস৷

এদিন সাংবাদিক বৈঠকে যোগী দাবি করেন, উত্তপ্রদেশে শেষ দফার বৈঠকের আগে কোনও গণ্ডোগোল হয়নি৷ দেশের কোথাও হয়নি৷ বাংলায় কেন এই অবস্থা তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন৷ যোগীর সাংবাদিক বৈঠকে জানান, বাংলার দূর্গাপূজা, সরস্বতীপূজা হতে পারে না৷ জয় শ্রীরাম ধ্বনি শোনা গেলে সেই ব্যক্তিরা গ্রেফতার হন৷ এই রকম ঘটনা দেশের কোথাও ঘটে না৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুধতে পারছেন না – তিনি যা করছেন তা কোনও গণতান্ত্রিক পরিবেশে শোভা পায় না৷ যে বাংলার জনতা তাঁর মা মাটি মানুষ স্লোগান শুনে তাকে ক্ষমতায় এনেছিল – সাই জনতা তাকে ক্ষমতা থেকে তাড়াবে৷