যোগাসন-এই একটা শব্দের মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে ফিটনেসের যাবতীয় রহস্য৷আর প্রতিদিন যদি যোগাসনের অভ্যেসটা একবার কষ্ট করে রপ্ত করে নিতে পারেন তবে সবদিক থেকেই আপনি হয়ে উঠবেন দ্য বেস্ট৷শারীরিক গঠন, সুস্থতার পাশাপাশি বিকাশ হবে আপনার ব্যক্তিত্বেরও৷এই সবের যোগফলে আপনিও সবদিক থেকে হয়ে উঠবে আরও অনেক অনেক আকর্ষণীয়া৷কোনও গ্রুমিং স্কুলে না গিয়ে শুধুমাত্র যোগাসনের মাধ্যেম আপনি হয়ে উঠতে পারেন সম্পূর্ণ অন্য একজন মানুষ৷ তার জন্যই রইল এক্সক্লুসিভ কিছু টিপস-

১) আপনা মানসিকতাকে দৃঢ় করে: যোগাসন একদিকে যেমন আমাদের শারীরিকভাবে সুস্থ রাখে, তেমনই মানসিক দৃঢ়তা বাড়ানোরও সহায়ক৷ আপনার আত্মবিশ্বাসকে যদি আরও চাঙ্গা করতে হয়, তাহলে যোগাসন সবচেয়ে ভালো বিকল্প৷এমনকী সমীক্ষায় এটাও দেখা গিয়েছে, প্রতিদিন যোগাভ্যাসের মাধ্যমে আপনি নিজেকে , নিজের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আরও বেশি করে ওয়াকিবহাল হয়ে উঠবেন৷ ফলে নিজের চাহিদাগুলো মিটিয়ে এক ধরনের মানসিক তৃপ্তি আপনি লাভ করবেন৷প্রথম প্রথম এত কিছু আপনি হয়েতা বুঝতে পারবেন না৷ কিন্তু ক্রমশ আপনার মধ্যে আসা ভালো পরিবর্তনগুলো আপনার মনোযোগ আকর্ষণ করবেই করবে৷

২)  ধরে রাখুন শরীরের অ্যাপীল: যদি রাতদিন, সাতদিনই আপনি মানসিক চাপে থাকেন, তাহেল না তো আপনার বাহ্যিক চেহারায় কোনও সৌন্দর্য থাকবে, না তো সেক্স অ্যাপীল, আর না তো কোনও ঔজ্জ্বল্য৷আপনাকে টেনশন ফ্রি রাখার অব্যর্থ দাওয়াই যোগাসন৷ফলে আপনার মনের মধ্যে বাড়বে পজিটিভ ভাবনাচিন্তা, সমস্যার মোকাবিলাও আপনি করতে পারবেন শক্ত হাতে৷ যাকে খাঁটি বাংলায় বলে একেবারে কোমর বেঁধে নামা৷

৩) শান্ত ও সংযত রাখে: যোগাসনের মাধ্যেম আপনি সম্পূর্ণ অন্য মানুষ হয়ে উঠবেন, তা তো আগেই বলা হয়েছে৷ মানে আপনার ব্যক্তিত্বে আসবে ব্যাপক  রদবদল৷ কারণ এটি আপনাকে নম্র, শান্ত, সংযত রাখারও সহায়ক৷শুধু তাই নয়, আপনার পুরনো ভুলত্রুটি শুধরে, ধৈর্য্য ধরে কোনও সমস্যার সমাধান করা বা কাউকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার মতো ইতিবাচক দিকগুলো ক্রমশ আপনার স্বভাবের অঙ্গ হয়ে উঠবে৷ না তো কোনও কাউন্সেলিং দরকার , না কোনও থেরাপি, বাড়িতে নিয়মিত আধঘণ্টা-পঁয়তাল্লিশ মিনিট যোগাসনেই আপনি একসময় নিজের কাছেই হয়ে উঠবেন অনন্য৷

৪) হাসতে নেই কো মানা: মুড ভালো রাখতে চান? বা আপনার চারপাশের লোকজন সবসময় আপনাকে হাসিখুশি দেখতে ভালোবাসে? তাহলে একদিনও যোগাসন বাদ দেবেন না৷যোগাসনে  সকালে আঘধণ্টার বডি টোনিং রাখবে আপনার মুড তরতাজা৷ কারণ এক্সারসাইজের সময় শরীর থেকে বেরনো এন্ডেরফিন হরমোনই এর জন্য দায়ী৷ আর শুধুমাত্র সকালেই যোগা করতে হবে, এমন কোনও হার্ড অ্যান্ড ফার্স্ট রুল নেই৷ নিজেকে স্ট্রেসড মনে হলেই মিনিট দশেকের ব্রেক নিয়ে মন দিন যোগাতে৷ পরিবর্তনটা আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন৷ তবে যোগাসনের সময় রান্নার মাসি আসেনি কেন আর অফিসের অ্যাপ্রাইজালের কথা ভাবতে থাকলে, পুরো পরিশ্রমাটই জলে যাবে৷

৫) শরীরকে করুন আরও  ফ্লেক্সিবল: বডি ফিটনেস  বাড়াতে অনেকে জিম বা ওয়েট লিফটিংয়ের আগে যোগাসন করা পছন্দ করপেন৷ এতে শরীরের অতিরিক্ত মেদ তো ঝরেই যায়, সঙ্গে বাড়বে ফ্লেক্সিবিলিটি৷ জয়েন্টের ব্যথার মতো সমস্যাগুলো আপনাকে তাড়া করে বেড়ায় না৷ কথায় বলে না সুস্বাস্থ্যই সম্পদ৷ আর শরীর যদি ঠিক না থাকে, তাহলে চারপাশের নানা ঝড়ঝাপটা আপনি সামলাবেনই বা কী করে!

৬) ৩৬-২৪-৩৬: যোগাতে একদিকে যেমন বাড়ে মনঃসংযোগ, তেমনই অতিরিক্ত ওজন কমিয়ে ফেলাও সম্ভব৷নিয়মিত যোগাতে ৩৬-২৪-৩৬-এর স্লিম সুন্দরী হয়ে ওঠা আপনার শুধু সময়ের অপেক্ষা৷ আর ওজন কমলেই আয়নায় নিজেকে দেখতে কার না ভালো লাগে? আর অন্যের মুখে যখন নিজের ফিগারের প্রশংসা মানে বডি পশ্চারের প্রশংসা যখন শুনবেন তখন অবধারিতভাবেই আপনার মধ্যে একটা ফিল গুড ব্যাপার চলে আসবে৷

৭) থাকুর এভারগ্রিন: যোগাসনে সারা শরীরে রক্তসঞ্চালনও খুব ভালো ভাবে হয়৷ফলে স্কিনটোন থাকে দারুণ, অকালে চামড়া কুঁচকে যায় না আর আপনার ত্বুকেও আসে আলাদা জেল্লা৷কারণ যোগাসনের বডি মুভমেন্টের মাধ্যমে শরীরের কোথাও জমে থাকা অতিরিক্ত ফ্লুইড ঠিকমতো সঞ্চালিত হয়৷ ফলে চেহারায় ফুটে ওঠে না কোনও অস্বাভাবিকত্ব৷ তবে শরীর মন ভালো রাখতে শুধু বসে বসে ধ্যান করলেই হবে না৷ বিশেষজ্ঞের পরামর্শে বেশ কয়েকটি ভঙ্গিতে নিয়মিত আধঘণ্টাটাক প্র্যাক্টিস করতে হবে যোগাসন৷