সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা : যোগ ব্যয়ামের মাধ্যমেই সারতে পারে ডায়াবেটিস। এমনটাই মনে করছেন চিকিৎসকরা। ১৪নভেম্বর বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবসে তাঁদের যুক্তি নিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রার পাশাপাশি যোগ ব্যায়াম করলেও ডায়াবেটিস নিজের আয়ত্বে থাকবে। তবে সেই অভ্যাস রেখে দিতে হবে। অনিয়মিত হলেই ফের সমস্যায় ফেলতে বেশি সময় লাগে না এই রোগের।

মানুষের বিভিন্ন সমস্যার মধ্যে অন্যতম সমস্যা এখন ডায়াবেটিস। ২৭তম বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবসে শহরের চিকিৎসকদের পরামর্শ এই রোগকে নিয়ন্ত্রনে রাখতে অনিয়ন্ত্রত জীবনকে বিয়োগের খাতায় ফেলে জীবনে যোগ করুন যোগ ব্যায়াম। এটাই একমাত্র উপায়, যার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রনে থাকে এই রোগ। ঠিক পথে চললে সেরে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে দাবি করছেন চিকিৎসকরা।

এই রোগ সম্বন্ধে মানুষকে আরও সচেতন করতে সুরক্ষা ডায়গনেস্টিক একটি ডায়াবেটিস ক্যাম্পের আয়োজন করেন। সেখানেই চিকিৎসকরা যোগের বিধান দেন। দেওয়া হয় স্পেস্যাল যোগের ট্রেনিংও। বিশেষ করে জোর দেওয়া হয় প্রানায়মের উপর। দিনে ১০ মিনিট প্রানায়ম করলে অন্তত ১৫০ থেকে ২০০ পয়েন্ট একদিনে কমে যায় ডায়াবেটিস। সুরক্ষার এই আয়োজনে যোগদান করেছিলেন ২০০ জন মানুষ। তাঁরা প্রত্যেকে এই যোগ ব্যায়াম করেন। পাশাপাশি এই ক্যাম্পে ফ্রি ডায়াবেটিস চেক আপের ব্যবস্থাও করা হয়েছিল।

ডায়াবেটিস একটি বিপাকজনিত রোগ। আমাদের শরীরে ইনস্যুলিন নামের হরমোনের সম্পূর্ণ বা আপেক্ষিক ঘাটতির কারণে বিপাকজনিত গোলযোগ সৃষ্টি হয়ে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় এবং এক সময় তা প্রস্রাবের সঙ্গে বেরিয়ে আসে। এই সামগ্রিক অবস্থাকে ডায়াবেটিস বলে। এই রোগে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ দীর্ঘস্থায়ীভাবে বেড়ে যায়। সুস্থ লোকের রক্তে প্লাজমায় গ্লুকোজের পরিমাণ অভুক্ত অবস্থায় ৫.৬ মিলি মোলের কম এবং খাবার দুই ঘণ্টা পরে ৭.৮ মিলি মোলের কম থাকে। অভুক্ত অবস্থায় রক্তের প্লাজমায় গ্লুকোজের পরিমাণ ৭.১ মিলি মোলের বেশি হলে অথবা ৭৫ গ্রাম গ্লুকোজ খাওয়ার দুই ঘণ্টা পরে রক্তের প্লাজমায় গ্লুকোজের পরিমাণ ১১.১ মিলি মোলের বেশি হলে ডায়াবেটিস হয়েছে বলে গণ্য করা হয়।

চিকিৎসক পার্থ সারথি মণ্ডল জানিয়েছেন, “ডায়াবেটিসকে আমরা সাইলেন্ট কিলার রোগ বলি। ধীরে ধীরে শরীরের সব অঙ্গকে নষ্ট করে দেয় এই রোগ। কখন যে এই রোগে আপনি আক্রান্ত হয়ে পড়বেন তা বোঝাও খুব কঠিন। তাই সবসময় সতর্ক থাকতে হবে।” তিনি এও জানিয়েছেন, “যখন আপনি বুঝতে পারবেন আপনার কোনও সমস্যা হচ্ছে ততক্ষনে এই রোগ শরীরে বাসা বেঁধে ফেলবে। ডায়াবেটিস ক্ষতি ছাড়া আর কিছু করে না।”
ভারতে ৬ কোটি ৯২ লক্ষ মানুষ এই মুহূর্তে ডায়াবেটিস আক্রান্ত। এই সংখ্যা ক্রমবর্ধমান বলেই দাবি করছেন চিকিৎসকরা। চিকিৎসকরা এও জানাচ্ছেন শুধু একরকমের নয় দুই থেকে তিন ধরনের ডায়াবেটিস রোগ ইতিমধ্যেই প্রবেশ করেছে এই দেশে যা নিয়ে মানুষ একেবারেই সচেতন নয়।

ড:সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “প্রধানত ডায়াবেটিস ২ টাইপ দানা বাঁধে অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের কারনে। আজকের ব্যস্ততাই এর কারণ। আর পারিবারিক সমস্যা থাকলে আরও তারাতারি এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে কারণ রক্তের মধ্যে ওই ধারা থেকেই যায় যাকে উস্কানি দেয় বেলাগাম জীবনযাপন।” তাঁরও পরামর্শ প্রাত্যহিক যোগ ব্যায়ামের অভ্যাস তৈরি করা।

- Advertisement -