কলকাতা: নাগরিকত্ব আইন ও এনআরসি নিয়ে জাতীয়স্তরে আন্দোলনের ক্ষেত্রে তৃণমূল-সঙ্গে আপত্তি নেই সিপিএম সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরির। এমনকী এই ইস্যুতে তৃণমূলকে সঙ্গে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামতেও সমস্যা নেই সিপিএমের। কলকাতায় এমনই মন্তব্য করলেন সিপিআইএম নেতা সীতারাম ইয়েচুরি।

নাগরিকত্ব আইন নিয়ে কেন্দ্র-বিরোধিতায় সরব বামেরাও। দেশের একাধিক রাজ্যে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে পথে নেমেছে বামেদের শরিক দলগুলি। এবার সীতারাম ইয়েচুরি জানালেন সিএএ ও এনআরসি নিয়ে জাতীয়স্তরে তৃণমূলের সঙ্গে একজোটে লড়াই করতে সিপিএমের আপত্তি নেই। নাগরিকত্ব আইন ও এনআরসি নেয় রাজ্যে আলাদাভাবে আন্দোলনে নেমেছে তৃণমূল ও বামেরা। তবে এই একই ইস্যুতে জাতীয়স্তরে তৃণমূলের সঙ্গে একমঞ্চে থাকতে আপত্তি নেই বামেদের বড় শরিক সিপিএমের।

এই প্রসঙ্গে সিপিএম সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি জানান, এনআরসি-সিএএ-র প্রতিবাদে একজোট হয়েছে বিরোধীরা। দেশজুড়ে সিএএ ও এনআরসির প্রতিবাদে আন্দোলন হচ্ছে। একই ইস্যুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও তো আন্দোলন করছেন। তাঁর সঙ্গে জাতীয়স্তরে আন্দোলন করতে কোনও সমস্যা নেই।

তবে সবার আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে বলে সাফ জানিয়েছেন ইয়েচুরি। এরই পাশাপাশি দিল্লিতে বিজেপি-বিরোধীদের বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গরহাজির থাকা নিয়েও সমালোচনা করেছেন সিপিএম সাধারণ সম্পাদক। এই প্রসঙ্গে ইয়েচুরি বলেন, ‘দিল্লিতে বিরোধীরা বৈঠক ডেকেছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই বৈঠকে যাননি। রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের সঙ্গে আমাদের বিরোধিতা রয়েছে। কিন্তু জাতীয়স্তরে তাঁর সঙ্গে একজোটে আন্দোলন করতে আমাদের কোনও সমস্যা নেই।’

দিন কয়েক আগে পোর্ট ট্রাস্টের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে কলকাতায় এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ওই দিন বিকেলে রাজভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই বৈঠকের পরেই আবার ধর্মতলায় এনআরসি ও সিএএ বিরোধিতায় ধরনায় যোগ দেন। সেই প্রসঙ্গে ইয়েচুরি বলেন, ‘মোদীর সঙ্গে বৈঠক করলেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। সেই বৈঠকের পরই গেলেন এনআরসি বিরোধী মঞ্চে। আগে তাঁকে তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে।’

যদিও কলকাতায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে রাজ্যের দাবি-দাওয়ার প্রসঙ্গ নিয়েই মূল আলোচনা হয় বলে জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে নাগরিকত্ব আইন ও এনআরসির বিরোধিতার কথাটিও প্রধানমন্ত্রীকে স্পষ্ট ভাষায় তিনি জানিয়েছেন বলেও সাংবাদিকদের জানান। রাজ্য সরকার ওই দুই আইনের প্রবলভাবে বিরোধিতা করছে বলেও নরেন্দ্র মোদীকে জানান মুখ্যমন্ত্রী।