অন্তর্বাস! নামটা শুনলেই পুরুষ হৃদয় তোলপাড়৷ কারণ এই শব্দতেই আবৃত নারী সৌন্দর্য৷ পৃথিবীর প্রায়  সব মহিলাই যে অন্তর্বাসটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করেন সেটি  হল বক্ষবন্ধনী বা ব্রেসিয়ার৷ আর সেই বন্ধনীরই একশো বছর পূর্তি হল সম্প্রতি৷  অনেকেই ভাবতে পারেন নোংড়া বিষয় নিয়ে নাড়াঘাটা করছি৷ কিম্বা ওয়েবসাইটের ফলোয়ার বাড়াবার ইউএসপি৷ কিন্তু এটি যেমন তেমন বিষয় নয়৷ এর সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছে ইতিহাস, অতীত, বাস্তব এমনকী বিপ্লবও৷
আজ থেকে ১০০ বছর আগে এই বক্ষবন্ধনীর পেটেন্ট নথিভুক্ত হয়৷ তারিখটা ছিল ১২ ফেব্রুয়ারী ১৯১৪৷ তাই, ফেব্রুয়ারি মাস জুড়েই বিশ্বের নানা দেশে অন্তর্বাসের শতবর্ষে নতুন নতুন কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে৷এই ব্রেসিয়ার প্রথম তৈরি করেছিলেন মেরি ফিল্পস জেকব মামের এক মহিলা৷ তখন মেরির বয়স মাত্র ২৩ বছর৷  তিনিই প্রথম এই ব্রা-য়ের পেটেন্ট নথিভুক্ত করেন৷ অবশ্য পরে মাত্র দেড় হাজার ডলার মূল্যে এই পেটেন্টটি বেঁচেও দিয়েছিলেন মেরি৷ ভাবুনতো আজ থেকে একশো বছর আগে দেড় হাজার ডলার কি মুখের কথা৷ যিনি এটি কিনেছিলেন তার দূরদর্শিতার কথাটাও একবার ভাবুন৷
মহিলাদের উপর অত্যাচার শুধু যে এ যুগে তার কিন্তু নয়৷ সৃষ্টির ইতিহাস ঘেঁটে দেখলে নারী জন্মের প্রথম দিন থেকেই অত্যাচারিত সে৷ কি ভাবছেন মাথায় সিঁদুর, পায়ে আলতা এসব কেবলই সাজগোজের অঙ্গ? সেযুগে মাথার সিঁথি তীরের ফলা দিয়ে চিড়ে দেওয়া হত এমকী পায়ের আলতার গপ্পোও একই নিয়মের অধীনে৷  পুরুষের নারী জয়ের প্রতীক ছিল এটি এমনকি আজও আছে৷ ঠিক তেমনই সেযুগে বক্ষযুগল আগলে রাখতে নারীরা বস্ত্রের নীচে পরিধান করতেন কর্সেট৷ এটি ছিল এক ধরণের বর্ম, তিমি মাছের হাড় দিয়ে তৈরি হুপ যুক্ত৷ কাজেই এর ওজন কতটা হতে  পারে তা আশা করি বুঝিয়ে বলার দরকার নেই৷ ঠিক এমন সময়েই মেরির এই ব্রা আবিষ্কার অবশ্যই নারী মুক্তির সমতুল্যই বলা চলে৷
বক্ষবন্ধনী কেবল নারী পরিধানের অঙ্গ হয়ে থাকেনি৷ নারীমুক্তি, নারী বিপ্লবের প্রতীকী হয়ে দাঁড়িয়েছে কালে কালে৷ ষাটের দশকে নারীমুক্তি আন্দোলন যখন চরমে, তখন ইউরোপ-আমেরিকার মহিলারা তাদের ব্রা পুড়িয়ে পুরুষ-শাসিত সমাজব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান৷ দেশ, সংস্কৃতি ও কাল একটি প্রতীক্ অর্থ ও গুরুত্বপূর্ণতা নির্ধারন করে৷ তাই মিশরের একটি সাম্র্তিক আন্দলনেও নীল রঙের ব্রা পরে আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন মহিলারা৷

mery-bra
মেরি ফিল্পস জেকব নামের এই মহিলা প্রথম ব্রেসিয়ার তৈরি করেছিলেন৷

শুধু ইতিহাস বা আন্দোলন নয় নারী ও পুরুষের যৌনতা প্রকাশ পায় এই বিশেষ পরিধেয়টির মাধ্যমে৷ ফ্যাশন জগতেই দিন দিন নিত্য নতুন ছোঁয়া লাগে এই বস্ত্রে৷ পুঁজিবাদের আমলে এই বিশেষ অন্তর্বাস নির্মাতা মার্কিন কোম্পানি ভিক্টোরিসা’স সিক্রেট-এর এই মণি-মাণিক্য খচিত ফ্লোরাল ফ্যান্টাসি ব্রায়ের দাম হয়েছিল প্রায় ২৫ লক্ষ ডলার৷ যত  দিন যাচ্ছে এই বিশেষ পোষাকের উপর চলছে একের পর এক এক্সপেরিমেন্ট৷ পরিবেশ সচেতনতা থেকে দেশজ সংস্কৃতির ছোঁয়া দিতে ভারতেও তৈরি হয় বিভিন্ন ধরণের ব্রা৷
নারীবাদ বা নারী অন্দোলনের ক্ষেত্রে শুধু ব্রা পুড়িয়েই ক্ষান্ত থাকেননি বিশ্বের নারী৷ উম্নুক্ত নারীদেহও হয়ে উঠেছে অন্দোলনের প্রতীক৷ এমন ঘটনার সাক্ষী হতে হয়েছে আমাদের বারবার৷ তাই ক্ষুদ্র এই নারী বস্ত্রকে তুচ্ছ করা একেবারেই সাজে না৷ একবার ভেবে দেখুন এই অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ ছেড়ে নারী যদি উন্মুক্ত হয়ে আপনার সামনে প্রতিবাদের ভাবমুর্তিতে এসে দাঁড়ায় চোখ তুলে চাইতে পারবেন তো?

 

=================================================================================================