লন্ডন: প্রায় সাত দিন অতিক্রান্ত। ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে উইকেটের পিছনে দস্তানা হাতে তাঁর হাই তোলার মুহূর্তের ছবি এখনও ট্রেন্ডিং অন্তর্জাল দুনিয়ায়। কিন্তু যার হাই তোলাকে কেন্দ্র করে এত কান্ড এত মিম, সেই পাক অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ কিন্তু তাঁর হাই তোলার ঘটনায় যথেষ্ট ইতিবাচক।

এমনকি চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিরুদ্ধে হার কিংবা ফিটনেস সংক্রান্ত ইস্যুতে বিন্দুমাত্র বিচলিত নন। বরং দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচের আগেরদিন সাংবাদিক সম্মেলনে তাঁকে নিয়ে তৈরি হওয়া হাজারো মিমের পালটা দিলেন স্বকীয় ঢঙেই। স্পষ্ট জানালেন, হাই তোলা খুবই সাধারণ একটি ঘটনা। বিশ্বব্যাপী ক্রিকেট অনুরাগীদের বিদ্রুপ প্রসঙ্গে শনিবার সাংবাদিক সম্মেলনে সরফরাজ জানালেন, ‘হাই তোলা সাধারণ একটি ঘটনা, আমি কোনও পাপ করিনি। যদি তাঁর হাই তোলার ঘটনা মানুষের অর্থ উপার্জনের রাস্তা করে দেয়, তাহলে সেটা খুবই ভালো ব্যাপার।’

আরও পড়ুন: আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরিয়েছিল আফগানিস্তান, ম্যাচ জিতে জানালেন কোহলি

ভারতের বিরুদ্ধে হারের পর অনুরাগী থেকে শুরু করে দেশের প্রাক্তন ক্রিকেটারদের একের পর এক সমালোচনায় এমনিতেই বিদ্ধ হচ্ছিলেন পাক অধিনায়ক। তার উপর কাটা ঘায়ে নুনের ছিঁটের মতো সঙ্গী হয় তার ফিটনেস ইস্যু। গত সাতদিন ধরে মিম লাভারদের কাছে হটকেকের মতো বিকোতে থাকে সরফরাজের হাই তোলার মুহূর্তের ছবি এবং তাঁর ফিটনেস ইস্যু। কিন্তু ভারত ম্যাচ ভুলে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামার আগে বাইশ গজে হাই তোলার ঘটনাকে ‘সাধারণ ঘটনা’ আখ্যা দিয়ে পালটা মিমারদের কটাক্ষ ছুঁড়ে দিলেন পাক দলনায়ক।

আরও পড়ুন: পেরুকে পঞ্চবাণে বিঁধে কোপার কোয়ার্টারে ব্রাজিল

উল্লেখ্য ভারতে বিরুদ্ধে ম্যাচ হারের পর সরফরাজকে ‘মস্তিষ্কহীন অধিনায়ক’ হিসেবে অভিহিত করে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে টস জিতে তাঁর প্রথমে ফিল্ডিং নেওয়ার সিদ্ধান্তের তুলোধনা করেন প্রাক্তন স্পিডস্টার শোয়েব আখতার। তবে পাক অধিনায়ক নিজেকে একা কাঠগড়ায় না তুলে দলের ছেলেদের হুঁশিয়ার বার্তায় জানান যে দেশে তিনি একা ফিরবেন না। সবমিলিয়ে ভারত-পাক ম্যাচের পর থেকে সরফরাজকে ঘিরে অপেক্ষা করেছিল পরতে পরতে নাটক। সবমিলিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচের আগেরদিন সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সেই নাটকের পর্দা টানতে চাইলেন পাক দলনায়ক।

৫ ম্যাচে মাত্র ৩ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলে নয় নম্বরে থাকা পাকিস্তানের রবিবারের লড়াই লিগ টেবিলে আটে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে। নক-আউটের দৌড়ে টিকে থাকতে হলে লর্ডসে জয় ছাড়া গতি নেই। এমন পরিস্থিতিতে ঘুরে দাঁড়িয়ে কতটা উজ্জীবিত ক্রিকেট উপহার দিতে পারে সরফরাজ অ্যান্ড কোম্পানি, সেটাই এখন দেখার বিষয়।