পোচেস্ট্রুম: ৫ ম্যাচে ৩১২ রান করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রানস্কোরার হওয়ার বিষয়টি মোটামুটি নিশ্চিতই ছিল। তবে রানের খিদে কমেনি যশস্বী জয়সওয়ালের। রবিবাসরীয় পোচেস্ট্রুমে মেগা ফাইনালেও যশস্বীর উইলো থেকে এলো ঝকঝকে ৮৮ রানের ইনিংস। সেইসঙ্গে তৃতীয় ব্যাটসম্যান একটি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ৫টি অর্ধশতরানের নজির গড়লেন উত্তরপ্রদেশের এই ব্যাটসম্যান।

গলি থেকে রাজপথে উত্থান। পেট চালানোর তাগিদে একসময় মুম্বইয়ের ফুটপাথে বিক্রি করতেন ফুচকা। এহেন যশস্বীকে নিয়ে চলতি বিশ্বকাপে প্রত্যাশী ছিলেন দেশের ক্রিকেট অনুরাগীরা। নিরাশ করলেন বাঁ-হাতি ওপেনার। টুর্নামেন্টে ৪০০ রান করে সর্বোচ্চ রানস্কোরার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা তো করলেনই, সেইসঙ্গে একটি শতরান সহ ৫টি অর্ধশতরান হাঁকিয়ে রেকর্ডের খাতায় নাম তুলে ফেললেন যশস্বী। এর আগে টুর্নামেন্টের একটি সংস্করণে সর্বোচ্চ ৫টি অর্ধশতরানের নজির ছিল অস্ট্রেলিয়ার ব্রেট উইলিয়ামস (১৯৮৮) ও ভারতেরই সরফরাজ খানের (২০১৬) দখলে।

এদিন অর্ধশতরান পূর্ণ করে উইলিয়ামস ও সরফরাজের সঙ্গে একাসনে জায়গা করে নিলেন যশস্বী। অর্ধশতরান পূর্ণ করে ধীরে-ধীরে আরও একটি শতরানের দিকে ভালোই এগোচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু ৮৮ রানে শরিফুলের ডেলিভারিতে ঠকে গিয়ে নিশ্চিত শতরান হাতছাড়া করেন তিনি। যশস্বী যখন আউট হন ভারতের রান তখন ৩৯.৫ ওভারে ৪ উইকেটে ১৫৬। বাঁ-হাতি ওপেনারের উইকেট পতনের সঙ্গে সঙ্গেই ফাইনালে ভারতীয় ব্যাটিং লাইন-আপে অন্ধকার নেমে আসে। ভারতীয় দল শেষ ৭টি উইকেট হারায় মাত্র ২১ রানে।

টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে মাত্র ১৭৭ রানেই গুটিয়ে যায় ভারত। অর্থাৎ, প্রথমবার ট্রফি জিততে বাংলাদেশের প্রয়োজন ১৭৮ রান। মাত্র তিনজন ভারতীয় ব্যাটসম্যান দু’অঙ্কের রানে পৌঁছতে সক্ষম হন। বল হাতে ফাইনালে দাপট দেখালেন বাংলাদেশী সিমাররা। তিন সিমারে মাঠে নামার সুফল পেল আকবর আলির দল।

৯ ওভারে ৪০ রান দিয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নিলেন অভিষেক দাস। ২টি করে উইকেট নিলেন শরিফুল ইসলাম ও তানজিম হাসান। মাত্র ১টি উইকেট নিলেও বল হাতে সবচেয়ে কৃপণ বাঁ-হাতি স্পিনার রাকিবুল ইসলাম। ১০ ওভারে মাত্র ২৯ রান খরচ করলেন তিনি।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প