কলকাতা : মমতা বন্দোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটেছিল। তবে সেবার মমতার সঙ্গে কংগ্রেস এসইউসিআই সহ বেশকিছু  দলের সঙ্গে জোট হয়েছিল। কিন্তু তার পাঁচ বছর বাদে যখন ফের বিধানসভা নির্বাচন হচ্ছে তখন পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে গিয়েছে। ২০১১ সালের মতো এবারেও ৬দফায় ভোট হয়েছিল।

ফাইল ছবি

এদিকে এর মাঝে আবার ২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচন হয়েছে। কেন্দ্রে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকারের অবসান ঘটেছে। ক্ষমতায় এসেছেন বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার। নরেন্দ্র মোদী হয়েছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী। ওই লোকসভা ভোটে গোটা দেশে বিজেপি ভালো ফল করলেও পশ্চিমবঙ্গের তেমন প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি। বরং তৃণমূল ভালো ফল করে।ওই ভোটে রাজ্যের ৪২টি  আসনের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস পায় ৩৪টি আসন। অন্যদিকে দুটি করে আসন পেয়েছিল সিপিএম, বিজেপি এবং কংগ্রেস।

২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার জন্য মমতার স্লোগান ছিল পরিবর্তন ‌। এই পরিবর্তনের অর্থ ছিল দীর্ঘ ৩৪ বছরের বাম জমানায় পরিবর্তন। কিন্তু পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকার পর মমতা সরকারের কাজকর্ম নিয়ম শহর অঞ্চলের মানুষের মধ্যে অসন্তোষ দেখা যাচ্ছিল। তাছাড়া তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল তিনি ভোট ব্যাংকের জন্য নানাভাবে সংখ্যালঘু তোষণ করছেন। আর দলীয় কর্মীরা সিন্ডিকেটের নাম করে তোলা নিচ্ছে বলে বিভিন্ন মহলে অভিযোগ উঠছিল। ‌ তাছাড়া তৃণমূল শাসনকালের সারদা গোষ্ঠীর আর্থিক কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আসে। যা অবশ্যই চাপে ফেলে দেয় তৃণমূলকে। তাছাড়া ভোটের আগে নারদা নিউজ স্টিং অপারেশনের ঘটনা রীতিমতো আলোড়ন ফেলে তখন আর বিড়ম্বনায় ফেলেছিল তৃণমূলকে। অন্যদিকে শিল্প বিনিয়োগের অভাব, আইন শৃংখলার অবনতি এই নির্বাচনের ইস্যু হয়ে ওঠে। আবার তারই মধ্যে কলকাতায় উড়ালপুল বিপর্যয়ের মত ঘটনা ঘটে। এইসব ইস্যুগুলো নিয়ে বিরোধীরা শাসক তৃণমূলের বিরুদ্ধে ভোটের ময়দানে নেমে পড়ে।

ফাইল ছবি।

সব মিলিয়ে যা পরিস্থিতি তারজন্য ২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে কিছুটা চাপে ছিল তৃণমূল কংগ্রেস । কিন্তু শেষমেশ ভোটের ফলাফল তাদের অনুকূলে যায়। ১৯৬২ সালের পর এই প্রথম কোনও রাজনৈতিক দল জোট না করে একক শক্তিতে ক্ষমতায় আসে। নির্বাচনে বামফ্রন্টের সঙ্গে আসন সমঝোতা করে কংগ্রেস। এই ভোটে ২৯৪টি আসনের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস ২১১টি আসন জেতে। কংগ্রেস জিতেছিল ৪৪টি আসন। শোচনীয় অবস্থা হয় বামফ্রন্টের মাত্র ৩২ টি আসন জেতে। ফের মুখ্যমন্ত্রী হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিরোধী দলনেতা হন আব্দুল মান্নান এবং বাম পরিষদীয় দলনেতা হন সুজন চক্রবর্তী।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.