লন্ডন: গ্রুপের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বড় ব্যবধানে জয়। তবু শেষ চারে যোগ্যতা অর্জনের প্রশ্নে প্রয়োজনীয় শর্তাবলী পূরণ করতে না পারায় বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল পাকিস্তান। নেট রান রেটের নিরিখে পাকিস্তানকে ছাপিয়ে চতুর্থ দল হিসেবে শেষ চারে জায়গা করে নিল নিউজিল্যান্ড। স্বাভাবিকভাবেই ৯৪ রানে ম্যাচ জিতে হতাশ পাকিস্তান কোচ মিকি আর্থার জানালেন, নেট রান রেটের তুলনায় হেড টু হেড নির্ণায়ক হলে তা দলের পক্ষে সমীচীন হতো।

শুক্রবার টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গিয়ে পাকিস্তানের প্রোটিয়া কোচ মিকি আর্থার জানান, ‘আইসিসি নেট রান রেটের বদলে হেড টু হেড রেকর্ডকে নির্ণায়ক করলে আজ আমরা সেমিফাইনালে পৌঁছে যেতাম। আমার মনে হয় এদিকে একটু নজর দেওয়া উচিৎ ছিল।’ আর্থারের মতে ম্যাচ জয়ের সংখ্যা তারপর হেড টু হেডকে প্রাধান্য দেওয়া উচিৎ ছিল এবং সবশেষে তিনটি দলের পয়েন্ট সংখ্যা সমান হলে সেক্ষেত্রে নেট রান রেট বিচার্য বিষয় হিসেবে গণ্য হতো।’

একইসঙ্গে পাকিস্তান কোচের মতে বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে শোচনীয় হারই তাদের রান রেটের প্রশ্নে অনেকটা পিছিয়ে দিয়েছে। ওই অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়ানো এককথায় অসম্ভব। তাই পরের ম্যাচে ইংল্যান্ডের মতো হেভিওয়েট দলকে হারিয়ে মোমেন্টাম ফিরে পেলেও নেট রান রেট আয়ত্তে আনা সম্ভব হয়নি। যা খুবই হতাশার।’

পাশাপাশি ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচের পর প্রবল সমালোচিত সরফরাজকে এদিন প্রশংসায় ভরিয়ে দেন পাকিস্তান কোচ। তিনি জানান, ‘ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচের পর যেভাবে ও নিজেকে শান্ত রেখে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে তা এককথায় অনবদ্য। ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ হারের পর বাকি টুর্নামেন্টে সরফরাজ অনেক বেশি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিল। অধিনায়ক হিসেবে ড্রেসিংরুমে বাকিদের উদ্বুদ্ধ করত সে।’

উল্লেখ্য ভারতের বিরুদ্ধে হারের পর টানা চার ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশকে হারালেও নেট রান রেটে পিছিয়ে পড়তে হল পাকিস্তানকে। নিউজিল্যান্ডের মতই সমসংখ্যক ম্যাচ জিতে সমান পয়েন্টে দাঁড়িয়েও শেষ চারের স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেল মেন ইন গ্রিনের। কিন্তু গ্রুপ পর্বে নিউজিল্যান্ডকে হারানোয় হেড টু হেড নির্ণায়ক হলে ফলাফল যেত পাকিস্তানের পক্ষে। স্বাভাবিকভাবেই গ্রুপ পর্বের শেষ ৪টি ম্যাচে নিজেদেরকে দক্ষতার শীর্ষে নিয়ে গিয়েও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে ‘৯২ বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।

শুক্রবার বাংলাদেশের গ্রুপের শেষ ম্যাচে টস জিতে লাইফলাইন পায় পাকিস্তান। ইমাম উল হকের শতরান ও বাবর আজমের ৯৬ রানের সৌজন্যে ৫০ ওভারে ৩১৫ রান তুলতে সমর্থ হয় তাঁরা। এরপর সেমিফাইনালে যেতে হলে মাত্র ৭ রানের মধ্যে অল-আউট করতে হত বাংলাদেশকে। তাই বাংলাদেশের ৭ রান পেরনোর সঙ্গে সঙ্গেই এদিন শেষ হয়ে যায় সরফরাজের দলের শেষ চারের স্বপ্ন। যদিও বাঁ-হাতি শাহিন শাহ আফ্রদির ৩৫ রানে ৬ উইকেটে ভর করে ৯৪ রানে জয় ছিনিয়ে নেয় তাঁরা। বাংলাদেশ গুটিয়ে যায় ২২১ রানে।