লখনউ: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ডাকা সর্বদলীয় বৈঠকে অনুপস্থিত বেশ কয়েকটি বিরোধী রাজনৈতিক দল৷ এর মধ্যে রয়েছে মায়াবতীর বহুজন সমাজ পার্টি৷ লোকসভার অধিবেশন শুরুর আগেই বিরোধীদের একজোট হয়ে কাজ করার বার্তা দিয়েছিলেন মোদী৷ সেই লক্ষ্যেই বুধবার সর্বদলীয় বৈঠকের ডাক দেন তিনি৷

তবে সেই পথে হাঁটতে নারাজ বিএসপি নেত্রী৷ প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা আগেই তিনি বলেন এই বৈঠকে তিনি যেতেন, যদি বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় হত ভোটে ইভিএমের অনৈতিক ব্যবহার, তাহলে হয়তো বৈঠকে তাঁকে দেখা যেত৷

আরও পড়ুন : মতাদর্শ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্যুত হয়েছেন মমতা, তৃণমূল ছেড়েই তোপ বিধায়কের

বিএসপি নেত্রীর অভিযোগ যেভাবে শক্তি প্রদর্শন করে বিজেপি এই নির্বাচনে ইভিএমের অনৈতিক ব্যবহার করেছে, তারপর থেকেই নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপরে সাধারণ মানুষের ভরসা উঠে গিয়েছে৷ ব্যালট পেপারে নির্বাচন করার দাবি জানিয়ে মায়াবতী বলেন গণতন্ত্রের মূলে আঘাত করার জন্য ইভিএমের কারচুপি দায়ি৷ এই বৈঠকে ইভিএম ইস্যু উঠে এলে বিএসপি অবশ্যই প্রধানমন্ত্রীর ডাকা সর্বদলীয় বৈঠকে যোগ দিত৷

এদিন হিন্দিতে ট্যুইট করেন মায়াবতী৷ তাঁর মতে প্রধানমন্ত্রী আসল বিষয়েই গুরুত্ব দিচ্ছেন না৷ বিরোধীদের কোনও দাবি বা বক্তব্য শুনতে রাজি নন তিনি৷ তাহলে সর্বদলীয় বৈঠকের যৌক্তিকতা কি? প্রশ্ন তোলেন মায়াবতী৷ বুধবারের বৈঠকে এক রাষ্ট্র, এক নির্বাচন ইস্যুতে আলোচনা করার কথা৷ এছাড়াও মহাত্মা গান্ধীর ১৫০ তম জন্মবার্ষিকী নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে জানা গিয়েছিল৷ সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী জানিয়েছিলেন সংসদের অধিবেশনের পরিবেশ বজায় রাখতে ও সুস্থ আলোচনার ডাক দিয়ে এই বৈঠক করার পরিকল্পনা করেছিলেন নরেন্দ্র মোদী৷

তবে এই এক রাষ্ট্র, এক নির্বাচন ইস্যুতে আলোচনা করার অর্থ সমস্যা থেকে মুখ ঘুরিয়ে নেওয়া, এমনই মত মায়াবতীর৷ কারণ তাঁর কাছে দেশের আসল সমস্যা দারিদ্র্য, মূল্যবৃদ্ধি ও বেকারত্ব৷ সেসব নিয়ে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের কোনও মাথা ব্যথা নেই বলে অভিযোগ তাঁর৷ এছাড়াও বিএসপি এক রাষ্ট্র, এক নির্বাচন ইস্যুতে সমর্থন দেবে না বলেও জানান তিনি৷

আরও পড়ুন : সরকারি কর্মীদের জন্যে ‘আচ্ছে দিন’, বাজেটেই বড় ঘোষণা করতে পারে মোদী সরকার

গত বছর অগষ্ট মাসে ল’কমিশন তাদের খসড়ায় জানায়, লোকসভা ও বিধানসভার (জম্মু ও কাশ্মীর ছাড়া) ভোট একসঙ্গে হলে জনগণের টাকা সাশ্রয় হবে৷ সরকার আরও বেশি করে উন্নয়নমূলক কাজে মনোনিবেশ করতে পারবে৷ বিজেপিরও ইচ্ছা দেশে একসঙ্গে সব নির্বাচন হোক৷ ষোড়শ লোকসভা একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও সেই নীতি কার্যকর করে উঠতে পারেনি৷ এবার বিজেপির শক্তি বেড়েছে৷ তাই দেরি না করে এখন থেকেই তৎপরতা দেখাতে শুরু করেছে৷ রাজনৈতিক মহলের অভিমত, প্রথম বৈঠকে কোনও নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর ভাবনা বোকামি৷

শপথ গ্রহণের আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷ তিনি বলেছিলেন শক্তিশালী গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি শক্তিশালী বিরোধী৷ পক্ষ বিপক্ষ ভুলে সাংসদদের এখন উচিত নিরপেক্ষ হয়ে কাজ করা৷ দেশের স্বার্থে নিজেদের স্বার্থ ভুলে যাওয়া উচিত নির্বাচিত সাংসদদের৷