সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, হাও়ড়া: অকাল বর্ষণ তাতেই আলু চাষিদের মাথায় হাত পড়েছে। অতিরিক্ত পরিমানে উৎপাদন হওয়া অনেক আলু মাঠে থেকেই বৃষ্টিতে পচে গিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। দিন দশেক পরেই আলু তোলার কথা ছিল হাওড়ার আলু চাষিদের তার আগেঈ টানা চার দিন ঝেঁপে বৃষ্টি এবং চাষিদের দুঃস্বপ্নের শুরু।

এখনও অনেক নিচু জায়গার জমিতে এক হাঁটুর উপর জল জমে রয়েছে। ফলে আলুর ব্যাপক খত হবে। ইটারাই,গজা,পিয়ারাপুর,হরালী, শিবপুর,পাঁচারুল, সিংটির অধিকাংশ চাষদের মাথায় হাত। খারাপ অবস্থা সীতাপুর,খেমপুর ,কুড়চি, রামপুর, খলৎপুর প্রভৃতি গ্রামেরও আলু চাষিদেরও। অকালের এই অতিবর্ষণে উদয়নারায়ণপুর ও তার পার্শ্ববর্তী গ্রামীণ এলাকার কৃষিকরা আলুর ব্যাপক পচনের বা ও নষ্টের কথা জানিয়েছেন।

সবথেকে বেশি ক্ষতির মুখে সম্ভবত আমতা ও উদয়নারায়ণপুরের চাষিরা। শুধু উদয়নারায়ণপুর এলাকাতেই সাড়ে চার হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছিল। ১ মার্চ থেকে সেই আলু হিমঘরে সংরক্ষণ করার কথা।ফাল্গুনের এই হঠাৎ বৃষ্টিতে প্রায় ৯০ শতাংশ জমির আলু সম্পূর্ণ ভাবে নষ্ট হয়ে গিয়েছে।

পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে জেলা কৃষি দপ্তর জরুরি ভিত্তিতে প্রশাসনিক বৈঠক ডাকা হয়েছিল। সেখানে কৃষি আধিকারিকদের পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখে ব্লকে আলু, পেঁয়াজ ও অন্যান্য ফসলের ক্ষয়ক্ষতির রির্পোট দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টির কারণে চাষের জমি ও আলুর ফলনের কী অবস্থা, সেগুলির ছবি তুলে পাঠানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। জেলা পরিষদের কৃষি ও সেচ দপ্তরের কর্তারা বলেন, ‘এ বার গোটা জেলায় ৮৫ হাজার ৪৮০ হেক্টর জমিতে আলু বসানো হয়েছিল। ফলনের লক্ষ্যমাত্রা ৩০ লক্ষ মেট্রিক টন ধরা হয়েছিল। অকাল বৃষ্টিতে প্রায় সিংহভাগ আলুর ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।’

এছাড়াও হাওড়ার জয়পুর, অমরাগড়ি, তাজপুর,বাগনান,জগৎবল্লভপুর,ডোমজুড় এলাকায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে সরষে,তিল,বাদাম ও অন্যান্য সবজিরও। মরসুমি ডাল ও পিঁয়াজের ক্ষতর খবর মিলছে বিভিন্ন জেলা থেকে। ক্ষতি হয়েছে ফুলকপি , বাঁধাকপিরও। হাওড়ার বাকি ব্লক থেকে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা চাওয়া হয়েছে। গরমের সব্জি উচ্ছে, ভেন্ডির জমিতেও জল জমে গিয়েছে। এক চিত্র ক্যানিং, কুলতলি, গোসাবা, বাসন্তি এলাকাতেও। ক্ষতি হয়েছে ফুল এবং ফলেও।

আলিপুর আবহাওয়া দফতরের তরফে আগেই জানানো হয়েছিল দক্ষিণবঙ্গে প্রথমে কোথাও কোথাও হালকা বৃষ্টি হবে। পরিস্থিতি খারাপ হবে ধীরে ধীরে। দক্ষিনবঙ্গে চলতি সপ্তাহের সোমবার থেকে কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গের সমস্ত জেলায় ঝেঁপে বৃষ্টি শুরু হয়। কোথাও কোথাও বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টি এবং ঝড়ও হয় । এখন তারই ফল ভুগছে রাজ্যের চাষিরা।