মুম্বই: বিশ্বের ধনী ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই প্রায় ১ ০ মাস ধরে বিশ্বের কিছু ধনী ক্রিকেটারদের তাদের বকেয়া অর্থ পরিশোধ করেনি। বোর্ডের ২৭ জন এলিট চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটাররা গত বছরের অক্টোবরের পর থেকে ত্রৈমাসিক কিস্তির প্রথমটি এখনও পাননি।

এছাড়া ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের পর থেকে ভারতীয় ক্রিকেট দল যে দু’টি টেস্ট, ন’টি ওয়ান ডে এবং ৮টি টি-২০ ম্যাচ খেলেছে, তার ম্যাচ-ফি বোর্ড এখনও ক্রিকেটারদের বিতরণ করেনি। এছাড়াও প্রথমশ্রেণির ক্রিকেটার এবং বয়স ভিত্তিক ক্রিকেটারদের অর্থ প্রদানেও বিলম্বিত হয়েছে। ঝাড়খণ্ড, মুম্বই, বাংলা, জম্মু ও কাশ্মীর, পন্ডিচেরি, ভদোদরা, রেলওয়েজ, রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ এবং ছত্তিশগড়ের বেশ কয়েকটি ঘরোয়া খেলোয়াড়রাও তাদের গত মরশুমের অর্থ এখনও পায়নি৷

চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটারদের জন্য বাৎসরিক মোট ৯৯ কোটি টাকা লাগে বিসিসিআই-এর৷ এই অর্থ প্রদান করা হয় চারটি গ্রেডে বিভক্ত ভাগ করা ক্রিকেটারদের মধ্যে। গ্রেড-এ + ক্রিকেটাররা হলেন ক্যাপ্টেন বিরাট কোহলি, ওয়ান ডে ভাইস-ক্যাপ্টেন রোহিত শর্মা এবং জসপ্রিত বুমরাহ৷ এঁদের বার্ষিক ৫ কোটি টাকা করে দেয় বোর্ড৷ এছাড়া এ, বি এবং সি গ্রেডের ক্রিকেটাররা যথাক্রমে পাঁচ কোটি, তিন কোটি এবং এক কোটি টাকা পান। এছাড়া প্রতিটি টেস্ট, ওয়ান ডে এবং আন্তর্জাতিক টি-২০ ম্যাচের ফি বাবদ যথাক্রমে ১৫ লক্ষ, ৬ লক্ষ এবং ৩ লক্ষ টাকা করে পায়।

বিসিসিআই-এর সর্বশেষ প্রকাশিত ব্যালান্সশিট অনুসারে ২০১৮ মার্চ পর্যন্ত বোর্ডের ব্যাংক ব্যালন্স রয়েছে ৫,৫২৬ কোটি টাকা৷ এর মধ্যে স্থায়ী আমানত অর্থাৎ ফিক্সড ডিপোজিট রয়েছে ২,৯৯২ কোটি টাকা৷ ২০১৮ এপ্রিলে বিসিসিআই স্টার টিভি-র সঙ্গে পাঁচ বছরে ৬,১৩৮.১ কোটি টাকার চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ক্রিকেট বোর্ড হওয়া সত্ত্বেও ক্রিকেটাররা গত ১০ মাসের বকেয়া অর্থ পায়নি৷ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এ প্রকাশিত খবর অনুযায়ী চুক্তিবদ্ধ আটজন ক্রিকেটার বোর্ড-কে জানিয়েছে যে, গত ১০ মাসের বকেয়া টাকা পায়নি৷ এ ব্যাপারে বিসিসিআই কোষাধ্যক্ষ অরুণ ধূমাল কোনও মন্তব্য করতে চাননি৷

ডিসেম্বরের পর থেকে বোর্ডের চিফ ফিনান্স অফিসার এবং চিফ একজিকিউটিভ অফিসার ও জেনারেল ম্যানেজার (ক্রিকেট অপারেশনস) গত মাস থেকে বোর্ডে নেই। সুত্রের খবর, এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদগুলি এখনও পর্যন্ত পূর্ববর্তী কার্যকারীদের উত্তরসূরি হিসেবে নেওয়া হয়নি৷

এছাড়া বোর্ডের নতুন গঠনতন্ত্র অনুসারে বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট সৌরভ গাঙ্গুলি এবং সেক্রেটারি জয় শাহের মেয়াদও শেষ হয়ে গিয়েছে। সংবিধানের “কুলিং অফ” ধারাটি বাতিল করার জন্য বোর্ড সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন করেছে৷ তবে সর্বোচ্চ আদালত এখনও এ ব্যাপারে তার রায় দেয়নি৷

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও