অনেকেই জানেন বিশ্বের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হল তক্ষশীলা। যেখানে পড়াশোনা করেছিলেন খোদ চাণক্যের মত পণ্ডিত। বর্তমানে পাকিস্তানে অবস্থিত এই তক্ষশীলা।  তবে জানেন, কে কবে এই বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করেছিল? কার নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এই তক্ষশীলা ইউনিভার্সিটির নাম?

শোনা যায় রাম নাকি তাঁর সমস্ত রাজত্ব তাঁর ছেলেও ভাইপোদের মধ্যে সমান ভাগে ভাগ করে দিয়েছিলেন। অযোধ্যায় অভিষেক হয়েছিল তাঁর ছেলে লব ও কুশের। আর গান্ধার পড়েছিল ভরতের ছেলে তক্ষের ভাগে। তাঁর রাজত্বেই প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করেন ভরতের ছেলে তক্ষ। তাঁর নামেই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম হয় তক্ষশীলা। পরবর্তীকালে বহু পণ্ডিত মানুষ ওই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করেছেন। যদিও তক্ষশীলা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। অনেক ঐতিহাসিক তক্ষশীলাকে বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গণ্য করেন না।

আরও পড়ুন: রামের পুত্র রাজত্ব করতেন পাকিস্তানের এই শহরে

এছাড়াও গান্ধার ও পাটলিপুত্র জুড়তে ‘উত্তরাপথ’ তৈরি করেছিলেন তক্ষ। শের শাহ সুরী গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড তৈরির আগেই এই রাস্তা তৈরি করা হয়েছিল। সেই রাস্তাকেই আরও বিস্তৃত করে তৈরি হয় গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড।

বর্তমান পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশের রাওয়ালপিন্ডিতে রয়েছে তক্ষশীলা। ইসলামাবাদ থেকে ৩২ কিলোমিটার দূরে এটি অবস্থিত। আগে এই অঞ্চল ভারতের অংশ ছিল। হিন্দু ও বৌদ্ধধর্মের কেন্দ্র ছিল তক্ষশীলা। ১৯৮০ তে এই বিশ্ববিদ্যালয়কে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ ঘোষণা করে UNESCO. বিভিন্ন দেশের ছাত্রছাত্রীরা এখানে এসে পড়াশোনা করতেন।

আরও পড়ুন: মণ্ডপ জুড়ে বিদেশী মুদ্রা, বিরাট চমক শহরের পুজোয়

মনে করা হয় এই তক্ষশীলাতেই প্রথম পঠিত হয়েছিল মহাভারত। ছাত্ররা ১৬ বছর বয়সে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতেন। ছিল আইন শিক্ষা, সামরিক শিক্ষা, চিকিৎসা বিজ্ঞান নিয়ে পড়ার সুযোগ। এছাড়া পড়তে হত বেদ। শিখতে হত শিকার। অর্থাৎ ভারতই যে বিশ্বশিক্ষার পথ দেখিয়েছিল সেকথা বলা বাহুল্য।