নয়াদিল্লি: ২ এপ্রিল, ২০১১। ন’বছর আগে আজকের দিনেই তৈরি হয়েছিল ইতিহাস। ২৮ বছর বাদে ফের জগৎসভায় শ্রেষ্ঠ আসন লাভ করেছিল ভারতীয় ক্রিকেট দল। ওয়াংখেড়ের স্বপ্নের সেই রাত যতদিন ভারতীয় ক্রিকেটে স্বর্ণাক্ষরে লেখা হয়ে থাকবে ঠিক ততোদিনই হয়তো অনুরাগীদের বুকের বাঁ-দিকে খোদাই হয়ে থাকবে অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির ম্যাচ জেতানো ছক্কা। দু’বাহু তুলে ক্ষণিকের স্তব্ধতা। পরেরটা ইতিহাস।

গোটা টুর্নামেন্টে তাঁর উইলোয় ছিল রানের খরা। কিন্তু বড় ক্রিকেটাররা জানেন কখন জ্বলে উঠতে হয়। ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ব্যাটিং অর্ডারে নিজেকে উপরে তুলে এনে মাহি খেলেছিলেন ম্যাচ জেতানো ৯১ রানের ইনিংস। কিন্তু দুই ওপেনার সচিন এবং সেহওয়াগের উইকেট খুঁইয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া দলটার ব্যাটন ধরেছিলেন যিনি। যার ৯৭ রানের লড়াকু ইনিংস না থাকলে হয়তো মিথ্যাই হয়ে যেত ধোনির মহাকাব্যিক ইনিংস। দ্বিতীয়বারের জন্য হয়তো সেরার শিরোপা ছিনিয়ে নিয়ে যেত দ্বীপরাষ্ট্র। সেই গৌতম গম্ভীর কিন্তু ঢাকা পড়ে যান ধোনির ছায়াতেই।

তাই নবম বর্ষপূর্তিতে বর্তমান বিজেপি বিধায়ক মনে করিয়ে দিলেন ভারতের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের মুখ কেবল ধোনির ম্যাচ উইনিং হেলিকপ্টার শট নয়, বিশ্বকাপটা জিতেছিল গোটা ভারতীয় দল। বৃহস্পতিবার মাহির ম্যাচ জেতানো ছক্কার ছবি পোস্ট করে গ্লোবাল ক্রিকেটিং ওয়েবসাইট ইএসপিএন ক্রিকইনফো। ক্যাপশন হিসেবে ওয়েবসাইটে লেখা হয়, ‘সেই শট, যা দেখে লক্ষ লক্ষ ভারতবাসী আনন্দে মুখরিত হয়েছিল।’ ক্রিকইনফোর এই ক্যাপশনটা খুব একটা মনে ধরেনি ২০১১ বিশ্বকাপ ফাইনালের আরেক নায়কের।

তাই টুইটারে ক্রিকইনফোর পোস্টের পালটা হিসেবে গম্ভীর লিখলেন, ‘ক্রিকইনফোকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই ২০১১ বিশ্বকাপ জিতেছিল গোটা ভারতবর্ষ। ওই জয়টা ছিল সমগ্র ভারতীয় দল ও সমস্ত সাপোর্ট স্টাফদের। যদিও এটা আদর্শ সময় একটা ছক্কাতেই মনপ্রাণ ঢেলে দেওয়ার।’

প্রাক্তন অধিনায়কের প্রতি গম্ভীরের মনোক্ষুণ্ণতার পরিচয় এই টুইট। সেটা বুঝতে খুব বেশি সময় লাগেনি নেটিজেনদের। গম্ভীর অনুরাগীরা টুইটের আত্মপক্ষ সমর্থনে স্বাভাবিক ভাবেই সুর চড়ান সোশ্যাল মিডিয়ায়। অন্যদিনে গম্ভীরের এই টুইটে ধোনি ফ্যানদের যে গোঁসা হয়েছে, সে আর বলার অপেক্ষা রাখে না।