সুশান্ত মণ্ডল, কলকাতা ২৪x৭: ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে মঙ্গলবার ভারত-নিউজিল্যান্ড সেমিফাইনাল ছিল সাসপেন্সে ঘেরা৷ মেঘাচ্ছন্ন ম্যাঞ্চেস্টারে নির্ধারিত সময়ে খেলা শুরু হওয়া নিয়ে সংশয় থাকলেও ঠিক সময়েই শুরু হয়েছিল বিরাট-উইলিয়ামসনদের লড়াই৷ টস হারায় প্রথম ফিল্ডিং করতে বাধ্য হয়েছিল কোহলি অ্যান্ড কোং৷ কিন্তু জসপ্রীত বুমরাহ ও ভুবনেশ্ব কুমারের সুইং বোলিং দেখে মনে হচ্ছে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে বিশ্বকাপ নয়, চলছে টেস্ট ম্যাচ৷

কিউয়ি ইনিংসের তৃতীয় ওভারের বুমরাহের আউট সুইংয়ে স্লিপে বিরাটের হাতে ক্যাচ দিয়ে কিউয়ি ওপেনার মার্টিন গাপ্তিলের ড্রেসিংরুমের ফেরা ছিল যেন টেস্ট ম্যাচেরই পেক্ষাপট৷ স্কোর বোর্ডে তখন কেবলমাত্র এক রান যোগ করেছে নিউজিল্যান্ড, সে সময় গাপ্তিলকে তুলে নিয়ে স্বপ্নের শুরু করে ভারত৷ তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ধর্য্যশীল ইনিংস খেলেন কিউয়ি অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন৷

উইলিয়ামসন ও হেনরি নিকোলসের মন্থর ইনিংসে বিশ্বকাপে লজ্জার রেকর্ড গড়ে নিউজিল্যান্ড৷ প্রথম ১০ ওভারে এক উইকেটে হারিয়ে মাত্র ২৭ রান তোলে নিউজিল্যান্ড৷ আধুনিক যুগে টেস্ট ক্রিকেটেও প্রথম ১০ ওভারে এর থেকে স্কোরবোর্ডে বেশি রান ওঠে৷ কিন্তু বুমরাহ ও ভুবনেশ্বর সুইং ও নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে বিরুদ্ধে যথেষ্ট অস্বস্তিতে ছিলেন কিউয়ি ব্যাটসম্যান৷

ইনিংসের ১৯তম ওভারে রবীন্দ্র জাদেজার বাঁ-হাতি স্পিনে যেভাবে নিকোলসের ব্যাট ও প্যাডের মাঝখান দিয়েে স্টাম্প ছিটকে দিল তাতেও টেস্টের মজা অনুভব করেন ভারতীয় সমর্থকরা৷ ৫১ বলে ২৮ রান করেন নিকোলস ড্রেসিংরুমে ফেরার আগে অবশ্য দ্বিতীয় উইকেটে ৬৮ রান যোগ করেন নিউজিল্যান্ড৷ এর পর রস টেলর তৃতীয় উইকেটে অবশ্য ক্যাপ্টেন উইলিয়ামসনের সঙ্গে ৬৫ রান যোগ করে কিউয়ি ইনিংসের হাল ধরেন৷ কিন্তু কিউয়ি অধিনায়ক যখন হাত খুলে মারার চেষ্টা করেন, তখনই তাঁকে ড্রেসিংরুমের পথ দেখান হার্দিক পান্ডিয়া৷ ৯৬ বলে ৬৭ রান করে উইলিয়ামসনের ড্রেসিংরুমে ফেরার মধ্যেও যেন টেস্টের স্বাদ পায় ভারতীয় সমর্থকরা৷

এখানেই শেষ নয়, কিউয়ি ইনিংসের ৪৬.১ ওভারে বাধ সাধল বৃষ্টি৷ নিউজিল্যান্ড ৫ উইকেটে ২১১ তোলার পর বৃষ্টিতে বন্ধ হয়ে যায় ম্যাচ৷ সাঝঘরে ফেরেন ক্রিকেটাররা৷ ছাতা মাথায় গ্যালারিতে অপেক্ষারত দর্শকরা৷ পরে খেলা শুরু হতে পারে এই আশায় লাঞ্চ সেরে ফেলে বিরাট-উইলিয়ামসনরা৷ কিন্তু অপেক্ষার ঘড়ি আরও দীর্ঘায়িত হয়৷ টিপটিপ করে পড়তে থাকা বৃষ্টি মঙ্গলবার ম্যাঞ্চেস্টারে আর ম্যাচ শুরুর সংকেত দেয়নি৷ ভারতীয় সময় রাত পৌনে এগারোটা নাগাদ মঙ্গলবারের মতো ম্যাচ বাতিল করার কথা ঘোষণা করে দেন আম্পায়ারা৷

এর পর দর্শকরা গ্যালারি ছেড়ে বাড়ির পথে হাঁটা লাগালেও তাঁদের মুখ ঘোমড়া ছিল না৷ কারণ তাঁরা জানে বড় ইন্টারভেলের পর বুধবার আবার শুরু হবে ম্যাছ অর্থাৎ লিগে এই সুযোগ না-থাকলেও ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে বৃষ্টির কথা মাথা রেখে সেমিফাইনাল ও ফাইনালের জন্য রিজার্ভ ডে রাখে আইসিসি৷ অর্থাৎ টেস্টের মতো প্রথম দিনের ম্যাচ অর্ধেক ভেস্তে গেলেও পরের দিন থাকছে খেলা দেখার সুযোগ৷ একই টিকিটে বুধবার মাঠে ঢুকতে পারবেন ম্যাঞ্চেস্টারের দর্শকরা৷

লিগে ভারত-নিউজিল্যান্ড ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেস্তে গেলেও সেমিফাইনালে অবশ্য বিরাট-উইলিয়ামসনরা অবশ্য লড়াইয়ে ফিরছে বুধবার৷ এদিন ভারতীয় সময় দুপুর তিনটেই শুরু হবে ম্যাচ৷ নিয়মানুয়ায়ী নিউজিল্যান্ড ইনিংস যেখানে শেষ হয়েছে, সেখান থেকে অর্থাৎ ৪৬.২ বল থেকে শুরু হবে খেলা৷ অর্থাৎ বুধবার টেলরে প্রথম বল করবেন ভুবনেশ্বর৷ কিউয়ি ইনিংসের ২৩ বল হওয়ার পর ব্যাট হাতে নামবে টিম ইন্ডিয়া৷

ম্যাচের ফয়সালার জন্য বুধবার পুরো দিনটা হাতে থাকছে বিরাটদের৷ কিন্তু ম্যাঞ্চেস্টারে বুধবারও থাকবে বৃষ্টির চোখরাঙানি৷ অর্থাৎ এদিনও নির্বঘ্নে ম্যাচ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা কম৷ ম্যাচের ফয়সালা হওয়ার জন্য এদিন ভারতীয় ইনিংসের অন্তত ২০ ওভার হতে হবে৷ সেক্ষেত্রে নিউজিল্যান্ড বাকি ২৩ বলে যেখানে ইনিংস শেষ করবে, সে মতো ডাকওয়ার্থ-লুইস নিয়মে টার্গেট দাঁড়াবে বিরাটদের৷ অর্থাৎ বুধবারও থাকতে পারে ম্যাথেম্যাথিসিয়ানদের ব্যস্ততা৷ তবে ভারতীয় ইনিংসের কমপক্ষে ২০ ওভারে খেলা না-হলে বৃষ্টিতে ভেস্তে যাবে ম্যাচ৷ সেক্ষেত্রে লিগে নিউজিল্যান্ডের থেকে আগে শেষ করার সরাসরি রবিবাসরীয় লর্ডসের ফাইনালের টিকিট পেয়ে যাবে বিরাটবাহিনী৷