নয়াদিল্লি:  আগামিকাল (৪ফেব্রুয়ারি) বিশ্ব ক্যান্সার সচেতনতা দিবস। মারণ ব্যাধি ক্যান্সার নিয়ে মানুষকে সচেতন করতে হলে তবে এই একটা দিন কিন্তু যথেষ্ট নয়। এই ব্যাধি আটকাতে প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষকে সচেতন থাকতে হবে। মেনে চলতে হবে সুস্বাস্থ্যের নিয়মাবলি। তবে যদি কিছুটা হলেও রোধ করা যায় ক্যান্সারের আক্রমন।

‘ক্যান্সার’ তিন অক্ষরের এই ক্ষুদ্র শব্দটির সঙ্গে আমরা প্রায় সবাই পরিচিত। মারণ এই রোগ নিয়ে মানুষের মনে রয়েছে ভয়। কারণ, সঠিক সময়ে ক্যান্সারের চিকিৎসা না করালে তা যেকোনও সময় মানুষের জীবনে ডেকে আনতে পারে অন্ধকার। দেহে ফ্রী র‍্যাডিকেলের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া ক্যান্সারের প্রধান কারণ। এই রোগ নিরাময়ের জন্য প্রতিনিয়ত নিরন্তন গবেষণা চালাছেন বিজ্ঞানীরা। বর্তমানে কেমোথেরাপির সাহায্যে কিছুটা হলেও বশে আনা গিয়েছে ক্যান্সারকে। প্রথম থেকেই দুরারোগ্য এই জটিল রোগের মোকাবিলা করতে স্বাস্থ্য সচেতন নাগরিক হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। তবুও গবেষণা বলছে অন্য কথা।

শরীরে শুধু মাত্র ফ্রী র‍্যাডিকেলের সংখ্যা বেড়ে যাওয়াই ক্যান্সারের কারণ নয়। দেহের বিভিন্ন রোগ থেকেও হতে পারে ক্যান্সার। আর হ্যাঁ ক্যান্সার নিয়ে এরকমই তথ্য জানাছে ‘গ্লোবকন’। ২০১৮ সালের গ্লোবোকনের ক্যান্সার সংক্রান্ত গবেষনার রিপোর্ট জানাছে, বিশ্বের মোট ২ শতাংশ মানুষের মধ্যে ক্যান্সারের সংক্রমণ ছড়ায় ব্রেন টিউমার থেকে। যা নিশব্দে আপনার দেহে বেঁধে দেয় ক্যান্সারের বাসা। ওই রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, স্নায়ু রোগ এবং ব্রেন সংক্রান্ত জটিল অসুখের কারণে ভারতে প্রতি বছর প্রায় ২৮১৪২ জন মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়।

শুধু তাই নয়, রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে কিভাবে ধীরে ধীরে ব্রেন টিউমার দেহের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ছে, এবং এটি প্রথমে দেহের ঠিক কোন জায়গায় আঘাত হানছে। আসুন তাহলে বিশ্ব ক্যান্সার দিবসের আগে আমরা জেনে নিই, কিভাবে ব্রেনটিউমার ছড়াছে এবং এই রোগের প্রাথমিক উপসর্গ ও প্রতিরোধের উপায় গুলি।

দেহের যে অংশে এই টিউমার সবচেয়ে বেশি আঘাত করে তার মধ্যে প্রধান অংশই হল ব্রেন। রোগের সঙ্গে অঙ্গের নাম জড়িয়েই রয়েছে। আর এই টিউমার ব্রেনের মধ্যবর্তী অংশে প্রথমে আক্রমন করে। তারপর এটি ধীরে ধীরে মাথার অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়াও এই টিউমার মাথার স্নায়ুতন্ত্রেও আঘাত হানে।

কিকি প্রভাবের থেকে এই রোগ হতে পারে:- ব্রেন টিউমারের প্রকৃত কারণ কি? তার সদুত্তর এখনও মেলেনি গবেষকদের কাছে। তবে প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে, অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহারের ফলে ফোন থেকে বেরনো রেডিয়েশন এবং হরমনের প্রভাবে। এছাড়াও পরিবারে অতীতে কোনও সদস্য এই রোগের শিকার থাকলে পরবর্তী কালে তা বাড়ির অন্যদের ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলতে পারে।

কি করে বুঝবেন আপনি ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত? এই রোগের প্রাথমিক লক্ষণ গুলি হল:- মাথা যন্ত্রণা এই রোগের অন্যতম প্রধান লক্ষণ। এছাড়াও বমিবমি ভাব, কথা বলার সময় আড়ষ্টতা ভাব, স্মৃতিভ্রম। শুধু তাই নয়, ব্রেন টিউমার শরীরের স্নায়ু তন্ত্রেও আঘাত হানে। যার ফলে সারাদিন ঝিমুনি ভাব লাগা। শ্রবণ শক্তিতেও এই রোগ প্রভাব ফেলে। এছাড়া চোখে কম দেখা, আবছা দৃষ্টিশক্তি, শারীরিক দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, মেজাজ হারিয়ে ফেলা ইত্যাদি।

এই রোগের চিকিৎসার উপায় গুলি হল:- উপরের লক্ষণ গুলির মধ্যে কোনও একটি যদি আপনার মধ্যে দেখা দেয় তাহলে দেরি না করে অবশ্যই প্রথমে একজন স্নায়ুবিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। এছাড়াও ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ বা হাসপাতালের ডাক্তারের পরামর্শ নিতে পারেন। ব্রেন টিউমার নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হবেন না। সবসময় মনে রাখবেন, উপযুক্ত চিকিৎসা,অপারেশন বা বিভিন্ন থেরাপির সাহায্যে এই রোগ নির্মূল করা যায়।

সুতরাং বিশ্বক্যান্সার দিবসের আগে নিজে এবং আপন জনদের ব্রেন টিউমার সম্পর্কে সচেতন করে তুলুন। এবং আপনার আশেপাশে কেউ এই রোগের শিকার হলে তাঁকে অবশ্যই দ্রুত নিকটবর্তী চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলুন।