সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : ক্ষমতায় আসার পর প্রথম সাংবাদিক সম্মেলনেই তিনি এক প্রশ্নে বলেছিলেন যারা দল ছেড়ে গিয়েছে তারা ফিরতে চাইলে স্বাগত। কোট আনকোট তিনি বলেছিলেন ‘আসুক না। কে বারণ করেছে? এলে স্বাগত!’ কিন্তু মমতার এই কথাকে অনেক সমর্থক মানতে পারছেন না। লিখছেন #খোলা চিঠি।

তারা বলছেন এরা দলে ফিরলে নেওয়া উচিত হবে না। এতে দলে লবি বাড়বে সমস্যা বাড়বে। বলছেন খারাপ সময়ে এরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছেড়ে গিয়েছে তাই এদের আর ফিরিয়ে নেওয়া উচিৎ হবে না। খোলা চিঠি বলে লেখাটি ইতিমধ্যেই ভাইরাল। অনেক যুব তৃণমূল সমর্থক সেটি শেয়ার করছে। ভাইরাল চিঠিতে কী লেখা হয়েছে? লেখা হয়েছে, ‘তুমি আমায় চেনো না গো দিদি, আমি তোমার বৃহৎ দলের এক ক্ষুদ্র কর্মী,শাখা সংগঠনের..আমাদের মত কর্মীরা তোমার দলরূপ কাঠামোর ছোট্ট ছোট্ট অংশমাত্র!জানি, আজ যা লিখছি সেটা তোমার কাছে পৌঁছাবে না.. তবু না বলে পারলাম না গো। তোমার মনে আছে,২০১৭ সাল.. কেউ একটা নিজের পিঠ বাঁচাতে চলে গেল বিজেপিতে, হাতে একটা লাল ডায়েরি দেখিয়ে বললো ‘এতে সব আছে ‘!!আমাদের মত কর্মীদের কাছে সে তখন ‘চানক্য’..।’পশ্চিমবঙ্গের ৭৭ হাজার বুথে আমার লোক আছে’ বলা লোকটা তোমার সাথে বেইমানি করলো.. তুমি দমে যাও নি!! ২০১৯ এর লোকসভার আগে দীনেশ ত্রিবেদীকে টিকিট দিলে বলে অর্জুন সিং দল ছাড়লো, বনগাঁতে ঠাকুরবাড়ির কোন্দল লাগলো..এই জেলায় ফল ৩-২.. গোটা রাজ্যে আমরা ২২ আর ওরা ১৮। ২০২০, মহামারী চরমে, তুমি নিজের জীবনের পরোয়া না করে ছুটে বেড়াচ্ছো.. তোমার কর্মীরা তোমায় দেখে তোমার সাথে ছুটছে.. মেদিনীপুরের বেইমানটা setting a ব্যস্ত!দর কষাকষি করছে.. নিজেকে “জননেতা” বলছে, ফেসবুক জুড়ে তার “অনুগামী”দের বড়ো বড়ো বুগনি!!যাবো কি যাবো না করে ডিসেম্বরে তিনি রওনা দিলেন.. মঞ্চে উঠে সদর্পে বললেন,’আমি তো ২০১৪ সাল ঠেকে যোগাযোগ রাখছি!’ ওরা আবার তোমার সাথে বেইমানি করলো.. ডোমজুরের মোচাটা, live এ এসে রাজনীতির পাঠশালা খোলার জ্ঞান দিয়ে ঝাঁপ দিলো মোদির কোলে.. তার আগে তোমার ছবি হাতে নিয়ে এক প্রস্ত নাটক, বাড়ী ফেরার সময় হয়তো সেই ছবিটার স্থান হয়েছিল কোনো আস্তাকুড়ে!!
এরা গেছে, প্রকাশ্যে গেছে!!এমন অনেক বেইমান গাদ্দার আছে যাঁরা আজও দলে থেকে প্রতিনিয়ত দলের সাথে বেইমানি করেছে, বিশ্বাস ভেঙেছে তোমার!! তুমি আজ ক্ষমাশীলা! হ্যাঁ দল তোমার তুমি ক্ষমা করতেই পারো!!কিন্তু আমরা দিদি? আমরা তো তোমার বিপদের দিনে শুধু তোমায় আঁকড়ে ছিলাম.. সমস্ত রকম ঝুঁকি নিয়েও তোমায় ছাড়ি নি!তুমি যা বলেছো মাথা পেতে নিয়েছি.. আজ কি তুমি আমাদের কথা একবারও ভাববে না? এই বিশ্বাসঘাতকদের নিচ্ছো, নাও!!কিন্তু এদের আমাদের নেতা বানিও না.. আরো একবার লবি তৈরির সুযোগ দিও না..আমাদের শুধু এত টুকুই প্রার্থনা তোমার কাছে.. বাকি তুমি নেত্রী, তোমার সিদ্ধান্ত শিরোধার্য!!
ইতি, তোমার দলের এক ক্ষুদ্র কর্মী’।

এই চিঠিতে কার কথা বলা হয়েছে তা স্পষ্ট। মুকুল রায়, শুভেন্দু অধিকারী, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো দলবদলু তৃণমূল নেতাদের কথা। মুকুল রায় অনেক আগে দল ছাড়লেও ২০২১ নির্বাচনের আগে দল ছাড়েন ঝাঁকে ঝাঁকে তৃণমূল নেতারা। সবাই গিয়ে ভিড় করেন বিজেপিতে। বেশিরভাগ দল বদলে বিজেপিতে যাওয়া তৃণমূল নেতা ভোটের টিকিটও পেয়ে যান। নির্বাচনের ফল বেরোবার পর দেখা গিয়েছে বেশিরভাগ এমন নেতারই চরম হার হয়েছে। বিজেপিও তাদের লক্ষ্যের ধারে কাছেও নেই। আর তৃণমূল তো ২১৩ আসন পেয়ে ঐতিহাসিক লড়াই জিতে নিয়েছে। হটস্পট নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর জয়ও বিতর্কে ভরতি। বহু প্রশ্নে ঘেরা। তাই শুভেন্দুকেও এ নিয়ে আর বেশি ঘাঁটাঘাঁটি করতে দেখা যায়নি। সম্প্রতি তাদের একটি ভয়েস ক্লিপ বেরনোর পর তা আরও প্রশ্নকে বড় করেছে।

এদিকে মুকুল রায় শপথ নেওয়ার পর বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথাবার্তা বলেন। উস্কে দেয় তার ফেরার জল্পনা। আবার একই কথা শোনা যাচ্ছে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্বন্ধেও। আর এই প্রত্যাবর্তন অনেক তৃণমূল যুব সমর্থক মেনে নিতে পারছেন না। ওই ভাইরাল পোস্টের বিভিন্ন কমেন্ট থেকে এও জানা যাচ্ছে, মুকুল রায়কে নিয়ে অনেকের সফট কর্ণার থাকলেও বাকিদের নিয়ে সবাই বিরক্ত।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.