মানব গুহ ও সৌমিক কর্মকার, কলকাতা : টার্গেট ২০২১৷ ওই বছরই ক্ষমতাচ্যূত করতে হবে তৃণমূল কংগ্রেসের সরকারকে৷ মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরাতে হবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে৷ আর এই কাজ করতে গেলে আগামী চার বছর ধরে রাজ্য বিজেপিকে লড়াই করতে হবে একজোট হয়ে৷ এটা বুঝতে পারছেন দলের শীর্ষস্তরের নেতা থেকে একেবারে নিচুতলার নেতা-কর্মীরাও৷ আর দলের সবাইকে একজোট করার কাজ মুকুল রায়ই করতে পারবেন বলেই আশাবাদী দলের কর্মীরা৷

আর সেই আশা যে একেবারে অমূলক নয়, তা মুকুল রায়ের একাধিক পদক্ষেপে স্পষ্ট হচ্ছে৷ ৩ নভেম্বর তিনি বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন৷ বিজেপির সদর দফতরে যোগদানের পরদিনই তিনি দিল্লি থেকে ফোনে কথা বলেন রাজ্য বিজেপির শীর্ষস্তরের একাধিক নেতার সঙ্গে৷ দিন তিনেক পর কলকাতায় এসে প্রথমেই জড়িয়ে ধরেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে৷ দিলীপবাবুকে নিজের ক্যাপ্টেন বলেও উল্লেখ করেন৷ এর পর তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে রাজ্য বিজেপির সদর দফতর ৬, মুরুলিধর সেন রোডে আসেন রাজ্যসভার সাংসদ বিজেপির রূপা গঙ্গোপাধ্যায়৷ সেখানেই দু’জনের বৈঠক হয়৷ পরে সাংবাদিকদের সামনে দলের তরফে ঐক্যের বার্তাও দেন তাঁরা৷ গত শুক্রবার কলকাতার রানি রাসমনি রোডে দলের সভা ছাড়া এখনও পর্যন্ত রাহুল সিনহা ও মুকুল রায়কে একসঙ্গে দেখা যায়নি৷ কিন্তু মুকুল রায়ের একটি ঘনিষ্ঠ সূত্রের খবর, তিনি ফোনে নিয়মিত রাহুল সিনহার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন৷ এছাড়া আজ, মঙ্গলবার তিনি হাজির হন রাজ্য বিজেপির মহিলা মোর্চার সভানেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে৷ আর এসব দেখেই তৃণমূলের হয়ে একজোট হয়ে লড়াইয়ে আশার আলো দেখছেন বিজেপির কর্মীরা৷

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের বক্তব্য, সবদলেই অন্তর্দ্বন্দ্ব থাকে৷ সব দলের নেতাদের মধ্যেই একটা লড়াই থাকে৷ বিজেপির অন্দরেও সেই ধরনের লড়াই আছে৷ কিন্তু রাজনীতির স্বাভাবিক নিয়মে প্রকাশ্যে এ নিয়ে কেউ কিছুই বলেন না৷ কিন্তু তার পরও মাঝে মাঝে প্রকাশ্যে চলে আসে দ্বন্দ্ব৷ বীরভূমে যেমন বিজেপির তৎকালীন জেলা সভাপতি দুধকুমার মণ্ডল রাজ্য নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন৷ পরে অবশ্য তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকেই সরে দাঁড়ান৷ বিজেপির একটি সূত্রের দাবি, দলের রাজ্যস্তরের দুই শীর্ষনেতার মধ্যে বরাবরই অহি-নকুল সম্পর্ক৷

মুকুল রায় বিজেপিতে আসার পর সেই ফাটল আরও চড়াও হবে বলেই মনে করেছিলেন অনেকে৷ কারণ, মুকুল রায়ের মতো ব্যক্তিত্ব দলে এলে অনেক নেতাই প্রচারের আলো থেকে সরে যাবেন৷ বরং এক্ষেত্রে পুরোটাই উল্টো হচ্ছে৷ মুকুল রায় নিজেই যোগাযোগ রাখছেন দলের শীর্ষনেতাদের সঙ্গে৷ কথা বলছেন সংগঠন নিয়ে৷ আগামিদিনে কীভাবে আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করা যায়, তা নিয়েও আলোচনা চালাচ্ছেন বলে বিজেপির একটি সূত্র থেকে জানা গিয়েছে৷

আর এসব দেখেই আশাবাদী হচ্ছেন কর্মীরা৷ কারণ, বরবারই পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির একটা নির্দিষ্ট সংখ্যক ভোট ছিল৷ ২০১৪ সালের পর থেকে সেই ভোটব্যাংক আরও মজবুত হতে শুরু করেছে৷ জেলায় জেলায় বিজেপির সভা ও মিছিলে ভিড় আগের থেকে অনেকটাই বেশি হচ্ছে৷ কিন্তু তৃণমূলকে হারাতে গেলে আন্দোলন আরও জোরদার করতে হবে৷ লড়াই করতে হবে একসঙ্গে৷ মুকুল রায় আসায় বিজেপি যে আরও সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে উঠেছে, তা কার্যত এদিন স্বীকার করে নিয়েছেন লকেট চট্টোপাধ্যায়৷ মুকুল রায়ের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তিনি বলেছেন, ‘‘মুকুল রায় এখন বিজেপির একজন সৈনিক৷ আর তাঁকে সঙ্গে নিয়ে আগামিদিনে আমরা একছাদের তলায় লড়াই করব৷’’

- Advertisement -