প্রতীকী ছবি৷

স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: বাইক চুরির অভিযোগে গ্রেফতার হল সেচ দফতরের কর্মী৷ পুলিশি তদন্তের আগে কয়েকজন বন্ধুর তদন্তে ধরা পড়ে সে৷ তারাই তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়৷ ঘটনাটি বর্ধমানের৷ ধৃতের নাম সুব্রত রায়। বাড়ি বর্ধমান শহরের ডিভিসি মোড় এলাকায়।

জানা গিয়েছে, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বর্ধমানের উল্লাস বাস টার্মিনাসের মোটর সাইকেল স্ট্যান্ড থেকে একটি বাইক চুরি হয়। এই বিষয়ে ওই বাইকের মালিক বর্ধমান থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এরপরে পুলিশ ওই বাস টার্মিনাসের পার্কিং-এর দায়িত্বে থাকা কর্মীকে বর্ধমান থানায় ডেকে পাঠায়। বাইকের মালিক এবং বাস টার্মিনাসের দায়িত্বে থাকা কর্মীদের মধ্যে মীমাংসায় বাইকের ক্ষতিপূরণ হিসাবে টাকা দেওয়া হয় বাইকের মালিককে। কিন্তু গোটা বিষয়টি নিয়ে পুলিশ তদন্তে না নামলেও বাস টার্মিনাসের ওই কর্মী এবং তাঁর বন্ধুরা তদন্তে নামেন।

বাস টার্মিনাসের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়। ফুটেজে ধরা পড়ে বাইক চোরের ছবি। সেই ছবি পরিচিতদের হোয়াটসঅ্যাপ এবং ফেসবুকে পোষ্ট করে তার পরিচয় জানার চেষ্টা করে। আর তাতেই মেলে চোরের হদিশ। এরপর ওই বন্ধুদের দল চাঁদা নেওয়ার নাম করে হাজির হন বাইক চোরের বাড়িতে। আর তখনই বাড়িতে চুরি যাওয়া বাইকটি তাঁরা দেখতে পান। একইসঙ্গে দেখা যায় সেখানে আরও দুটি বাইক রয়েছে। আর ওই বাইকে নেই কোনো নম্বার প্লেট।

এরপরই ওই বন্ধুরা জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন সুব্রত রায়কে। প্রথমে গোটা বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও মারধর করার পর তিনি স্বীকার করেন, এই প্রথমবারই তিনি বাইক চুরি করেছেন। আর কখনেও করবেন না। এরপরই বর্ধমান থানার পুলিশকে ডেকে তাকে তুলে দেওয়া হয়। পুলিশি জেরায় সে জানিয়েছে, ওই বাইকে কোনো তালা দেওয়া ছিল না। এমনকি বাইকের মালিক ভুলবশত বাইকেই চাবি রেখে চলে যান। আর সেই সুযোগকেই কাজে লাগান সেচ দফতরের কর্মী সুব্রত রায়।