নয়াদিল্লি : একবার নয়। ভারতে করোনার সর্বোচ্চ সংক্রমণ হতে চলেছে বেশ কয়েকবার। তিন সপ্তাহের মধ্যে বিশ্বের সর্বাধিক আক্রান্তের সংখ্যার তালিকার ষষ্ঠ থেকে তিন নম্বর স্থানে চলে এসেছে ভারত। ফলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা। জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের সমীক্ষা বলছে, লকডাউন সত্ত্বেও যেবাবে আক্রান্তের সংখ্যা হু হু করে বেড়েছে, তা চিন্তার।

একটানা বেড়ে চলেছে সংক্রামিতের সংখ্যা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন একাধিক সর্বোচ্চ সংক্রমণ দেখতে চলেছে ভারত। ফলে সতর্ক থাকতে হবে সাধারণ মানুষকে। এদিকে, শেষ ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত হলেন ২৮ হাজার ৬৩৭ জন। নতুন করে মৃত্যু হয়েছে ৫৫১ জনের।

নতুন করে সংক্রমণ ও মৃত্যুর জেরে দেশে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ লক্ষ ৪৯ হাজার ৫৫৩ জন। এর মধ্যে অ্যাক্টিভ কেস ২ লক্ষ ৯২ হাজার ২৫৮ টি। সুস্থ হয়ে উঠেছে ৫ লক্ষ ৩৪ হাজার ৬২১ জন। মোট মৃত্যু হয়েছে ২২ হাজার ৬৭৪ জনের।

ভারতে আপাতত দিনে আড়াই লক্ষ করোনা পরীক্ষা হলেও, বিশেষজ্ঞরা বলছেন জনসংখ্যার নিরিখে তা যথেষ্ট নয়। তিন সপ্তাহে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণ হচ্ছে। গ্লোবাল হেলথ রিসার্চার অনন্ত ভান জানান যেটা আশঙ্কার, তা হল ভারত এখনও তার সর্বোচ্চ সংক্রমণ দেখেনি। সেই দিন আসতে চলেছে।

এদিকে, দেশের করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। বাড়ছে আরোগ্যের হার। শুক্রবার এমনই জানিয়ে ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন। তিনি এদিন বলেন কোভিড পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। কারণ দেশে এখন আরোগ্যের হার ৬৩ শতাংশ। অন্যদিকে মৃত্যুর হার মাত্র ২.৭২ শতাংশ।

শুক্রবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধিতে উদ্বিগ্ন নয় কেন্দ্র। কারণ এই বিষয়টিকে সদর্থক দৃষ্টিভঙ্গীতে দেখা উচিত। করোনার পরীক্ষার সংখ্যা বেড়েছে, তাই আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। ভারতের জনসংখ্যার কথা মাথায় রেখেই এই আক্রান্তের সংখ্যা বিচার করা উচিত। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান প্রতিদিন দেশে ২.৭ লক্ষ টেস্ট করা হচ্ছে।

এত বড় জনসংখ্যার দেশ হয়েও ভারতে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন শুরু হয়নি বলে এদিন জানান হর্ষ বর্ধন। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে ৫৩% মৃতের বয়স ৬০ বছরের বেশি। দেশে বর্তমানে ৬০ বছরের বেশি মানুষের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার ১০ শতাংশ।

পরিসংখ্যান বলছে, দেশের ২৫ শতাংশ মানুষের বয়স ৪৫ এর ওপরে। করোনায় যত মানুষের মৃত্যু হয়েছে, তাঁর ৮৫ শতাংশ এই বয়সেরই। দেশে ৬০ থেকে ৭৪ এর মধ্যেকার বয়সী মানুষ রয়েছে মোট জনসংখ্যার ৮ শতাংশ। করোনায় যত মানুষের মৃত্যু হয়েছে, তাঁর মধ্যে এই বয়সের মানুষ রয়েছে ৩৯ শতাংশ।

হর্ষ বর্ধনের দাবি দেশের কোথাও থেকে করোনার কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের খবর মেলেনি। কিছু অঞ্চল বেশি মাত্রায় করোনা আক্রান্ত হয়েছে, কিন্তু কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের কোনও খবর নেই। পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন সাধারণ মানুষকে আরও সতর্ক হতে হবে। সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে করোনার সাথে লড়াই করতে হবে।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ