নয়াদিল্লি: নাথুরাম গডসে বিতর্কে প্রজ্ঞা ঠাকুরের পাশে এসে দাঁড়ায়নি বিজেপি৷ এবার তাঁকে ক্ষমা না করার কথা জানিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷ শুক্রবার এক টিভি চ্যানেলের সঙ্গে সাক্ষাতকারে মোদী স্পষ্টতই বলে দেন, মহাত্মা গান্ধীকে অপমান করেছেন প্রজ্ঞা ঠাকুর৷ তাঁকে আমি ক্ষমা করতে পারব না৷

আরও পড়ুন: ভারতবর্ষকে নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতম মুখ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: শাঁওলী মিত্র

প্রজ্ঞা ঠাকুর নামের সঙ্গে বিতর্ক প্রায় সমার্থক হয়ে উঠেছে৷ একের পর এক মন্তব্য করে বিতর্ক, শোরগোল, হইচই ফেলে দেন৷ নিজেকেও বিপাকে ফেলেন, সঙ্গে দলকেও৷ মালেগাঁও বিস্ফোরণে অভিযুক্ত প্রজ্ঞা ধীরে ধীরে বিজেপির মাথাব্যাথার কারণ হয়ে ওঠেন৷ তাই ‘অনেক হয়েছে আর না’ বোঝাতে শুক্রবার সকালে মুখ খোলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ৷

ট্যুইট করে অমিত শাহ জানান, বিজেপির সঙ্গে ওই মন্তব্যের কোনও সম্পর্ক নেই৷ ওগুলি প্রজ্ঞা ঠাকুর, অনন্ত হেগড়ে ও নবীন কাটিলের নিজস্ব মতামত৷ যদিও সেই মন্তব্যের জন্য তাঁরা ক্ষমা চেয়ে নেন৷ তবে দল সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাদের মন্তব্য নিয়মশৃঙ্খলা কমিটিতে পাঠানো হবে৷ সেই কমিটি এই তিন নেতার সঙ্গে কথা বলে ১০ দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেবে দলকে৷ কারণ তাদের এই মন্তব্য দলের মতাদর্শের সঙ্গে খাপ খায় না৷ উল্লেখ্য প্রজ্ঞার মতো অনন্ত হেগড়ে ও নবীন কাটিলও গডসেকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন৷

আরও পড়ুন: ক্ষমতায় ফিরলে আরও দেশদ্রোহী আইন কঠোর কড়া হবে: হুঁশিয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

কিছুদিন আগে নাথুরাম গডসেকে ‘স্বাধীন ভারতের প্রথম হিন্দু সন্ত্রাসবাদী’ বলে মন্তব্য করেন কমল হাসান৷ সেই মন্তব্যে কম হইচই হয়নি৷ বৃহস্পতিবার এই নিয়ে সাধ্বী প্রজ্ঞার প্রতিক্রিয়া চাওয়া হয়৷ তাতে তিনি বলেন, ‘‘নাথুরাম গডসে দেশপ্রেমী ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন৷’’ পরে অবশ্য পিছু হঠে ক্ষমা চেয়ে নেন৷ বলেন, ‘‘আমি মহাত্মা গান্ধীকে শ্রদ্ধা করি৷ তিনি দেশের জন্য অনেক কিছু করেছেন৷

কিন্তু বিরোধীরা এই ক্ষমা চাওয়াতে সন্তুষ্ট নয়৷ তাদের দাবি, নরেন্দ্র মোদী প্রজ্ঞার প্রার্থীপদ সমর্থন করেছেন৷ এটা তাঁর ব্যক্তিগত মতামত হতে পারে না৷ বিজেপি স্বাধীন ভারতের প্রথম সন্ত্রাসবাদীর পাশে দাড়াচ্ছে৷