লখনউ: রাম মন্দিরের ভূমি পূজোর সব দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। বারবার পরিদর্শন করেছেন ভূমি পুজোর অনুষ্ঠান স্থল। তবে বাবরি মসজিদের জায়গায় তৈরি হওয়া নতুন মসজিদের উদ্বোধনে যাবেন না তিনি। পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। আর মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য ঘিরেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক।

সমাজবাদী পার্টি রীতিমতো ক্ষমাপ্রার্থনা চেয়েছে আদিত্যনাথের কাছ থেকে। এসপির দাবি এই মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইতে হবে মুখ্যমন্ত্রীকে। বৃহস্পতিবার এক টিভি সাক্ষাতকারে আদিত্যনাথ বলেন, তিনি যোগী ও তিনি হিন্দু। তাই মুসলিমদের ধর্মস্থানের উদ্বোধনে তাঁর যাওয়া উচিত নয়। তিনি তা করবেন না।

এই মন্তব্যকে তুলে ধরেই উত্তাল বিরোধী রাজনীতি। এসপি জানিয়েছে এই ধরণের মন্তব্য একেবারেই কাম্য নয়। রাজ্যের মানুষের ভাবাবাগে আঘাত করেছেন আদিত্যনাথ। তাঁর ক্ষমা চাওয়া উচিত।

অন্যদিকে আদিত্যনাথের মন্তব্য তাঁর মন্তব্যকে বিকৃত করা হয়েছে। তিনি বলেছেন একজন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কোনও বিশেষ ধর্মের বা কোনও বিশেষ আদর্শে তিনি বিশ্বাসী নন। কিন্তু মানুষ হিসেবে তাঁর নিজের ধর্মাচারণের বাইরে অন্য কোনও ধর্মে বিশ্বাসী নন তিনি। একজন যোগী ও হিন্দু হিসেবে কোনও মসজিদের উদ্বোধনে যাওয়া তাঁকে মানায় না।

তবে আদিত্যনাথ বলেন তাঁর মনে হয় না এরকম কোনও আমন্ত্রণ তিনি পাবেন। ফলে তাঁর যাওয়ার কোনও প্রশ্নও উঠছে না। তবে যেদিন এরকম আমন্ত্রণ তিনি পাবেন, দেশের ধর্মনিরপেক্ষতা প্রশ্নের মুখে পড়বে। তাই প্রত্যেকের নিজের ধর্মাচারণকে সম্মান করে নিজেদের গণ্ডীর মধ্যেই থাকা উচিত। তবে সরকারি কাজে ও পরিষেবায় কখনও তিনি বৈষম্য করবেন না বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

তিনি বলেন নিজে হিন্দু হয়ে রোজা বা ইফতারে যোগ দেওয়া, মাথায় ফেজ টুপি পড়ে নমাজ পড়া ধর্ম নিরপেক্ষতার বার্তা দেয় না। মানুষ জানেন এটা নাটক। আর সেই নাটকের অংশ তিনি হতে চান না বলে জানান আদিত্যনাথ।

তবে মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে সমর্থন করেনি সমাজবাদী পার্টি। তাদের মুখপাত্র জানিয়েছেন একজন মুখ্যমন্ত্রী হয়ে এই ধরণের কথা বলতে পারেন না আদিত্যনাথ। এতে রাজ্যের মানুষের সম্মান হানি করা হয়। তবে এই বিষয়ে মুখ খুলতে চায়নি রাজ্যের আরেক বিরোধী দল কংগ্রেস।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও