নয়াদিল্লি: ফের একবার ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিল ভারতীয় সেনা। এয়ার ফোর্সে মহিলা পাইলট নিয়োগ করার পর এবার মিলিটারি পুলিশের মহিলা নিয়োগের জন্য বিজ্ঞাপন দিল আর্মি। বৃহস্পতিবারই প্রকাশিত হয়েছে সেই বিজ্ঞাপন।

ভারতীয় সেনায় ফের একবার মহিলাদের জন্য নতুন পথ খুলে গেল এই পদক্ষেপে। অনলাইনে রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে হবে এই নিয়োগ। এই প্রথমবার ভারতীয় সেনায় জওয়ান হিসেবে মহিলা নিয়োগ করা হচ্ছে।

মোদী সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মিলিটারি পুলিশের ২০ শতাংশে মহিলা নিয়োগ করা হচ্ছে। এইসব মহিলাদের আপরাধের মামলা থেকে শুরু করে যে কোনও ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীকে সাহায্য করতে হবে। অন্তত ৮০০ মহিলাকে নিয়োগ করার পরিকল্পনা নিয়েছে সেনাবাহিনী।

বৃহস্পতিবার থেকে এই পদে নিয়োগের জন্য রেজিস্ট্রেশন শুরু হয়েছে। আগামী ৮ জুন পর্যন্ত ওই রেজিস্ট্রেশন চলবে।

এক সেনা অফিসার জানিয়েছেন, গত বছর সেনাপ্রধান বিপিন রাওয়াত দায়িত্ব নেওয়ার পরই এই নিয়োগের কথা জানিয়েছিলেন। অবশেষে সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এতদিন পর্যন্ত কমব্যাট রোলে জওয়ান হিসেবে শুধুমাত্র পুরুষেরাই থাকতেন। এবার সেখানে মহিলাদেরও নিয়োগ করা হবে।

২০১৫-তেই এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মলা সীতারামণ। স্থল, জল ও আকাশ- তিন বাহিনীতেই আতে মহিলাদের দক্ষতা প্রদর্শনের সুযোগ বাড়ে, সেই চেষ্টাই করছে মোদী সরকার। আর সেইজন্যই এই অভিনব সিদ্ধান্ত।

তথ্য বলছে, এখনও পর্যন্ত আর্মিতে রয়েছে ৩.০৮ শতাংশ মহিলা, এয়ার ফোর্সে ১৩.০৯ শতাংশ ও নৌবাহনীতে ৬ শতাংশ।

এর আগে গত বছরের স্বাধীনতা দিবসে বিশেষ ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মহিলা সেনা অফিসারদের পার্মানেন্ট কমিশনের অন্তর্ভুক্ত করে নেওয়ার কথা ঘোষণা করে তিনি। এতার আগে  পর্যন্ত তাঁরা শর্ট সার্ভিস কমিশনের আওতায় ছিলেন।

স্বাভাবিকভাবেই নরেন্দ্র মোদীর এই ঘোষণা সেনাবাহিনীতে মহিলাদের বিশেষ উৎসাহ যুগিয়েছে। ‘জাজ অ্যাডভোকেট জেনারেল ডিপার্টমেন্ট’, ‘আর্মি এডুকেশন কর্পস’-এর মত কয়েকটি ব্রাঞ্চেই মহিলাদের পার্মানেন্ট কমিশনের আওতায় আনা হয়েছিল আগে।

পার্মানেন্ট কমিশনের দাবি দীর্ঘদিন ধরেই সরকারকে জানিয়েছিল সেনাবাহিনী। গত আট বছরে কোনও দাবি মেনে নেওয়া হয়নি। এই সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রকে জানিয়েছিল, যাতে মহিলা অফিসারদের পার্মানেন্ট কমিশনের আওতায় নেওয়া হয়।

বিচারপতি রামানার বেঞ্চ বলেছিল, মহিলাদের শর্ট সার্ভিসে রেখে ও পার্মানেন্ট কমিশনের আওতায় না এনে সরকার সঠিক কাজ করছে না। এমনকী এয়ারফোর্স ও নেভি অফিসারদের ক্ষেত্রে বিষয়টি মেনে নেওয়া হলেও স্থলসেনার ক্ষেত্রে মানা হচ্ছিল না। এভাবেই মইলাদের স্বপ্ন সত্যি করতে একের পর এক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সেনাবাহিনীর জন্য।