তিরুঅনন্তপুরম: মহিলাদের মন্দিরে প্রবেশাধিকার দিলে সেটি আর পবিত্র স্থান থাকবে না, থাইল্যান্ডের মতো যৌন পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হবে৷ এমনই মন্তব্য কেরলের শবরীমালা মন্দিরের প্রধান পুরোহিত গোপালকৃষ্ণণের। তাঁর দাবি, আদালত এ ব্যাপারে নারীদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করলেও তারা মন্দিরে ঢোকার স্পর্ধা পাবে না।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার শবরীমালা মন্দিরে মহিলাদের প্রবেশাধিকার সংক্রান্ত মামলাটি তত্ত্বাবধানের জন্য ৫ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ গঠন করেছে সুপ্রিম কোর্ট৷ এরপরেই এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় এমন মন্তব্য গোপালকৃষ্ণণের। এর আগেও তিনি একাধিকবার এ ধরনের মন্তব্য করে বিতর্ক তৈরি করেন বলে জানা গিয়েছে।

গোপালকৃষ্ণণের দাবি, এটা এই মন্দিরের অনেক পুরনো প্রথা, একে সম্মান জানাতে সবাই বাধ্য। যদি কোনো কারনে এই ঐতিহ্যটি ভেঙে যায় তাহলে নানা অনর্থ ঘটতে পারে। সেখানে মহিলাদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠবে, তেমনই সেখানে নানা অনৈতিক কার্যকলাপ ঘটতে পারে। এমনকি মন্দিরটি যৌন পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হবে বলে মন্তব্য তাঁর৷

তবে এই মতের বিপক্ষে রাজ্য প্রশাসন৷ মন্তব্যের জন্য গোপালকৃষ্ণণের কড়া সমালোচনা করা হয়েছে৷ তিনি পূণ্যার্থী ও নারীদের অপমান করেছেন বলেও মত তাঁদের। ক্ষমা প্রার্থনা করে এই বক্তব্য তাঁর প্রত্যাহার করে নেওয়া উচিত৷ এই মন্দিরটি পূণ্যার্থী সমাগমের দিক থেকে বিশ্বের দ্বিতীয় বলে মনে করা হয়৷ তার আগে রয়েছে মুসলিমদের পবিত্র মক্কা নগরী।

মন্দিরের ভেতরে ১২ থেকে ৫০ বছরের নারীদের প্রবেশাধিকার দেওয়া হয় না। কারণ এসময় তাদের ঋতুচক্র চলার সম্ভাবনা থাকে। তবে এর থেকে বেশি বয়সী নারীদের ঢুকতে দেওয়া হয়। কারণ হিসেবে কথিত আছে, দেবতা আয়াপ্পন ব্রহ্মচারী বিবাহিত নন। তাই ওই মন্দিরে ঋতুস্রাবকালীন সময়ে কোনও নারীর প্রবেশ নিষেধ। তবে প্রবেশাধিকার দিতে কোনও নারীর ঋতুস্রাব চলছে কি না তা সনাক্তের জন্য অত্যাধুনিক যন্ত্রের দ্বারা ‘পবিত্রতা’ যাচাই করার পরিকল্পনা গ্রহণের প্রস্তাব করা হয়। নারীদের প্রতি মন্দির প্রধানের এমন অপমান জনক বক্তব্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে বিভিন্ন সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে।

এরআগে, শুক্রবার, সবরিমালা মন্দিরে মহিলারা প্রবেশের অধিকার পাবেন কি না তা ঠিক করার দায়িত্ব সাংবিধানিক বেঞ্চের বলে জানায় সুপ্রিম কোর্ট৷ গত বছর জানুয়ারিতে শীর্ষ আদালত এই নিষেধাজ্ঞার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে৷ সংবিধান অনুযায়ী,এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকতে পারে না। এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে আদালত মামলাটি পাঠিয়ে দেয় সাংবিধানিক বেঞ্চে। ১৯৯১ সালে এ বিষয়ে কেরল হাইকোর্ট মন্দিরের নিজস্ব অধিকারের পক্ষে রায় দেয়।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ