নয়াদিল্লি: এবার নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নামল দিল্লির মহিলারা। শনিবার রাতে দিল্লির জাফরাবাদ মেট্রো স্টেশনের বাইরে প্রচুর সংখ্যক মহিলা জড়ো হন। এবং পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন তাঁরা। ঘটনাস্থল ৬৬ নম্বর জাতীয় সড়ক। যা সোলামপুরকে মৌজপুর এবং যমুনা বিহারের সঙ্গে যুক্ত করেছে।

যদিও, সদ্য সমাপ্ত দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির শোচনীয় পরাজয়ের পরেও কোনও শিক্ষা নিতে রাজি নন এদেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কারণ, ফের সিএএ চালু করা হবে বলে জানিয়েছিলেন তিনি৷

এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা দাবি করে জানিয়েছেন যে, তাঁদের এই আন্দোলন এনআরসি এবং সিএএ’র বিরোধিতাকে আরও তীব্র করার একটি পদক্ষেপ ছিল। এছাড়াও তাঁরা এদিন দলিতদের জন্য সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন।

আন্দোলনকারীদের মধ্যে শাদাব নামে এক মহিলা বলেন, “প্রতিবাদ করার জন্য আমরা রাস্তা অবরোধ করেছি। এবং এই কঠোর আইন বাতিল না করা পর্যন্ত আমরা প্রতিবাদ বিক্ষোভ থেকে সরব না।”

এছাড়াও শনিবার রাতে জাফরাবাদ মেট্রো স্টেশনের বাইরে যখন মহিলাদের বিক্ষোভ চলছিল, সেই সময় দেখা যায়, সেখানে প্রচুর দিল্লি পুলিশ মোতায়েন থাকলেও ঘটনাস্থলে ছিল না কোনও মহিলা পুলিশ কর্মী।
ঠিক একই রকম দৃশ্য ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে দেখা গিয়েছিল। যখন, হাজার হাজার বিক্ষোভকারীরা প্ল্যাকার্ড এবং জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে সিএএ’র বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছিল। সেই সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে দিল্লির বেশ কয়েকটি মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল এবং সেখানে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছিল।

প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় সরকারের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনে বলা হয়েছে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান থেকে আগত, হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন, খ্রিস্টান এবং পার্সিদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। ফলে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) ঘিরে দেশজুড়ে বিক্ষোভ প্রতিবাদ দেখা গিয়েছে বহুবার। দেশজুড়ে অশান্তির আগুন জ্বলছে। সরকারের এই নীতি যে আম জনতার একটা বড় অংশ ভাল চোখে দেখছে না ফের তার প্রতিফলণ দেখা গেল এদিন।