জয়পুর: রাজস্থান রাজ্য মহিলা কমিশন ভারত-পাক অন্তর্রাষ্ট্রীয় সীমা সংলগ্ন জয়সলমীর জেলায় জিগোলোদের সংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে চিন্তা প্রকাশ করেছে৷ মহিলা কমিশন জানিয়েছে, বিদেশী পর্যটকদের কারণেই এই জেলায় জিগোলোর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে৷ তারা জানিয়েছে, দ্বাদশ শ্রেণীর এক ছাত্র জানিয়েছে দীর্ঘদিন ধরে তার যৌন শোষণ হয়ে চলেছে৷

রাজস্থান রাজ্য মহিলা কমিশনের অধ্যক্ষ লাড কুমারী জৈন জানিয়েছেন, মধুচক্রের হদিশ খুঁজতে কমিশনের একটি তদন্তকারী দল জয়সনমীর গেলে এক দ্বাদশ শ্রেণীর ছাতচ্র তার যৌন শোষণের কথা জানায়৷ যদিও ছাত্রকে হেনস্তাকারী বর্তমানে জেলে রয়েছে৷ তিনি আরও জানিয়েছেন, জয়সলমীরের এক কেল্লার উপরের এলাকায় বসবাসকারী এক সম্প্রদায়ের পুরুষ দীর্ঘদিন ধরে যৌনকর্মের সঙ্গে জড়িত রয়েছে৷ বিদেশী পর্যটকরাই এদেরে প্রধান খদ্দের৷ তিনি জানান, স্থানীয় বাসিন্দাদের থেকে খবর পয়েছেন নির্দিষ্ট এক সম্প্রদায়ের পুরুষ ও মহিলারা দেহব্যবসার সঙ্গে যুক্ত৷

মহিলাদের সঙ্গে জিগোলোদের সংখ্যাও এই এলাকায় দ্রুতগতিতে বেড়ে চলেছে৷ তিনি আরও জানান, যোধপুর, উদয়পুর, জয়সলমীরের কিছু হোটেল ও বাড়ি যৌনকর্মের জন্য চিহ্নিত করা রয়েছে৷ এই বিষয়ে স্থানীয় লোকারই মহিলা কমিশনের দলকে তথ্য দিয়েছে৷ তাঁর অভিযোগ, দেশে বেড়ে চলা পর্যটন, ভূমি ব্যবসা, ও উদ্যোগদের কারণেই দেহব্যবসা রমরমিয়ে বেড়ে চেলেছে৷ কিন্তু মহিলাদের পাশাপাশি পুরুষ যৌনকর্মীদের বাড়তি সংখ্যা অবশ্যই চিন্তার বিষয়৷

মহিলা কমিশনের অধ্যক্ষ জানিয়েছেন, গোটা রাজস্থান রাজ্য জুড়েই এই ধরণের অনৈতিক কার্যকলাপ চলছে৷ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় তদন্ত চালিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের থেকে বেশ কিছু তথ্য জোগাড় করেছে মহিলা কমিশন৷ রাজ্য মহিলা কমিশন খুব তাড়াতাড়ি এই বিষয়ক রিপোর্ট তৈরি করে কেন্দ্রীয় মহিলা কমিশন ও সম্বন্ধিত সংস্থাগুলিতে পাঠাবে৷

জয়পুরের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পদাধিকারী নিশা সিন্ধুও মহিলা যৌনকর্মীদের পাশাপাশি জিগোলোদের সংখ্যা বৃদ্ধির কথা স্বীকার করেছেন৷ তিনি জানিয়েছেন, তাদের সংগঠনের কাছেও পুরুষ যৌনকর্ম বিষয়ক প্রায় তিন থেকে চারটি মামলা এসেছে৷ কিন্তু এই বিশয়ে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হয়েছেন তারা৷