সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, হাওড়া : তিনি আগে কোথায় পা রাখবেন তা নিয়ে তখন ব্যাপক বিরোধ চলছে। হাওড়ার দুই অঞ্চলের নেতাদের মধ্যে। বাগনান আর উলুবেড়িয়ার মানুষের যেন ধারনাই হয়ে গিয়েছিল, যে মাটিতে তিনি আগে পা রাখবেন সেটাই হবে অধিক পুণ্য ভূমি। তিনি উলুধ্বনিতে প্রথম সভা করেন উলুবেড়িয়াতেই। সেদিন এক অবাক করা ঘটনা ঘটেছিল। বারবনিতারাও সুভাষের স্বাধীনতার লড়াইয়ে হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন।

তিনি বললেন , ‘Countrymen prepare for struggle’। মুহূর্তে তাঁর পায়ে আছড়ে পড়েছিল আবেগ ও ভালোবাসার জল। কারণ তিনি যে সবার প্রিয় সুভাষ। এগিয়ে এসেছিল বারবনিতারাও। সময়টা বিংশ শতাব্দীর তিনের দশক। সারা ভারত যখন স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে ঠিক সেই প্রেক্ষাপটে কংগ্রেসের নরমপন্থী ও চরমপন্থী গোষ্ঠীর মধ্যে বিভেদ প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। ক্রমাগত বিরোধে দল পদ ও দল ছেড়ে সুভাষ গঠন করলেন ‘ফরওয়ার্ড ব্লক’।

সুভাষের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বাংলার অগণিত মানুষ বিশেষত যুবসম্প্রদায় নাম ফরওয়ার্ড ব্লকের হয়ে স্বাধীনতার আন্দোলনে নামেন। এইসময়ে বাংলার ছাত্র-যুবকে স্বাধীনতার মন্ত্রে দীক্ষিত করতে সুভাষচন্দ্র বসু ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দের পয়লা মে পুরুলিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। যাত্রাপথে হাওড়ার উলুবেড়িয়ায় ছাত্র-যুব ও স্থানীয় নেতা নানু ঘোষের প্রচেষ্টায় নেতাজীকে গণ সম্বর্ধনায় সম্বর্ধিত করা হয়। ৪ মে সুভাষচন্দ্র বসু পা রাখেন উলুবেড়িয়ায়। স্বাধীনতা আন্দোলনকে আরও সুদৃঢ় করতে অর্থের প্রয়োজন ছিল। তাই স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এমনকি উলুবেড়িয়ায় বারবণিতারা নিজেদের উপার্জিত অর্থ নেতাজীকে দান করেছিলেন।

উলুবেড়িয়ার ওই সভার পরের দিন নেতাজী বাগনানে সভা করেন। বাগনানে নেতাজীর সভায় লাউডস্পিকার ব্যবহৃত হয়েছিল। বাগনানে এই প্রথম লাউডস্পিকার ব্যবহার হয় বলে বলা হয়। এভাবেই নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু গ্রামীণ হাওড়ার মানুষের মধ্যে স্বাধীন ভারতের সুপ্ত স্বপ্নকে জাগরিত করেন। সুভাষের পাদস্পর্শে ধন্য হয়ে উঠেছিল উলুবেড়িয়া ও বাগনানের মাটি।

ওই দুই সভা নিয়ে হিন্দুস্থান স্ট্যান্ডার্ডস ও আনন্দবাজার পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল। লেখা হয়েছিল ‘Hindustan Standard’এ ( ৪মে১৯৪০) বলা হয় ‘Public meeting at Bagnan, place- Maidan by th side of Bagnan Station, Date & Time-Sunday,the 5th May at 5-30 P.M. President–Sj Subhas Chandra Bose. Loud speakers and special arrangement for ladies will be
made in both metings.’