স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: দমদম রেল কলোনিতে রেল পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে চোলাইয়ের ঠেক ভাঙলেন মহিলারা৷ দীর্ঘদিন ধরেই দমদমে রেল লাইনের ধারে রমরমিয়ে চলছিল বেশ কয়েকটি মদ গাঁজার ঠেক। সেই ঠেক থেকে অনবরত কটুক্তি ভেসে আসত স্থানীয় মহিলাদের উদ্দেশ্যে। বাদ পড়তেন না পথচলতি মানুষ এবং ট্রেনের যাত্রীরা। দীর্ঘদিন ধরে এমনই অভিযোগ উঠছে দমদম রেল কলোনির স্থানীয় মদ্যপ যুবকদের বিরুদ্ধে।

রবিবার মদ্যপদের আচারনের প্রতিবাদ জানিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা দমদম রেল কলোনির অবৈধ মদের ঠেক গুলিতে ভাঙচুর চালান। আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় একাধিক মদের ঠেকে। বেদিয়াপাড়া এলাকার একটি মদের ঠেকে নেশা করার সময় সনু রাজবংশী নামে এক যুবককে আটক করে দমদম রেল পুলিশ।

দীর্ঘদিন ধরেই দমদম রেল কলোনির স্থানীয় মদ্যপ যুবকদের বিরুদ্ধে দমদম মেনলাইন এবং বনগাঁ শাখায় রেল লাইনের ধারে দমদম জংশন থেকে ক্যান্টনমেন্ট অবধি মদ, গাজার ঠেক চালানোর অভিযোগ উঠেছিল। রবিবার দমদম পুরসভার স্থানীয় পুরপ্রতিনিধি গোপা পান্ডে, দমদম জিআরপি, দমদম থানার পুলিশ এবং এলাকার মহিলাদের সঙ্গে নিয়ে বেআইনি মদের ঠেকগুলি ভাঙতে শুরু করেন।

অভিযান চলাকালীনই দেখা যায় কয়েক পা দূরে দূরে একের পর এক মদের ঠেক রয়েছে এবং তাতে রীতিমতো শীতের সকালে জমিয়ে চলছে গাঁজার সুখটান এবং অবৈধ চোলাই মদের আসর। পুলিশ এবং মহিলারা ওই ঠেকে বসা মদ্যপদের তাড়া করতেই অনেকে পালিয়ে যায়। ক্ষুব্ধ স্থানীয় গৃহবধূ জানালেন, রেল লাইনের অদূরে রয়েছে মহিলাদের স্নানঘর। মহিলারা স্নান করতে গেলেই তাদের উদ্দেশ্য করে ভেসে আসে কটুক্তি। মহিলারা প্রতিবাদ করলে অশ্রাব্য গালিগালাজ করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে এই অবস্থায় অসহনীয় পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে বাচ্চারা কি শিখবে? প্রশ্ন তার৷

যিনি মহিলাদের সংগঠিত করে এই অভিযানে নামেন, সেই পুর প্রতিনিধি গোপা পান্ডে বলেন, “অনেকদিন ধরেই আমরা খবর পাচ্ছিলাম চোলাইয়ের আসর থেকে পথ চলতি স্থানীয় মহিলাদের কটুক্তি করা হচ্ছে। পথচলতি মানুষদের এমনকি রেলযাত্রীদেরও আক্রমণ করা হচ্ছে, খবর পেয়ে আমরা ঠিক করি এলাকার পরিবেশ ঠিক রাখতে অভিযানে নামতে হবে। এরপরেই আমরা মহিলা পুলিশ প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে অভিযানে নামি এবং আমরা এই ধরনের অভিযান আগামীদিনে নিয়মিত চালিয়ে যাব।”