নয়াদিল্লি: শুনানির মাঝপথে নিজেই সরে দাঁড়ালেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ দায়ের করা মহিলা৷ তদন্তের গতিপ্রকৃতি দেখে খুশি নন তিনি৷ এই বিচার পক্রিয়ায় ন্যায় মেলার সম্ভাবনা কম৷ সেই অভিযোগ করেই মঙ্গলবার শুনানির মাঝপথেই নিজেকে সরিয়ে নিলেন দেশের শীর্ষ আদালতের প্রাক্তন ওই কর্মী৷

এদিন সংবাদ মাধ্যমে বিবৃতি দেন অভিযোগকারিনী৷ তাঁর আশঙ্কা, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে তাঁর অভিযোগের সঠিক বিচার পাবেন না৷ তিনি জানান, ‘‘আমার মনে হয় আমি বিচারকদের এই বেঞ্চের কাছে সঠিক বিচার পাবো না। তাই আমি আর এই বিচারকদের সামনে শুনানিতে হাজির হবো না। আমি এই শুনানি থেকে সরে দাঁড়ালাম৷’’

আরও পড়ুন: ‘‘বাঁচাবে না আগ্নিদগ্ধ ফাইল’’, মোদীকে হুঁশিয়ারি রাহুলের

বিবৃতিতে তাঁর সংযোজন, ‘‘তদন্ত চলাকালীন বিচারপতিদের বেঞ্চের পরিবেশ ভয়াবহ ছিল। বিচারপতিরা আমার আইনজীবীর অনুপস্থিতিতে আমাকে এমন সব প্রশ্ন করতেন, যাতে আমি অবাক হয়ে যেতাম। এমনকী এই শুনানি প্রক্রিয়ার কোনও অডিয়ো বা ভিডিয়ো রেকর্ডিংও করা হয়নি। এমনকী আমার বক্তব্যের কোনও কপিও দেওয়া হয়নি। তাই শুনানি থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি।’’

বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগের প্রেক্ষিতে গঠিত হয় তিন সদস্যের বেঞ্চ৷ প্রথমে এই বেঞ্চের মধ্যে বিচারপতি এনভি রামানা ছিলেন। অভিযোগকারিনী দাবি করেন, বিতারপতি রামানা প্রধান বিচারপতির পারিবারিক বন্ধু। তারপরই সরে দাঁড়ান তিনি। পরে বিচারপতি এস এ বোবডে, বিচারপতি ইন্দু মলহোত্র ও বিচারপতি ইন্দিরা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি শুরু হয়৷

আরও পড়ুন: মোদীকে বিবেকানন্দ পড়ার নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

দিন দশেক আগে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচাপতি রঞ্জন গগৈয়ের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ করেন এক মহিলা। অভিযোগকারিনী শার্ষ আদালতেরই প্রাক্তন মহিলা কর্মী৷ সুপ্রিম কোর্টের একাধিক বিচারপতির কাছে হলফনামা দিয়ে অভিযোগ জানান ওই মহিলা৷ ফলে দেশের বিচার ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে৷

অভিযোগের পরপরই তাঁর বিরুদ্ধে এঠা সব অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেন রঞ্জন গগৈ৷ অভিযোগকারিনীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি দুটি মামলা চলছে বলেও অভিযোগ করেন গগৈ। সম্পূর্ণ বিষয়টিকে ‘ষড়যন্ত্র’ বলে জানান তিনি৷ শুনানি প্রদান বিচারপতি জানান, ‘‘এই ধরণের অভিযোগের বিরুদ্ধে জবাব দিতে গিয়ে আমি নীচে নামতে পারব না। এটা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। এর পিছনে আরও কোনও বড় শক্তি রয়েছে। তারা চাইছে দেশের প্রধান বিচারপতির ক্ষমতা কমিয়ে ফেলতে।’’

প্রধান বিতারপতি আশঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছিলেন, বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি প্রভাবিত করতেই এই অভিযোগ আনা হয়েছে৷ নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের লক্ষ্যে তাঁর অ্যাকাউন্টের সব নথিও আদালতে জমা করেন প্রদান বিচারপতি৷