ঢাকা: আমার বুক, পিঠ, যৌনাঙ্গতে ক্রমাগত সিগারেটের ছ্যাঁকা দিয়েছে। বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়লেন বাংলাদেশি মহিলা। তিনি সৌদি আরবে গৃহকর্মের জন্য কাজে গিয়েছিলেন।

সৌদি আরবে কাজে যাওয়ার পর ভয়াবহ অত্যাচারের বর্ণনা দিয়েছেন এই বাংলাদেশি মহিলা। তিনি বিধ্বস্ত অবস্থায় আরব থেকে ফিরেছেন। বাড়ি মৌলভীবাজারে। তাঁর চিকিৎসা শুরু হয়েছে।

মহিলার বয়ান ও তাঁর দেহের সর্বত্র সিগারেটের ছ্যাঁকা দেখে শিউরে গিয়েছেন আত্মীয় ও চিকিৎসকরা। মানসিকভাবে প্রবল ভেঙে পড়েছেন তিনি। এমনই জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তাঁর শারীরিক চিকিৎসার পাশাপাশি কাউন্সেলিংয়েরও দরকার বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে বিতর্ক আরও প্রবল, নির্যাতিতাতে যে হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছিল, সেখানে টাকার অভাব থাকায় পূর্ণ চিকিৎসা হয়নি। তবে চিকিৎসকরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছেন বলেই জানা গিয়েছে। ওই হাসপাতালের চিকিৎসক সাধন চন্দ্র ঘোষ জানান, মাঝে মাঝে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন ওই মহিলা। তখন অসংলগ্ন কথা বলছেন। তাঁর দ্রুত আরও চিকিৎসার দরকার।

এক দালালের পাল্লায় পড়ে বেশি রোজগারের আশায় সৌদি আরব গিয়েছেন কমলগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা এই মহিলা। তিনি আরবে পৌঁছে চরম প্রতিকুল পরিবেশে পড়েন। অভিযোগ, তাঁকে বাড়ির কাজের জন্য নিযুক্ত করার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু রীতিমতো যৌন নির্যাতন করা হত।

তাঁর অবস্থার কথা ছড়িয়ে পড়তে বাংলাদেশে শোরগোল পড়ে। অবশেষে গত ২৬ নভেম্বর সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরেন তিনি। এদিকে বিতর্ক বাধে, যখন অসুস্থ মহিলার চিকিৎসা শুরু হয়।

হাসপাতাল সূত্রে বলা হয়, সৌদি আরবে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তিনি। ওই তরুণীর মেয়েটার যৌনাঙ্গসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় পোড়া ও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে ক্ষতগুলো সারতে সময় লাগবে।

ওই মহিলার অভিযোগ, সৌদি আরবের দাম্মামে একটি বাড়ির কাজের লোক হিসেবে নিযুক্ত করার কথা বলা হয়। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর এক পর্যায়ে জানতে পারি, চার লক্ষ টাকায় আমাকে যৌনকর্মী হিসেবে বিক্রি করা হয়েছে।

আরও অভিযোগ, একটি অফিসে রেখে প্রতিদিন কয়েকজন পালাক্রমে ধর্ষণ করত। দলবেঁধে ৪-৫ জন মিলে ধর্ষণ করত, তখন জ্ঞান হারিয়ে ফেলতাম।

এক পর্যায়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন বাংলাদেশি মহিলা। তখন তাকে উদ্ধার করে সৌদি আরবের পুলিশ। সেখানকার হাসপাতালে ভরতি করা হয়। সেই অবস্থায় গোপনে নিজের অবস্থা ও যৌন নির্যাতন হওয়ার ছবি বাংলাদেশে পাঠান। এর পরেই শুরু হয় শোরগোল।

নির্যাতিতার স্বামী সরাসরি যোগাযোগ করেন দালালদের সঙ্গে। তারা বিষয়টিকে চাপা দিতে চেষ্টা করে। অবশেষে পুলিশে খবর দেওয়ার কথা বলতেই, দালালরা পাল্টা দাবি করে, ওই মহিলা যে বাড়িতে কাজ পেয়েছিলেন, সেখান থেকে টাকা চুরি করে পালিয়েছে।

সন্দেহ হওয়ায় প্রশাসনিক উদ্যোগে কোনরকমে সৌদি আরব থেকে যৌন নির্যাতিতা মহিলাকে ফেরত আনা হয়।

পপ্রশ্ন অনেক: নবম পর্ব

Tree-bute: আমফানের তাণ্ডবের পর কলকাতা শহরে শতাধিক গাছ বাঁচাল যারা